সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় এক একটা খুন থাকে সমুদ্রে দলবেঁধে বেড়াতে যায় লোকে সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তবু প্রত্যেকে অসামান্য একা হয়ে যায় “ওশেনিক টিউলিপ” রিসর্টের মাথায় চাঁদ ওঠে, ঝাউবনে জেগে ওঠে অজানা মাছের কঙ্কাল লোনাজল, লং ড্রাইভ, লোনা ঠোঁটের দিন শেষ হয়ে আসে, বালিতে পড়ে থাকে বিষণ্ণ ভদকা ও গোলাপি চটির …
আরও পড়ুন »সৌম্যজিৎ আচার্য-এর কবিতা
সৌম্যজিৎ আচার্য এখানে কোনও বাধানিষেধ নেই প্রতি ছাদে মেলা আছে লোক প্রতিটা জানলায় ঝুলছে তরুণীরা তুমি চাইলে যাকে ইচ্ছে বেছে নিতে পারো এ শহরে কোনও বাধানিষেধ নেই এখানে বাড়ির দালানে বয়স্কদের গমের মতো শুকতে দিয়েছে কেউ তাদের কাছে গল্পের জন্য যাও এ গাছ থেকে অন্য গাছে চলে গেছে তার …
আরও পড়ুন »সুমন মল্লিকের কবিতা
সুমন মল্লিক স্বপ্নভঙ্গ কীভাবে কুরে কুরে খায় বুকের মাটি ফুলে ওঠে অভিমানে, কিছুটা ঘোরতর অনুশোচনায় ৷ কেউ নয়, শুধু অঙ্গ জানে স্বপ্নভঙ্গ কীভাবে কুরে কুরে খায় ৷ রাতের সংসার এলোমেলো, দিনে তরীখানি টেনে উপভোগ করি না কিছুই, অধর্মে পালন করি ভিখু মনের উপবাস– কখনও কখনও নিমেষে আলো হয়ে দেখা …
আরও পড়ুন »সুদীপ্ত দাশের কবিতা
সুদীপ্ত দাশ মেঘ আর ওষ্ঠ বাগিচা প্রতিরাতের মতো আজকেও বেঁচে ফেরা। অথচ না ফিরলেও চলতো! এভাবে মরা সাহেবের মতো মরে-বেঁচে কার ভালো লাগে? কে চায় নিজেকে ছেড়ে আমাকে বাঁচাতে! অথচ ঘুমের সময় হলে আমাকেই প্রতিরাতে ভাবে। যে কোনও জোনাকি জোছ্না আর কতদিন ভালো লাগে ? পশম খোলসে মোড়া প্রতিটা …
আরও পড়ুন »দু’টি কবিতা, দেবরাজ চক্রবর্তী
দেবরাজ চক্রবর্তী অজাতক ধুলো মেখে দাঁড়িয়েছে ক্ষমাহীন প্রাণ বীরের হাতের থেকে অস্ত্র খসে পড়ে শিয়রে শমন নিয়ে ঘুম ভাঙে ভোর প্রতিবাদ ছুটে আসে নগরে নগরে নিরুপায় জননীর কলঙ্কবোধ ভাসিয়েছে সন্তান অন্তহীন দেশে পুরাকাল থেকে বীর মার নিয়ে ঘোরে কখনো দেবতা আসে ব্রাহ্মণের বেশে। প্লাবন সভ্যতা দুলে ওঠে পৃথিবীর …
আরও পড়ুন »কমলেন্দু সরকারের কবিতা
কমলেন্দু সরকার অন্ধকারের বীজ অন্ধকারের বীজ, ছেঁড়া চাদরে লেগে মোহিনী আড়াল করেছে নির্জন বিষ চারিদিকে ফ্যাকাশে রঙের চোরাগলি পেরিয়ে হেঁটেছি আগুনে রাস্তায়। সিঁড়ি থেকে গড়িয়ে যেতে দেখেছি আপেল দেখেছি ঢেউ। রোদ বৃষ্টি সঙ্গে নিয়ে হেঁটেছি ভালবাসার গন্ধে শালিক উড়ে গ্যাছে খিদের ভিতর চিত হওয়া স্বপ্নের ভিতর। জোনাক পোকা লেগেছে চাঁদের …
আরও পড়ুন »বিভাস রায়চৌধুরীর কবিতা
বিভাস রায়চৌধুরী ভালবাসা একজন-দু’জন করে অন্ধকারে মিশে যাও… যেন কেউ জানতে না পারে! # পৃথিবীতে ভালবাসা নেই পৃথিবীতে ভালবাসা নেই # —এই কথা আমরা মানি না! # লুকিয়ে পড়ি গে, চলো, চুম্বনের বাদামপাহাড়ে…
আরও পড়ুন »তীর্থঙ্কর মৈত্র-এর কবিতা
তীর্থঙ্কর মৈত্র আমার আলো যে তুমি, রানু ।।১।। রানু, ফাল্গুন এসেছে ফের! কত পাতা ঝরে আছে, নতুন পাতায় ভরা ডালে এখনও দুই একটি পাতা থেকে গেছে ,তারা চুপি চুপি ঝরে পড়ে হাওয়া লেগে । নীচে গাছতলা ভরা পাতা । ওরাও মিশছে তাদের দলে । দুপুরের অবসরে বসে ঝুলবারান্দায়—দেখি এই …
আরও পড়ুন »অণুগল্প, উত্তম বিশ্বাস
উত্তম বিশ্বাস কুণ্ডহাঁড়ি এবং একজন কাপুরুষের গল্প বাড়ি থেকে দু’কদম এগোলেই দুর্গাদালান। আজ অষ্টমী। সারা সন্ধ্যা ধরে সাজগোজ করল পূর্বা। কিন্তু শৌনক প্যাণ্ডেলে যাবে না। রেশমের পাজামাটা দু’ দুবার জানু অবধি উঠিয়েও খসিয়ে ফেলল সে। গায়েত্রী দেবী প্রদীপ হাতে শৌনকদের শোবার ঘরে ঢুকে পড়লেন। উনি শৌনকের মা। কাঁচে ঢাকা …
আরও পড়ুন »আলো, মধুমঙ্গল বিশ্বাসের অণুগল্প
মধুমঙ্গল বিশ্বাস আলো সারাক্ষণ শুয়েই থাকে। অথবা বলা যেতে পারে বিশ্রামে থাকে। মাঝেমধ্যে একটু নড়াচড়া। টুকটাক, খুচরো জাগরণ ঘটে বোধহয়। বেশ হিলহিলে। লকলকে। যখন জাগে, খ্যাপা দামোদর। মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের কর্মী হারাধন। অফিসে সবাই তাকে বাবু বলে সম্বোধন করে, আড়ালে পাগল বলে তারিফ করে। কাজপাগল। সারাদিন শুধু কাজ আর …
আরও পড়ুন »রিটেক, বিশ্বদীপ দে-এর অণুগল্প
বিশ্বদীপ দে রিটেক মেট্রোর অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সিটে বসে মেয়েটা কাঁদছে। নিঃশব্দে কুঁকড়ে যাচ্ছে ফরসা মিষ্টি মুখটা। স্টেশনে পায়চারি করছিলাম। চোখ টেনে নিয়েছিল দৃশ্যটা। দুপুর আড়াইটের ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম। ওড়নাটাকে সামান্য টেনে কান্নাটাকে গোপন করতে চাইছে মেয়েটা। কোলের ওপরে রাখা স্মার্টফোনে টপটপ করে চোখের জল পড়ছে। আমি দুটো সিট ছেড়ে বসলাম। …
আরও পড়ুন »কবিতাগুচ্ছ, সুব্রত রায়চৌধুরী
সুব্রত রায়চৌধুরী ঈশ্বর সন্ধ্যার এক কোণে কুপি আড়ালে উনুন। এখানে কাঠ, ঘুঁটে, কেরোসিন তিন দিন আগুন জ্বলেনি। সন্ধ্যার এক কোণে কুপি আগুন জ্বালাবার ঈশ্বর ঘুমিয়েছে সেইখানে। তর্পণ এই কার্তিকের উঠোনে একা শুয়ে আছো। পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে শেষ চরণামৃত ঝরে পড়ছে মাটিতে। অগ্নিস্নানে চলে গেলে তুমি… সেই থেকে কুশ …
আরও পড়ুন »কুয়াশা, সুব্রত সেন-এর গল্প
সুব্রত সেন কুয়াশা কুয়াশাটা যে বেশ জমিয়ে নামছে সেটা খেয়াল করেনি জিৎ। খোলা আকাশের তলায় পার্টি, বছর শেষ হওয়ার আনন্দে সকলে নাচে-গানে মশগুল, সকলের হাতে হাতে মদের গ্লাস। হই হই করে বাজি ফাটিয়ে বর্ষবরণ, সেই সঙ্গে আরেকপ্রস্ত উল্লাসের জোয়ার। জিৎ জানে নতুন বছরে পদার্পণ করার কিছুক্ষণ পর থেকেই পার্টিতে …
আরও পড়ুন »গল্প, মিহির সরকার
মিহির সরকার: দিন যায় মৃত্যু—অরণ্যের ডাকে যখন গুছিয়ে কিছুই লিখতে পারি না তখন কোনো এক কাল্পনিক নারীকে চিঠি লিখি। এই করতে করতে এক সময় একটা – দু’টো কবিতা লিখে ফেলি। গত রোববার একটা কবিতা চার লাইন লেখার পর আর লিখতে পারছিলাম না। তখন লিখলাম, গতকাল অফিস যাওয়ার পথে বাসে এক …
আরও পড়ুন »চশমা, বিতান চক্রবর্তীর অণুগল্প
বিতান চক্রবর্তী চশমা এরপর রাস্তা এখানেই শেষ। এটা ব্লাইন্ড লেন। এই যে ডানদিকের বাড়িটা, এটা সমীরদার। এই গলিতে ঢোকার কথা নয় সিদ্ধার্থর। মেইন রাস্তা থেকে এই গলিটা ছেড়ে আরও তিনটে গলি পেরিয়ে চতুর্থ গলিতে ঢুকে বাঁদিকের তৃতীয় বাড়িটা সিদ্ধার্থদের। তিরিশ বছরের বাড়ি ওদের৷ এমনকী ওর ভালো নামও বেশিরভাগ পাড়ার …
আরও পড়ুন »স্বপন রায়ের কবিতা
স্বপন রায় উদাসীন মল্ট পাঁজর ফুঁড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে, বুলেটবেগানা কোথায় যায় রোদ সরোদ অব্দি যায়, নাকি সামান্য স্রোত চোখের যেখানে কুহকমেশা চা নির্ভারচিত মেয়েটির হাতে তুচ্ছ বারুদ পাঁজর খুলছে ঘি ঘি টিশার্ট সয়ে যাওয়া ফুল বয়ে যাওয়া নদীর তাকে ভাসবে যখন বুলেটও আর্দ্র হল ফুঁড়ে যাওয়া কী অবাক ফুটে …
আরও পড়ুন »
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news