তীর্থঙ্কর মৈত্র
আমার আলো যে তুমি, রানু
।।১।।
রানু, ফাল্গুন এসেছে ফের! কত পাতা ঝরে আছে,
নতুন পাতায় ভরা ডালে এখনও দুই একটি পাতা
থেকে গেছে ,তারা চুপি চুপি ঝরে পড়ে হাওয়া লেগে ।
নীচে গাছতলা ভরা পাতা । ওরাও মিশছে তাদের দলে ।
দুপুরের অবসরে বসে ঝুলবারান্দায়—দেখি
এই দৃশ্য; আমার হাতের, সিগারেট ধোঁয়া উড়ে
মিশছে হাওয়ায় ধীরে—যেমন তুমিও ধীরে
তোমার সংসারে আর আমি আমার সংসারে …
তবু নীরব ধোঁয়ার মতো স্মৃতি উড়ে ফেরে মনে!
ঝরাপাতার মত যেন মন থেকে ঝরে প্রেম
মিশেছে তোমারই ভেতরের জেগে থাকা মা-টিতেই।
।।২।।
রানু, ছাদের টবেতে ফের গোলাপ ফুটেছে চৈত্রে ।
দেখি, টবের মাটিতে, বুনো লতা ,ঘাস ,নানা
গাছ জন্মে আছে তাতে। বহুবার পরিষ্কার
করে মাটি, সার দিয়ে গাছ পরিচর্যা করি—
তবুও ওই সব গাছ ফের জন্মে টবের মাটিতে।
মাটিতে মিশে আছে এই সব বীজ আর
তার থেকে জন্ম পায় এই সব? মাটি জন্মদাত্রী
রানু ,তুমি সেই মা-টি—তুমিই তো গোলাপটি
ফুটিয়েছো প্রেমিকের টবে; আমি শুধু পরিচর্যাকারি।
।।৩।।
ফাল্গুন যে চলে গেছে! নির্জন দুপুর বেলায়
পবিত্র গোলাপের মত জেগে আছো তুমি রানু ,
আমার ভেতরে যেন! আমি তার গন্ধ পাই;
রৌদ্র আড়াল হওয়া এই দিনের ছায়ায়।
আশ্চর্য মৌনতা নিয়ে আমার ভেতরে আছো !
উজ্জ্বল আলোয় দেখা রঙিন প্রতিমা তুমি ;
ষাটে এসে, এই ভাবে, তোমাকে যে পাই।
বাইরে নিঃশব্দ গাছ, হেলে পড়া সূর্যের আলো
পড়ে আছে উঁচু ডালে —মুগ্ধ নতুন পাতায়।
আমার আলো যে তুমি ,আমি সেই পাতার মতো!
।।৪।।
উজ্জ্বল এরোদে ওড়ে বিমান কোথাও যেন;
তাকে তো দেখি না রানু—তবু শব্দ শুনি তার…
বিমানের প্রতিমা জাগে—তুমি দূরে, এইভাবে
আমার ভেতরে আসো; চুপি আলো নিয়ে মনে!
শরীরের চাহিদা তো নেই—তবু কোথাও যেন কিছু
রয়ে গেছে। সে কি প্রেম? তবে প্রেম শেষ হয় না তো!
চিরদিন সে তো—রোদ হয়ে, আলো হয়ে, রয়ে যায় ।
এখন শব্দ নেই বিমানের—তবু বিমান রয়ে গেছে মনে;
মেঘহীন নীল শূন্য। রানু, তুমি এইভাবে রয়ে গেছো;
যেমন তীর্থের দেবী থাকে, তীর্থফেরা মানুষের মনে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news