Breaking News

গল্প

ধারাবাহিক কাহিনি, ‘কাশীনাথ বামুন’, আজ শেষ পর্ব

 সৌমিককান্তি ঘোষ গত সংখ্যার পর… তার ভরন্ত ফরসা মুখে দীঘল কালো চোখ, বাঁ ঠোঁটের নীচে কালো তিল। তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে নেয় কাশীনাথ। ঘটি নিয়ে আলগোছে জল খেয়ে বাঁ হাতের চেটো বুকের উপর রেখে হাঁফ ছাড়ে নাসিফা। ডুকরে উঠে বলে, “আব্বু আমাকে আর ঘরে তুলবেনি, জাহান্নামে বাস হবে গো আমার।” আবার …

আরও পড়ুন »

ধারাবাহিক কাহিনি, ‘কাশীনাথ বামুন’

 সৌমিককান্তি ঘোষ   কাশীনাথ বামুন গত সংখ্যার পর—   ২ “ঠাকুর এসেছে গো” উঠোন থেকে সদানন্দের বউ হাঁক দেয়, “টিনের দোরে আসনটা দাও, বসুক ওখানে, আমি আসছি”, মাথায় কাপড় দিয়ে ঘর সংলগ্ন টিনের ছাউনির তলায় আসন বিছিয়ে দেয় সদানন্দের বৌ। “ঠাকুর এইখানে বসুন, ও আসছে,” ধুতির কোঁচা সামলে কাশীনাথ মুখে …

আরও পড়ুন »

ধারাবাহিক কাহিনি, ‘কাশীনাথ বামুন’

 সৌমিককান্তি ঘোষ   কাশীনাথ বামুন কাশীনাথ দরজা খুলতেই পশ্চিমের পড়ন্ত আলোয় মায়ের মুখটা চিক্ চিক্ করে উঠলো। “কী রে বেটি তোর রাগ হয়েছে নাকি? সকালে আসতে পারিনি,, শরীরটা ভালো নেই, ঠিক যুত পাচ্ছি না।” নিজের মনেই বিড়বিড় করতে থাকে কাশীনাথ। চাবি যুদ্ধ তালাটা ভিতরের জানলার নিচে রাখে। হাঁটুতে চাপ দিয়ে …

আরও পড়ুন »

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্য গল্প, দ্বারকানাথের মেজদাদু

 দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:   দ্বারকানাথের মেজদাদু দ্বারকানাথ ভূতে বিশ্বাস করেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস আবার কী? এ তো উপলব্ধি। উপলব্ধিটাই আসল।’ তবে দ্বারকানাথ ভূত-প্রেত সম্পর্কে যা বলেন তা কেবল উপলব্ধি বা অনুমানেই আটকে নেই। বরং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা! তিনি নিঃসন্দেহ যে তিনি আত্মা দেখতে পান। এই বিষয়ে তাঁর বলার ধরনটাও …

আরও পড়ুন »

তামাকপাতার দেঁজাভু সম্মাননা

 সীমিতা মুখোপাধ্যায়: হরেন দে ওরফে এবং হৃদয় এখন একজন মস্ত বড় কবি। তো দীর্ঘদিন কবিগিরি করার পর এবং হৃদয়ের মনে হল এবার একটা কাগজ (লিটিল ম্যাগাজিন) না করলে ঠিক মান থাকছে না। লিটিল ম্যাগাজিন করতে হলে সবার আগে চাই একটা যুৎসই নাম। কিছুদিন আগে হলেও এ-ব্যাপারে পাড়ার বাবলু বোসের শরণাপন্ন …

আরও পড়ুন »

বামেশ্বরের সেকেন্ড ম্যারেজ

 নীলার্ণব চক্রবর্তী রোজই দ্বিপ্রহরে ঝিলে স্নান করতে যান বামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পিছন পিছন ধাওয়া করে তিনটে মেয়ে চোর। বামেশ্বরের বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। কিন্তু তার রূপে চোখ ধাঁধিয়ে ওঠে সব বয়সের রমণীরই। ফর্সা টুকটুকে তার রং। শরীরের পেশীগুলিতে এতটুকু শিথিলতার চিহ্ন নেই। আবার বেশি বেশি পেশীও নয়, যেখানে যতটুকু দরকার, …

আরও পড়ুন »

লাল ডায়রি, দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প

 দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় লাল ডায়রি  অফিসে পৌঁছে রিসেপসনে রোজই খানিকটা সময় কাটায় মেঘ। রিসেপসনিস্ট রায়না, ওর সঙ্গে গল্প করে। রায়না মেয়েটি সুন্দরী। এক ধরনের পবিত্র সৌন্দর্য আছে ওর চেহারায়। মেঘ যা করে, সেটাকে গল্প না বলে ফ্লার্টও বলা যায়। রায়না বিষয়টা ভালোই বোঝে। তবে ও জানে, মেঘের ওই পর্যন্তই। এমনিতে সে …

আরও পড়ুন »

হলুদ বসন্ত, তন্ময় কোলের গল্প

 তন্ময় কোলে   হলুদ বসন্ত ট্রেন ছুটছে। দৃশ্য গুলো পাল্টে যাচ্ছে প্রতি মূহুর্তে। পাশে বসে শেলি চঞ্চল হাতে তৃষানুর হাত ধরে।শেলির কানে হেডফোন।হেডফোনে চলছে মর্ডান গান। শেলির অনুরোধেই দ্বিতীয় বার বসন্ত উৎসবে যাচ্ছে তৃষানু। বসন্ত উৎসব! তৃষানুর কাছে বসন্ত উৎসব মানে মিতালি, গুঞ্জা, হলুদ শাড়ি, খোঁপায় পলাশ, “ওরে গৃহবাসী খোল …

আরও পড়ুন »

অণুগল্প, উত্তম বিশ্বাস

 উত্তম বিশ্বাস   কুণ্ডহাঁড়ি এবং একজন কাপুরুষের গল্প বাড়ি থেকে দু’কদম এগোলেই দুর্গাদালান। আজ অষ্টমী। সারা সন্ধ্যা ধরে সাজগোজ করল পূর্বা। কিন্তু শৌনক প্যাণ্ডেলে যাবে না। রেশমের পাজামাটা দু’ দুবার জানু অবধি উঠিয়েও খসিয়ে ফেলল সে। গায়েত্রী দেবী প্রদীপ হাতে শৌনকদের শোবার ঘরে ঢুকে পড়লেন। উনি শৌনকের মা। কাঁচে ঢাকা …

আরও পড়ুন »

আলো, মধুমঙ্গল বিশ্বাসের অণুগল্প

 মধুমঙ্গল বিশ্বাস   আলো সারাক্ষণ শুয়েই থাকে। অথবা বলা যেতে পারে বিশ্রামে থাকে। মাঝেমধ্যে একটু নড়াচড়া। টুকটাক, খুচরো জাগরণ ঘটে বোধহয়। বেশ হিলহিলে। লকলকে। যখন জাগে, খ্যাপা দামোদর। মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের কর্মী হারাধন। অফিসে সবাই তাকে বাবু বলে সম্বোধন করে, আড়ালে পাগল বলে তারিফ করে। কাজপাগল। সারাদিন শুধু কাজ আর …

আরও পড়ুন »

রিটেক, বিশ্বদীপ দে-এর অণুগল্প

 বিশ্বদীপ দে   রিটেক মেট্রোর অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সিটে বসে মেয়েটা কাঁদছে। নিঃশব্দে কুঁকড়ে যাচ্ছে ফরসা মিষ্টি মুখটা। স্টেশনে পায়চারি করছিলাম। চোখ টেনে নিয়েছিল দৃশ্যটা। দুপুর আড়াইটের ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম। ওড়নাটাকে সামান্য টেনে কান্নাটাকে গোপন করতে চাইছে মেয়েটা। কোলের ওপরে রাখা স্মার্টফোনে টপটপ করে চোখের জল পড়ছে। আমি দুটো সিট ছেড়ে বসলাম। …

আরও পড়ুন »

কুয়াশা, সুব্রত সেন-এর গল্প

 সুব্রত সেন   কুয়াশা কুয়াশাটা যে বেশ জমিয়ে নামছে সেটা খেয়াল করেনি জিৎ। খোলা আকাশের তলায় পার্টি, বছর শেষ হওয়ার আনন্দে সকলে নাচে-গানে মশগুল, সকলের হাতে হাতে মদের গ্লাস। হই হই করে বাজি ফাটিয়ে বর্ষবরণ, সেই সঙ্গে আরেকপ্রস্ত উল্লাসের জোয়ার। জিৎ জানে নতুন বছরে পদার্পণ করার কিছুক্ষণ পর থেকেই পার্টিতে …

আরও পড়ুন »

গল্প, মিহির সরকার

 মিহির সরকার: দিন যায় মৃত্যু—অরণ্যের ডাকে যখন গুছিয়ে কিছুই লিখতে পারি না তখন কোনো এক কাল্পনিক নারীকে চিঠি লিখি। এই করতে করতে এক সময় একটা – দু’টো কবিতা লিখে ফেলি। গত রোববার একটা কবিতা চার লাইন লেখার পর আর লিখতে পারছিলাম না। তখন লিখলাম, গতকাল অফিস যাওয়ার পথে বাসে এক …

আরও পড়ুন »

চশমা, বিতান চক্রবর্তীর অণুগল্প

 বিতান চক্রবর্তী চশমা   এরপর রাস্তা এখানেই শেষ। এটা ব্লাইন্ড লেন। এই যে ডানদিকের বাড়িটা, এটা সমীরদার। এই গলিতে ঢোকার কথা নয় সিদ্ধার্থর। মেইন রাস্তা থেকে এই গলিটা ছেড়ে আরও তিনটে গলি পেরিয়ে চতুর্থ গলিতে ঢুকে বাঁদিকের তৃতীয় বাড়িটা সিদ্ধার্থদের। তিরিশ বছরের বাড়ি ওদের৷ এমনকী ওর ভালো নামও বেশিরভাগ পাড়ার …

আরও পড়ুন »

সম্পর্ক, সতীন্দ্র অধিকারীর অণুগল্প

 সতীন্দ্র অধিকারী সম্পর্ক গতকাল রাতে তৃণার বলে যাওয়া কথাগুলো এখনও মেনে নিতে পারছে না অমিত। মানুষের সীমা কতদূর… মুখে কি কিছুই আটকায় না আর! ঘুমচোখে পর্দাটা সরিয়ে চোখ মেলে অমিত। না, এখনও ঝিরঝির করে বৃষ্টিটা পড়ছে। দু-তিন বার মাথায় টোকা মারে অমিত। এখনও পুরো মাথাটা যেন ঝিম হয়ে আছে। কাল …

আরও পড়ুন »

রবিবারের গল্প, ‘গেম’

 তন্ময় কোলে গেম সরোজ অভীকের ছেলেবেলার, মানে সেই স্কুলবেলার বন্ধু। এখন চাকরি সূত্রে কানাডা থাকে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আজ সরোজ কয়েক বছর পর বন্ধু অভীকের বাড়ি এসেছে। —কত বছর পর আসলি বল তো? চায়ে চুমুক দিতে দিতে অভীক প্রশ্ন করে। —তোদের বাড়ি এসেছি লাস্ট তোর বৌভাতের অনুষ্ঠানে। ছ’ বছর হয়ে গেল …

আরও পড়ুন »