Breaking News
Home / পার্বণী (page 3)

পার্বণী

আলো, মধুমঙ্গল বিশ্বাসের অণুগল্প

 মধুমঙ্গল বিশ্বাস   আলো সারাক্ষণ শুয়েই থাকে। অথবা বলা যেতে পারে বিশ্রামে থাকে। মাঝেমধ্যে একটু নড়াচড়া। টুকটাক, খুচরো জাগরণ ঘটে বোধহয়। বেশ হিলহিলে। লকলকে। যখন জাগে, খ্যাপা দামোদর। মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের কর্মী হারাধন। অফিসে সবাই তাকে বাবু বলে সম্বোধন করে, আড়ালে পাগল বলে তারিফ করে। কাজপাগল। সারাদিন শুধু কাজ আর …

আরও পড়ুন »

রিটেক, বিশ্বদীপ দে-এর অণুগল্প

 বিশ্বদীপ দে   রিটেক মেট্রোর অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সিটে বসে মেয়েটা কাঁদছে। নিঃশব্দে কুঁকড়ে যাচ্ছে ফরসা মিষ্টি মুখটা। স্টেশনে পায়চারি করছিলাম। চোখ টেনে নিয়েছিল দৃশ্যটা। দুপুর আড়াইটের ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম। ওড়নাটাকে সামান্য টেনে কান্নাটাকে গোপন করতে চাইছে মেয়েটা। কোলের ওপরে রাখা স্মার্টফোনে টপটপ করে চোখের জল পড়ছে। আমি দুটো সিট ছেড়ে বসলাম। …

আরও পড়ুন »

কবিতাগুচ্ছ, সুব্রত রায়চৌধুরী

 সুব্রত রায়চৌধুরী   ঈশ্বর সন্ধ্যার এক কোণে কুপি আড়ালে উনুন। এখানে কাঠ, ঘুঁটে, কেরোসিন তিন দিন আগুন জ্বলেনি। সন্ধ্যার এক কোণে কুপি আগুন জ্বালাবার ঈশ্বর ঘুমিয়েছে সেইখানে।   তর্পণ এই কার্তিকের উঠোনে একা শুয়ে আছো। পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে শেষ চরণামৃত ঝরে পড়ছে মাটিতে। অগ্নিস্নানে চলে গেলে তুমি… সেই থেকে কুশ …

আরও পড়ুন »

কুয়াশা, সুব্রত সেন-এর গল্প

 সুব্রত সেন   কুয়াশা কুয়াশাটা যে বেশ জমিয়ে নামছে সেটা খেয়াল করেনি জিৎ। খোলা আকাশের তলায় পার্টি, বছর শেষ হওয়ার আনন্দে সকলে নাচে-গানে মশগুল, সকলের হাতে হাতে মদের গ্লাস। হই হই করে বাজি ফাটিয়ে বর্ষবরণ, সেই সঙ্গে আরেকপ্রস্ত উল্লাসের জোয়ার। জিৎ জানে নতুন বছরে পদার্পণ করার কিছুক্ষণ পর থেকেই পার্টিতে …

আরও পড়ুন »

গল্প, মিহির সরকার

 মিহির সরকার: দিন যায় মৃত্যু—অরণ্যের ডাকে যখন গুছিয়ে কিছুই লিখতে পারি না তখন কোনো এক কাল্পনিক নারীকে চিঠি লিখি। এই করতে করতে এক সময় একটা – দু’টো কবিতা লিখে ফেলি। গত রোববার একটা কবিতা চার লাইন লেখার পর আর লিখতে পারছিলাম না। তখন লিখলাম, গতকাল অফিস যাওয়ার পথে বাসে এক …

আরও পড়ুন »

চশমা, বিতান চক্রবর্তীর অণুগল্প

 বিতান চক্রবর্তী চশমা   এরপর রাস্তা এখানেই শেষ। এটা ব্লাইন্ড লেন। এই যে ডানদিকের বাড়িটা, এটা সমীরদার। এই গলিতে ঢোকার কথা নয় সিদ্ধার্থর। মেইন রাস্তা থেকে এই গলিটা ছেড়ে আরও তিনটে গলি পেরিয়ে চতুর্থ গলিতে ঢুকে বাঁদিকের তৃতীয় বাড়িটা সিদ্ধার্থদের। তিরিশ বছরের বাড়ি ওদের৷ এমনকী ওর ভালো নামও বেশিরভাগ পাড়ার …

আরও পড়ুন »

স্বপন রায়ের কবিতা

 স্বপন রায় উদাসীন মল্ট পাঁজর ফুঁড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে, বুলেটবেগানা কোথায় যায় রোদ সরোদ অব্দি যায়,  নাকি সামান্য স্রোত চোখের যেখানে কুহকমেশা চা নির্ভারচিত মেয়েটির হাতে তুচ্ছ বারুদ পাঁজর খুলছে ঘি ঘি টিশার্ট সয়ে যাওয়া ফুল বয়ে যাওয়া নদীর তাকে ভাসবে যখন বুলেটও আর্দ্র হল ফুঁড়ে যাওয়া কী অবাক ফুটে …

আরও পড়ুন »

সুমন গুণের কবিতা

 সুমন গুণ দেবীপক্ষ দূরের বারান্দা থেকে মাঝেমাঝে হাত নেড়ে, একটু দাঁড়িয়ে, তারপরে, ঘরে চলে যেতে। আলো জ্বলে উঠত ঘরে। চারপাশে সুধা ছিল, দেবীপক্ষ ছিল। মাঝে মাঝে বিত্ত ও ব্যঞ্জনা নিয়ে সর্বার্থে প্রস্তুত ছিল ধ্বনি ও তৈজসপত্র, বিপন্ন লেঠেল। এসবই কল্পনামাত্র, কল্পনার মধ্যে আরও কিছু ঘর থাকে, ঘরের অধিক কিছু আন্দোলন …

আরও পড়ুন »

কবিতাগুচ্ছ, সবর্না চট্টোপাধ্যায়

 সবর্না চট্টোপাধ্যায়   মা আর আমি গায়ে জড়িয়ে দিচ্ছি চাদর ধীরে ধীরে উঠে বসে মা। কমে এসেছে দামোদরের জল পাতায় ক্লোরোফিল। হাঁ করে ওঠে কাঁপা দুটো ঠোঁট… আমি ঢেলে দিচ্ছি দুধ, দু’চামচ জল পিঠের ওপর যেন শতজন্মের পাহাড় গিরিখাদে লুকানো মেঘরাশি হাত বুলিয়ে দিই। মাথা নাড়ো। ঝাপসা চোখে তাকিয়ে থাকো, …

আরও পড়ুন »

কবিতাগুচ্ছ, শিমুল সালাহ্উদ্দিন

 শিমুল সালাহ্উদ্দিন   একা মানুষের চিঠি ক. এক বাক্যের দীর্ঘ চিঠি পাখি, হাহাকারের পৃষ্ঠা খোলা রাখি।   খ. এখনো রাত্রিতে, এখনো একলা, কান্না গলে নামে, আ-গলানাভীমূল আমারি ভুল ছিল তোমার চুল ছিল দিগন্ত ছাড়িয়ে স্বাপ্নিক উড্ডীন… তবুও দিনদিন ভুলেই যাওয়া গেছে, যা ছিলো ভুলবার, তোমার ও আমার তবুও কেনো যে …

আরও পড়ুন »

ম্যারাপ, পলাশ বর্মনের গদ্য

 পলাশ বর্মন   ম্যারাপ কী লিখব? কিছুই তো মনে আসছে না! কতক্ষণ হল, আমি সাধের ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে ঠায় বসে আছি। এপাশ-ওপাশ নড়ছি-চড়ছি; মাঝে মাঝে বোতল খুলে, নিছক নিরুপায় বলে, শুধু সাদা জলই খাচ্ছি। আমাদের এই জল খাওয়া নিয়েও ইদানিং বাঙালি নিজেই নিজের খিল্লি ওড়াচ্ছে দেখছি। এও কোনও হিন্দির প্রভাব …

আরও পড়ুন »

সুমন ভট্টাচার্যের নিবন্ধ, ‘বং গায়’-এর সঙ্গে টলিউড দর্শন

 সুমন ভট্টাচার্য: পুজোয় আপনার ইচ্ছে কি? এই প্রশ্নটা যদি আমায় কেউ করে, তাহলে এই প্রৌঢ়ত্বের সীমানায় দাঁড়িয়ে ঠিক কি উত্তর দেব? চারদিন ধরে আড্ডা, ভুড়িভোজ… কোথাও ঘুরতে যাওয়া? না, আমি বরং কিরণ দত্ত ওরফে ‘বং গায়’-এর মতো সাহসী হতে চাই, কুন্ঠাবিহীনভাবে কিছু কথা বলতে চাই। এই ইউটিউব আর কেন এত …

আরও পড়ুন »

চৈতন্য দেহি মে, শ্বাশত করের গদ্য

 শাশ্বত কর চৈতন্য দেহি মে ভোর জাগছে। ভোর বড় হলে সকাল হয়। সকালের যুবাবস্থা দিন আর দিনসোনাটির বার্ধক্যের শেষে অবধারিত রাত্রি। শেষ নয়। শেষ বলে কিছু নেই। আলোর সায়াহ্নে অন্ধকার বাড়ে আর অন্ধকারের অন্তর থেকে আলোর প্রসব হয়। রাত্রির অবসানে ফের জাগেন ঊষা। সরল চক্র, অথচ জটিল ব্যাপ্তি, অনন্ত গভিরতা! …

আরও পড়ুন »

শ্বেতা চক্রবর্তীর কবিতা

 শ্বেতা চক্রবর্তী   দেবী তোমার সংসার বলেছে, তুমি সস্তার মানবী, তোমার সন্তান বলেছে, তোমার চোখের জলে গ্লিসারিন ঝরছে, তোমার মা বলেছে, তুমি গোলাপফুল, কিন্তু গোলাপ বলেই কাঁটা উদ্যত রাখতে হবে, তোমার বন্ধুরা বলেছে, একদিন তোমায় খরতোয়া নদীতে ফেলে দেখবে তুমি সাঁতার ভুলে গেছ কিনা, ছাতিমবীথি ধরে হাঁটতে হাঁটতে তুমি একলা …

আরও পড়ুন »

সুভানের কবিতা

সুভান আমার কবি যখন তোমার কবিতার গুণগানে শহরের সাহিত্য আসর ভরে উঠছে আমার কথা তুমি কখনও ভেবে দেখেছ সুভাষ? আমার কষ্ট থেকে উচ্চারণ থেকে সকলে কেমন ছিনিয়ে নিচ্ছে তোমায়, কিভাবে ফালিফালি মাটিরদর আর জমিনভাগ করে নিচ্ছে… ক্রমশ শূন্যতার মেঘের কাছে আমার বাইশটি শ্রাবণ নত হয়ে বসে আছে… যে অন্ধকারের কথা …

আরও পড়ুন »

সুবোধ সরকারের কবিতা

 সুবোধ সরকার কৃষ্ণ ভালবাসা ঘর পেলে, ভালবাসা আর অত ভালবাসতে পারে না। বারোশ স্ক্যয়ার ফিট তাকে খুন করে। কৃষ্ণ আজও পৃথিবীতে বৃষ্টি হয়ে ঝরে । আইন অমান্য করা যমুনার তীরে যে বাঁশি বাজিয়েছিলে তুমি সে বাঁশি এখনো শোনা যায় শহরে বন্দরে, গ্রামে, পার্ক স্ট্রিটে, গাছের তলায়। আমার ভেতরটা আজও কী …

আরও পড়ুন »