সবর্না চট্টোপাধ্যায়
মা আর আমি
গায়ে জড়িয়ে দিচ্ছি চাদর
ধীরে ধীরে উঠে বসে মা।
কমে এসেছে দামোদরের জল
পাতায় ক্লোরোফিল।
হাঁ করে ওঠে কাঁপা দুটো ঠোঁট…
আমি ঢেলে দিচ্ছি দুধ, দু’চামচ জল
পিঠের ওপর যেন শতজন্মের পাহাড়
গিরিখাদে লুকানো মেঘরাশি
হাত বুলিয়ে দিই।
মাথা নাড়ো। ঝাপসা চোখে তাকিয়ে
থাকো, অপলক।
যেন নিজেকেই দেখছো, আমারই ভেতর!
আয়না
ঘর ভর্তি ঠনঠন…কলসীর ছলাৎ
যন্ত্রণা দেয় শব্দরা !
কখনও তো নিজের… মুখোমুখি,
আড়াল থেকে বেরিয়ে আসছে হরিণ
চেটে দেয় চোখ… হাতের পাতা।
তার ঘন কুচকুচে চোখ
এক দীঘি জল…পদ্ম ফুটেছে যেন,
মাঝখানে!
দৃষ্টিকোণ
মাটিতে পড়েছে জল। মুছে রাখি।
মাড়িয়ে যাও…দেখতে পাওনা শুধু,
আমি আছি।
মৃত কথকের গান
শপথ করেছি আকাশের কাছে বৃষ্টি নেব না আর
খরার জন্ম দিয়েছ যখন খরার জন্ম থাক।
যেসব তারারা আলোকবর্ষ নিঝুম যাপনে কাটে
বিপুল জোয়ারে বিচ্ছেদী জল স্রোতের দুপাশে হাঁটে।
মৃত শহরের বুকের ওপর আত্মহত্যা লিখে
যতবার গায়ে উল্কি এঁকেছে কেন হয়ে গেছে ফিকে?
আসলে নিথর শহর বোঝেনি বৃষ্টি তখনো বাকি
অতল জলেতে নৌকা দুখানি দিয়েছে কীভাবে ফাঁকি!
গভীরে এমন চিতার প্রবেশ পুড়ছে রক্ত যেন
চেয়েছিলে তাই দহনকে আমি ভালোই বেসেছি জেনো!
গোলাপি তারামন্ডল
১.
হৃদপিন্ড হারিয়ে নিঃস্বার্থ হয়ে উঠি।
বয়ে যায় জল।
ঝড় উঠে না তুলকালাম।
গালাগালি দাও না আর মাতাল হয়ে
শুধু গ্লাস ঠুকে হেসে বলো,
‘তোমাকে মানিয়েছে বেশ ওর পাশে’!
২.
শুনতে পাচ্ছি ক্ষীণ, দীর্ঘশ্বাস।
কথা আসছে না তবু…
ঝাপসা হচ্ছে কাচ, প্রবল বৃষ্টিপাতে।
কোথায় যেন এক অদৃশ্য শিকল
বাধা দিচ্ছে বারবার, আর
তোমাকে রেখেছে নিশ্ছিদ্র পাহারায়!
৩.
জ্যোৎস্নায় স্থির হয়ে যায় আকাশ
ভরে উঠি দীর্ঘ নিঃশ্বাসে।
‘এ শহর ছেড়েছ প্রায় দশ শতাব্দী হল’!
তবু ওই খসে পরা তারার পায়ে
চুপিচুপি সাজিয়ে রাখি
স্থাপত্যের খাজুরাহো!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news