সুভান
আমার কবি
যখন তোমার কবিতার গুণগানে শহরের সাহিত্য আসর ভরে উঠছে
আমার কথা তুমি কখনও ভেবে দেখেছ সুভাষ?
আমার কষ্ট থেকে উচ্চারণ থেকে সকলে কেমন ছিনিয়ে নিচ্ছে তোমায়,
কিভাবে ফালিফালি মাটিরদর আর জমিনভাগ করে নিচ্ছে…
ক্রমশ শূন্যতার মেঘের কাছে আমার বাইশটি শ্রাবণ নত হয়ে বসে আছে…
যে অন্ধকারের কথা আমি কাউকে বলিনি।
যে একলাঘর একদিন শহরের অক্ষরেখায় এনে দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের,
সেই সমস্ত অন্ধকার আমি লিখতে পারি না তোমার মতো…
আর তুমি? ক্রমশ নদী, নুড়ি আর ঝুরো বেদনায়
নিজেকে কোথায় যে আড়াল করে রেখেছ…
আদরের তবু একটা নাম দেওয়া যায়, এই বেদনার আমি কি নাম রাখি সুভাষ?
হাওয়া যদি গুমোটে হারায়, আমি হারাই দমকা হাওয়ার স্রোতে
যে হাওয়া এসে থামে দক্ষিণে, উত্তরে তারও একলা শীতকাল…
হাতের আঙুলে নেমে আসে বিষণ্ণ মেঘের সন্তাপ;
এই একলা রাতের ঘরভাঙা চন্দ্রসোহাগ যেন কাফের, আমি তো উষসী নই…
তোমার শব্দে তবু জেগে উঠি আমি আর ভোরের সোহাগ থেকে খুলে রাখি
শূন্যবৈরাগ; আমার দহনকাল আমি কোন অঙ্গে জ্বালিয়ে রাখি এখন বলতে পারো?
কোন সঙ্গে মাতাল হই কোন ছাইসঙ্গে ঢুকে পড়ি নিঃসঙ্গতার?
এই সব মোহআতরের গন্ধ, নদীজখম, এসব কি তোমাকে দেখানো যায়?
আমি কোন কোমলরাগের কাছে গুমরে কেঁদে উঠি
তোমার কোন কবিতার ক্ষতর পাশে গিয়ে নগ্ন হয়ে দাঁড়াই,
নিজেকে কোন উপশমের কাছে একা স্থিরায়ু করে রাখি
কিছুই তো দেখানো হল না আমার…
আমার পোড়াকাজলের দাগ, দেহের গোপন চোট,
সম্পর্কের মারণরোগ এসব কিছুই দেখানো হল না।
সুভাষ, কবিরা কেন এমন হয়?
এত আঘাতের কাছে মাথা উঁচু করে থাকতে থাকতে
শেষে কিনা কাঁচামাটির স্তনে হাত রাখতে ভয় পাও?
তুমি তো বিষাদপুরুষ…
তোমার দু হাতের মাঝে এ কোন নির্মল সর্বনাশ লিখে ফেলেছ তুমি?
এ কোন সর্বনাশের দুয়ার খোলা রেখেই শিশুর মতো ঘুমিয়ে পড়েছ কবি?
আমার ভয় হয়, ওই যে ভাঙা ভাঙা কাচের কোরাস…
টুকরো টুকরো কাচ বুকে বেঁধে, কানে ভেসে আসে বিদায় বেলার ভৈরবী…
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news