Breaking News
Home / সান-ডে ক্যাফে / রবিবারের কবিতা

রবিবারের কবিতা

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

 

নীল সার্কাসের ভেতর থেকে

মেট্রো সিনেমা হল ভেঙে ফেলা হচ্ছে
শপিং মলের হাঁ-মুখ গিলে খাবে
‘তেজাব’, ‘প্রহার’ , ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, আরও কত রোদ-উৎসব
মেট্রো বার’-এ বসে স্ট্যাচু হয়ে গেছে
রেসে হেরে আসা বুড়ো জোনাথন
গ্লোব, নিউ এম্পায়ার, টাইগার—
এদের কবর থেকে ভেসে আসে
নিষ্পাপ ‘জাঙ্গল বুক’ আর নিষিদ্ধ ‘বেসিক ইন্সটিঙ্কট’
কলকাতা, আয়নায় মুখ দেখে চেনে না নিজেকে, তবু
‘কোয়েস্ট’-এর তিন তলায় দাঁড়িয়ে
‘শোভাবাজার’… ‘কুমোরটুলি’… ‘লঞ্চ ঘাট’—
কোনও তরুণী নদীর চোখে যদি দেখি আজ
এইসব ভুলে যাওয়া আত্মীয়স্বজনের নাম
নীল সার্কাসের ভেতর থেকে তাকে ছুঁড়ে দেব
জিতে যাওয়া রূপকথা, নতুন লিরিক।

……………………..

 

ব্রোকেন আইল্যান্ড

চাঁদের বারুদ ঠাসা ঘরে বসে আমি দেখতে পাই কৃষ্ণচূড়ার পথ বেমালুম হাইহিল-সরণি হয়ে গেছে , পাহাড়ি রিসর্টের দিন মুছে দিয়ে সানশাইন এপার্টমেন্ট গড়ে তুলেছে পরিযায়ী প্রজাপতি, যার ডানার রং চিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলাম একদিন। রাস্তা, কোথা থেকে এসে কোথায় চলে যায়, কখন শেষ হয় টানেলের দিন, জীবন আর টয়-ট্রেনের মধ্যে কতটা ফারাক— এই সবকিছু নিয়ে কে.সি.পাল কিছু বলে যাননি, তবে ওল্টানো মুখ আর পাল্টানো প্রতিশ্রুতির বারান্দায় দাঁড়িয়ে মনে হয়, সূর্যই পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। হিলকার্ট রোড পেরিয়ে, করোনেশন ব্রিজের গোধূলি ছাড়িয়ে, শিমুলবাড়ি টি-এস্টেটের দুঃখী চোখ, তারপর মিলিটারি বেস ক্যাম্প, ক্রমশ খাড়াই, পরপর হেয়ারপিন বাঁক, পাইনের ডালে কার যেন হেয়ার পিন ঝুলে আছে, গুম্ফার রহস্য আমি কখনওই বুঝিনি, শুধু হাওয়ায় দুলতে থাকা কমলালেবুর ভেতরে দেখেছি নিজেদের ছায়া। কথা, কোথা থেকে ভেসে আসে, কোথায় চলে যায়, কথারা কথায় মিশে, হয়ত বা আধভাঙা গান হয়ে বেজে ওঠে খাদের তলায়, আর তিস্তার পারে বসে কেঁদে ফ্যালে নীলচে টুরিস্ট। কালিম্পঙের অর্কিড-পথে এক বিকেলে কী ঘটেছিল, আমার মনে নেই , বার্চ ও সেডার গাছের গুঁড়িতে, যাদের নাম লেখা, তাদের আমি ভুলে গেছি, অথবা চিনিনা, আমি শুধু জানি, প্রত্যেকটা হিল-স্টেশনেই রঙীন ধর্ম-পতাকা ওড়ে, আর লাভার্স পয়েন্ট ও সুইসাইড পয়েন্টের ভেতর অনন্ত অপেক্ষায় বসে থাকে একটা সবুজরঙা ছোট্ট কাঠের বেঞ্চ। ওই বেঞ্চ, বা ব্রোকেন আইল্যান্ডকে সারিয়ে তোলার ক্ষমতা, আপনার রেভলনে, নাইলনে, আইলাইনার ও ম্যাট ফিনিশ লিপস্টিকে, আমি দেখিনি। তাই, স্ট্রবেরি বা চেরি, আমাকে আপনি যাই দিয়ে ফেলুন না কেন, আফশোস, আমি আপনাকে পাহাড়ি উপকথা ছাড়া আর কিছুই দিয়ে উঠতে পারবো না। ফায়ারপ্লেসে আগুন জ্বলছে না, সে কথা সাত হাজার ফুট ওপরে বসে আপনাকে জানিয়েই বা কী হবে, আপনি তো সফল সমতল….

Spread the love

Check Also

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে বিয়ে, করোনায় মৃত্যু হল বরের দাদার

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বড় জমায়েত করে আচার-অনুষ্ঠান করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে প্রশাসনের। …

গুণমান খারাপ বুলেট প্রুফ জ্যাকেটের, চিনের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন …

শান্ত প্যানগং বিগত ৫০ বছর ধরে কেন ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনার বড় কারন? জানুন ক্লিক করে

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: ভারত ও চীনের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *