নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলী:
চন্দননগরের তিলি বাড়ির পুজো আনুমানিক ৩৫০ বছরের পুরানো। একটা সময় কলকাতার পোস্তার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নবকৃষ্ণ দে কলকাতা থেকে চন্দননগরের হাজিনগরে লিচুতলায় এসে বসবাস শুরু করেন। জলপথে ব্যবসার জন্য তাঁর নিজস্ব ঘাট তৈরি করেন, যা আজও তিলি ঘাট নামে পরিচিত।। এরপর তৈরি করেন তিলি বাড়ি।
এই বাড়িতেই তিনি প্রথম দুর্গা পুজো শুরু করেন তিনি।বাড়ির দালানে শুরু হয় দূর্গা পুজো। বাড়িতে রয়েছে রাধা কৃষ্ণের মন্দির। জন্মাষ্টমীর দিন দূর্গার কাঠামো পুজো হয়। যা এখনও বর্তমান সদস্যরা পালন করে চলেছেন।
একচালার কাঠামোয় লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক অধিষ্ঠিত।
পুজো সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই। বিশেষ রীতি মেনে করা হয় সন্ধি পূজো। আগেকার দিনে প্রায় ৬০ কেজির কাঁসার থালায় প্রায় দেড়মন চাল কলা দিয়ে দেবীকে অর্পণ করা হত। এখন আর সে দিন নেই, এত বড় থালা থাকলেও বিভিন্ন কারনে সেরকম আর হয় না। কিন্তু নিয়ম মেনে একটু ছোট থালায় চাল কলা দেওয়া হয়। এই বাড়ির আরও একটি নিয়ম হল ধুনো পোড়ানো। পুজোয় যার নামে সংকল্প হবে তাকে নির্জলা থেকে দেবীর সামনে উপুর হয়ে পিঠে ও দুই হাতে সড়ায় করে ধুনো জ্বালিয়ে মাকে নিবেদন করা হবে।
নবমীর দিন বাড়িতে দরিদ্র নারায়ণ সেবায় মাছ ভাত খাওয়ানো হয়। যদিও পুজোর শুরু থেকে নবমী পর্যন্ত বাড়িতে মাছ প্রবেশ নিষেধ।
দশমীতে মাছ ভাত খেয়ে সিঁদুর খেলায় মাতেন বাড়ির মহিলারা। এর পর মাকে বরণ করে
বিসর্জনের শোভাযাত্রা সহকারে বিশেষ নিয়মের মধ্যে দিয়ে নিজস্ব তিলি ঘাটে মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জন এর পর বাড়ি ফিরে বেল পাতায় মা দুর্গার নাম লিখে ঘটে দেওয়ার রীতিও এখানে বিশেষ লক্ষনীয়।
দূর্গা বেদীতে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর নিয়ম সর্বত্র থাকলেও এখানে নিয়ম একেবারে আলাদা। এই বাড়িতে হয় কালী পুজো বিশেষ ঐতিহ্য মেনে।
নিজেদের কর্মের তাগিদে বাড়ির সদস্যরা বাইরে থাকলেও পুজোর কটা দিন সবাই একত্রিত হন আজও।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news