Breaking News
Home / সান-ডে ক্যাফে / কবিতা / ‘মুখে মুখ দিয়ে ছিনিয়ে নিচ্ছি চুম্বন আর ভাত’, কবিতাগুচ্ছ, সবর্না চট্টোপাধ্যায়

‘মুখে মুখ দিয়ে ছিনিয়ে নিচ্ছি চুম্বন আর ভাত’, কবিতাগুচ্ছ, সবর্না চট্টোপাধ্যায়

 সবর্না চট্টোপাধ্যায়

খিদে

কিছুটা স্তব্ধ হলে ভাবি কিভাবে কেটে যাচ্ছে রাত।
মুখে মুখ দিয়ে ছিনিয়ে নিচ্ছি চুম্বন আর ভাত! আচমকা ধাক্কা দিলে যতটা চমকে উঠি,
তুমি যেদিন অস্বীকার করেছিলে,
ভূমিকম্পে চূর্ণ হল মাটি। অথচ
কিভাবে ফ্যাকাশে হতে হতে আমিও বুঝে নিলাম
আসলে যৌনতা কী!

কিছুটা বর্গক্ষেত্রের ভুলে পরিসীমা আর ক্ষেত্রফলের মাপে গরমিল ছিল যেসময়, তখন হাইমেনও ব্রেক হয়নি । বরং সরু ফ্রেমের এক চশমা ছিনিয়ে নিচ্ছিল দুচোখের দ্যুতি। ঠোঁট ফেটে রক্ত ঝরছে তবু তাকে ধর্ষক বলিনি একবারও। বরং মনে হত যেন রাষ্ট্রদূত বার্তা এনেছে শান্তির।

তুমি রাজনীতি শিখেছিলে বড় যত্নে। তুড়ি মেরে ছিঁড়েছিলে একটা দেশ। প্রদীপ সাজানো তখন কুঁড়ের ভেতর। নদীতে ভরা জোয়ার। ভাসতে ভাসতে কোথাও এক হয়েছিল দুটো ডিঙি। তবুও ‘গন্তব্য অন্য।’

হুবহু আমার মতো সেই মেয়ে তলপেট দেখিয়ে প্রথম যবে পরেছিল শাড়ি বুড়ো লাউডগা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকা কুমড়োর লোভে। অথচ তাতে কোন যৌনতা ছিল না বরং চটচটে লালায় বিষিয়ে গিয়েছিল কাঁচা হলুদের রঙ। সারা গায়ে ট্যাটু এঁকে তারপর সে ভরিয়ে তুলেছিল ডিভোর্সি যৌবন। তবু কেন তার চোখে কালি? ঝাড়বাতির নীচে কেন এক নিঃসঙ্গ লাল সিগন্যাল?

স্তব্ধ হলে ভাবি কিভাবে গাছের কোটর থেকে ডেকে ওঠে পেঁচা। ছনছনে বৌঠান আর সুঠাম সাদা গেঞ্জি পরা দেওর। তবুও তাকে পরকীয়া বলিনা আজও। আসলে কাদা আর জল নদীর প্রত্যঙ্গ মাত্র।

বরং সাহস থাকো তো চেটে দেখো সমস্ত খিদে। আমি তুলে দিতে পারি তোমায় নপুংসক ভেবে। তোমরা যখন মাতবে এই খিদে খিদে খেলায় আমি রেঁধে রাখব ভাত দেশের ভবিষ্যৎ ভেবে!

 

পাহাড়

কাঁদছে যেসব পাহাড়ের চূড়া
তাকে বলে দিও ‘তুমি কোন অলৌকিক ভোর নও’
চাইলেই হাত রাখতে পারো মাথায়
কপালে আলতো ঠোঁট, চলতেই পারে।

যেন ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে স্রোত
কাচের মত স্বচ্ছ জলে পা ডুবিয়ে আছে
চিতল হরিণ
কি মসৃণ ত্বক। পিছলে যাচ্ছে সোনা…
এমন যৌবনে নদী হতে চেয়ে ভুল করোনি জানি,
তবু যদি ভাবতে একবার ডুবুরির কথা…

আসলে সাঁতারু তো কম নয়!
সংখ্যার ঝড়ে গোলমাল হয়ে যায় স্তব্ধতা

তুমি হাসো।
পাহাড় চূড়ায় সূর্যাস্ত হয়।
আমি তার গায়ে জীবন ফুটতে দেখি
প্রতিবার!

 

মৃত্যু

সারা মধ্যপ্রদেশ জুড়ে তখন ঘন বন্যতা
ভয় হয়েছিল। খাদের পাশ দিয়ে শাঁ শাঁ করে
ছুটে চলছে গাড়ি। রাতজাগা ড্রাইভার আর
পেঁচার চিৎকার….
চুপ করে শুনেছি তার পদধ্বনি।
মৃত্যু, তুমি কী ভয়াল!
অথচ কী অনায়াসে তোমাকে নিয়ে কত কত
কবিতা লিখেছি। চলে যাওয়া
যেন ঝরা পাতার মতো, অশরীরী!

কত সহজ সে বাতাস নাকচ করে দেওয়া
কত সহজ, অস্বীকার করা এই ‘থাকা’।
অথচ যদি খাদ থেকে পড়ে যায় গাড়ি কিংবা
ঝাঁপিয়ে পড়ে অতর্কিতে কোন বাঘ,
তখনো কী বলব, ‘এ আকাশ আর আমার নয়,
হে মাটি, এই শেষ’?
‘আমাদের দেখা হবে না আর কোনোদিন,
মুখোমুখি কিংবা নিজের আড়ালে!’

……………………………………………………

সবর্না চট্টোপাধ্যায় শূন্য দশকের কবি। জন্ম ও বাস পশ্চিমবঙ্গ। প্রথম প্রকাশিত বই ‘চারদেওয়ালি চুপকথারা’। পেয়েছেন সোনাঝুরি সাহিত্য সম্মান ২০১৯। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, দৈনিক এবং ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখালিখি করেন। প্রবন্ধ লিখে থাকেন বিভিন্ন বিষয়ে। কিশোর সাহিত্যে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে এই কবির ।

Spread the love

Check Also

ধারাবাহিক কাহিনি, ‘কাশীনাথ বামুন’, আজ শেষ পর্ব

 সৌমিককান্তি ঘোষ গত সংখ্যার পর… তার ভরন্ত ফরসা মুখে দীঘল কালো চোখ, বাঁ ঠোঁটের নীচে …

কবির প্রলাপ! ‘জেন্ডারলেস পৃথিবীর দর্শন’

 সৈকত ঘোষ   জেন্ডারলেস পৃথিবীর দর্শন সিঁড়ি ভাঙা অঙ্কগুলো ফ্যাকাসে বেগুনি কিংবা লাল। লালচে সকাল …

ধারাবাহিক কাহিনি, ‘কাশীনাথ বামুন’

 সৌমিককান্তি ঘোষ   কাশীনাথ বামুন গত সংখ্যার পর—   ২ “ঠাকুর এসেছে গো” উঠোন থেকে …

2 comments

  1. আমিনুল ইসলাম

    খুব সুন্দর লাগল সবর্না।

  2. mandira ghosh

    কবিতার স্মার্টনেস মুগ্ধ করল।একরাশ শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *