পর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়:
বৃষ্টির মধ্যে পুরনো প্রেমিকার বাড়ির সামনে এলে কান্না পায়? কিন্তু ঝাপসা আলোয় বাড়িটা অচেনা ঠেকছে কুনালের। তবে গলির মুখের গোলাপি দরজাটা পেল। কপাট ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
রাতপোশাক পরে শুয়ে আছে পিয়া! সেই পা! পা মানে পা না, দুধে-আলতা। লাবন্য। পিয়ার নাইট গাউন হাঁটু পার হয়েই শেষ। স্লিভলেস।
রাগ করবে না তো মেয়েটা! ভাবছিল কুনাল। এর মধ্যে জেগে উঠল পিয়া। মিষ্টি হাসল।
প্রশ্রয়ে চমকালো কুনাল। বলল, ‘কথা রাখতে পারিনি।’
পিয়া হাত ধরে বিছানায় টেনে নিল কুনালকে। কুনাল বলল, ‘এখনও ভালোবাসো?’ বসা অবস্থাতেই কুনালকে জরিয়ে ধরল পিয়া। কুনালও জাপটে ধরল তুলোর পুতুলের মতো পিয়াকে। তাতেও রাগ করছে না দেখে উত্তেজিত কুনাল দেরি করল না। প্রেমিকার নরম শরীরটাকে দুমড়ে মুচড়ে আদর করতে লাগল। চরম ভালোলাগার মধ্যেও কুনাল খেয়াল করল, মাঝে দশটা বছর কেটে গেলেও পিয়ার উন্নত বুকের বয়স বাড়েনি!
এবার শক্ত শরীরটা দিয়ে প্রেমিকাকে আক্রমণ করল কুনাল। আহ, চিৎকার করে উঠল পিয়া।
২
ঘুম ভেঙে গেল কুনালের। পাশে ব্যথায় কাতরাচ্ছে পিয়ালী। বাত। হাঁটুতে। রাতে বাড়ে। একেকদিন। বেড সুইচ অন করল কুনাল। পিয়ালী ফিরে তাকাল। চোখের তলায় কালি। বলল, ‘ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম! সরি।’
‘ব্যথা আর ব্যর্থতা আলাদা। তুমি ব্যথায় আওয়াজ করেছ। তার জন্য সরি বলছ কেন!’ বলল কুনাল।
পিয়ালী বলল, ‘এই রে, ছেলের কবি সত্তা জেগে উঠেছে!’
উঠে বসল কুনাল। বলল, ‘তুমি ঘুমাও।’
মশারি থেকে বেরিয়ে বাথরুমে গেল কুনাল। বৃষ্টি পড়ার শব্দ পেল। সিগারেট ধরিয়েও ফেলে দিল মেঝেতে। রাবারের চটি দিয়ে আগুন নেভাল ডলে ডলে।
বিছানায় ফিরে পিয়ালীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল কুনাল। চোখ বন্ধ অবস্থাতেই পিয়ালী বলল, ‘ডক্টর সেন কী বলবে বলো তো? হাঁটু রিপ্লেসমেন্ট লাগবেই?’
কুনাল বলল, ‘ঘুমোওনি!’
‘ব্যথা জাগিয়ে দিল।’
‘কমেনি?’
‘হ্যাঁ তো।’
কুনাল বলল, ‘ডক্টর সেনের চেম্বারটা যেন কোথায়?
পিয়ালী হেসে বলল, ‘ওই ওখানে!’
‘কোথায়?’
‘যেখানে তোমার ব্যথা আছে।’
খুব হেসে পিয়ালীকে জাপটে ধরল কুনাল। সে শুনল বৃষ্টির শব্দ। চোখ বন্ধ করে দেখল—তুলোর পুতুলের মতো পিয়া দশ বছর আগের স্বপ্নের মধ্যে শুয়ে আছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news