নীল রায়:
যত দিন যাচ্ছে ততই জমে উঠছে সিবিআই বনাম তৃণমূল যুদ্ধ! এর আগে তৃণমূল সংসদ তাপস পাল ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের গ্রেফতার করে ওড়িশা নিয়ে গিয়েছিল সিবিআই। বৃহস্পতিবার বাংলা ছবির প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকেও গ্রেফতার করে ভুবনেশ্বর নিয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এবার সেই ভুবনেশ্বরে “হাল্লা বোল”-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই লক্ষ্যে রবিবার সকালে ভুবনেশ্বর পৌঁছেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন। মৌখিকভাবে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে কটকের রবীন্দ্র কলেজের ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে বক্তৃতা দিতে যাচ্ছেন ডেরেক। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা।
কিন্তু এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর ভুবনেশ্বরে তৃণমূলের কার্যালয় যাবেন ডেরেক ও ব্রায়েন। সেখানে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করবেন তিনি। মনে করা হচ্ছে সেখান থেকেই সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগবেন এই কুইজ মাস্টার রাজনীতিক। তৃণমূলের দুই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাপস পাল লম্বা সময় সিবিআই জিম্মায় ছিলেন। সেই সময় ভুবনেশ্বরে গিয়ে তৃণমূল কার্যালয়ের উদ্বোধন করে এসেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সী ও তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্টি অফিস উদ্বোধনের পাশাপাশি একটি জনসভাও করেছিলেন দুই নেতা। জনসভা থেকে তাঁরা আক্রমণ শানিয়েছিলেন কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইকে। এরপরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ভুবনেশ্বর গিয়ে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অ্যাপোলো হাসপাতালে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ওই সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়েছিল ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এর সঙ্গেও। সেই সময় সিবিআই ও বিজেপিকে এক হাতে নিয়েছিলেন মমতা।

লোকসভা ভোটের আগে আবারও তৎপরতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। রোজভ্যালি কাণ্ডে তাদের জালে ধরা পড়েছে ফিল্ম প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা। যিনি আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আস্থাভজন বলেই পরিচিত। এর আগে আইকর চিটফান্ড তদন্তে নেমে বরিষ্ঠ সাংবাদিক সুমন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। সেক্ষেত্রে তৃণমূল বৃত্তের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার শ্রীকান্ত মোহতার গ্রেফতারের পর এই উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায় তৃণমূল শিবিরে। ফলস্বরূপ শুক্রবার সকালে তিনটি ট্যুইট ক’রে বিজেপি ও সিবিআইকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিবিআইকে মেরুদন্ডহীন একটি সংস্থা বলেও দাবি করেন মমতা। এদিন প্রজাতন্ত্র দিবস থাকায় সারাদিন সিবিআই নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু রাতের বেলা জানা যায়, রবিবার ভুবনেশ্বর সফরে যাচ্ছেন ডেরেক ও ব্রায়েন। তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে— সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন করে সরাসরি নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জানাবেন ডেরেক। সিবিআই বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবেন ক্ষমতাসীন দলের হয়ে কাজ করার।
ওড়িশা প্রদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত ঘোষ দস্তিদার অবশ্য জানিয়েছেন, সিবিআই বা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিতে দলের থেকে কোনও নির্দেশ আসেনি। ডেরেক ও ব্রায়েন যদি সাংবাদিক সম্মেলনে এমন কিছু ঘোষণা করেন তবে তা অবশ্যই ওড়িশা তৃণমূল কংগ্রেস পালন করবে।
তবে সুজিত যাই বলুন ভুবনেশ্বরের মাটিতে সিবিআই বিরোধিতায় নতুন মাত্রা আনতে চলেলছে তৃণমূল কংগ্রেস। যা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই বাছাই করে দলের অত্যন্ত স্বচ্ছ মুখ ডেরেক ও ব্রায়েনকে এই কাজটি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যেহেতু তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ সময় শিবির হেফাজতে কাটাতে হয়েছে । তাই এবার দায়িত্বটি বর্তেছে রাজ্যসভার দলনেতার কাঁধে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news