উত্তম বিশ্বাস
সূর্য ডুবে গেলেই ঘোলাটে একটা পেতলের ঘটি পাহাড়ের ওই ওপর চুড়ো থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে এসে থামে ঘাসে ঢাকা উপত্যকার কোলে, যেখানে সরু এক শুষ্ক বরফের নদী দুই পাহাড়কে বিভাজিত করেছে, ঠিক সেইখানে। কিছুদিন হল এর তীরে দু’জন মহিষপালক তাঁবু ফেলেছে। ওরা একে অপরকে গরম রাখবার জন্যে তাঁবুর তলায় জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকে। আজও ছিল।
এখানে এখন বেশ শীত শীত! আজ গড়িয়ে আসা ঘটিটার ভেতর থেকে হালকা সুতোর মতো ধোঁয়া বেরিয়ে আসছিল। তুষার ঝাঁকালে যেমন আসে, ঠিক তেমন ধোঁয়া! মাঝেমাঝে ঘাসের শুকনো ফল ফাটার মচমচ আওয়াজ আর চিরচেনা সেই ছন্দও শোনা যাচ্ছিল। রাত্রি আরও একটু নিবিড় হতেই দপ করে জ্বলে উঠল পাহাড়ের আকাশ। তাঁবুর বাইরে বাঁধা মহিষগুলোর অস্থির দাপাদাপিতে ওদের আয়েশ ছুটে গেল। চিৎ ও উপুড় চোখগুলো তাঁবুর ফুটোয় রেখে চিৎকার করে উঠল, “আরে এ কেয়া! ইতনা রাতমে তবালে মে আগ ক্যায়সে? আরে দেখ তো জারা, লাগতা হ্যাঁয় দাঙ্গা লাগ গ্যায়া কাঁহিপর?” প্রথমজন কিছুটা ভয় পেলেও, সে তাঁবুর মধ্যে মুখ লুকিয়ে বিদঘুটে সব শব্দ করে করে পশুদের ডাকতে লাগল। দ্বিতীয়জন বিছানায় বারকয়েক মোচড় মেরে ঠেলে উঠল। দু’জনের চোখেই তখন তারাবাজি। দাঙ্গা কোথায়? এতো রীতিমত পাহাড় পোড়ানো দামুন! দেখল, সত্যি সত্যি একটি মহিলা ঘুমন্তগাভীটির তলপেটে হাত বুলাচ্ছে! পাকা গাবের মতো ওর আবক্ষ গড়ন। আর ঠোঁটের আগায় আদিম তৃষ্ণার মতো একচিলতে হাসি। বহুকালের ক্ষুধা নিয়ে আদিম গুহাচারি মানব যেভাবে জ্বলন্ত কাঠকয়লা দিয়ে দেওয়ালের গায়ে ভোজনবিলাসের ছবিতে যে এক ইঙ্গিত এঁকেছিল, ঠিক সেরকম!
ওদের মধ্যে একজন খেঁকিয়ে উঠল,-“গাভীটির সবে আটমাস। হাত বুলিয়ে লাভ নেই! তাছাড়া চাইলেই কি আর দুধ…!”
মেয়েটি যেন শুনেও শুনল না। এরপর মহিষপালকদের মুখ থেকে একের পর এক উড়ে এল উত্তপ্ত উল্কা, “এটা আঠাজখমটিলা। এখানে ঔরতলোগ আসলে কী পরিণতি হয় জানো না দুধওয়ালী?”
রাতের পাহাড়িফুলের মতো মেয়েটির শুকনো অথচ সুবাসিত কণ্ঠে স্বরলিপি ভেসে এল, “আমি গোয়ালিনী নই। আমার সোয়ামি রাবারচাষি। গেল শীতে এখানে তরাইয়ে এল, আর ফেরেনি! গঁদগাছের বাগানটা কোথায় দ্যাখানো যাবে?” কিন্তু কেউ উৎসাহ দেখাল না। কেবলমাত্র তাঁবুর ভেতর থেকে মেরুশৃগালের মতো কিটকিটে হাসির হল্কা এসে মেয়েটির সর্বশরীরকে আরও হিমশীতল করে দিয়ে গেল।
মুহূর্তের মধ্যে আবারও প্রবল তুষারপাত শুরু হয়ে গেল। গবাদি পশুগুলো কে কোথায় ছুটে গেল বোঝা গেল না। তাঁবুটি জমতে জমতে পাথর হয়ে যাওয়ার আগে ওর মধ্যে থেকে একজন মহিষপালকের একটি হাত হঠাৎ যেন চিৎকার করে কী একটা চাইল। ঘটিটি কুড়িয়ে নিয়ে মহিলাটি তার বুকের কাপড় সরাতেই পাহাড়তলির সমস্ত আগুনগিরি ফেটে তপ্ত লাভার হড়পা নেমে এল!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news
পাঠক ভাবনা
পাহাড়, পেতলের ঘটি, বরফ নদী, মহিষ এবং দুই বন্ধুর সাথে সেতুবন্ধের মস্করা, সবুজ ঘাসের বুকে দাউদাউ করে জ্বলে। কিন্তু কেন?
তবে কি, আদিম তৃষ্ণা মিটাবে বলেই এমন আগুন আগুন খেলা। ঘুমের ঘোরে মানুষ থাকে অচেতন। দুনিয়ার কোন খবরই তার কাছে থাকেনা। ঘুমের মধ্যে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়, কিংবা দৈবঘটনার প্রেক্ষিতে আগুন লেগে যায়, তখন বেঘোরে সব ঘরের মানুষ মারা যায় কিংবা প্রচণ্ড দগ্ধতা নিয়ে বাঁচার আর্তি আহাজারি, মানবিক আশ্রয় খুঁজে ফেরে অসহায় মানুষ।
গায়ের জোরে আটমাসের গাভিন গাইয়ের দুধ চাওয়ার যেমন তোড়জোড় ছিল, তেমনি ফেলে আদিম মানুষের আভাস পাহাড়ের দুকুলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নৃত্যে মানুষের জীবনের সুখ, স্বপ্ন, প্রেম, ভালোবাসা যেন এক ফুঁৎকারে নিভে গেলো।
হিংসার আগুনে কখনো জ্বলে পুড়ে ছাই, আবার হিম শীতলতার কারণে বরফ চাপায় মানুষের স্বপ্ন সুখের ঘর এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো। অণুগল্পে এমন স্ফুলিঙ্গ ঝরে পরলো যে দুই পাহাড়ের উত্তপ্ত আগুনে সেখানকার জনজীবনে অন্ধকার অমানিশা এবং বিষাদের ছায়া নেমে এলো। সমসাময়িক সময়কালে যা আমরা পুলোয়ামায় ঘটে যেতে দেখেছি।
পাঠক ভাবনা
পাহাড়, পেতলের ঘটি, বরফ নদী, মহিষ এবং দুই বন্ধুর সাথে সেতুবন্ধের মস্করা, সবুজ ঘাসের বুকে দাউদাউ করে জ্বলে। কিন্তু কেন?
তবে কি, আদিম তৃষ্ণা মিটাবে বলেই এমন আগুন আগুন খেলা। ঘুমের ঘোরে মানুষ থাকে অচেতন। দুনিয়ার কোন খবরই তার কাছে থাকেনা। ঘুমের মধ্যে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়, কিংবা দৈবঘটনার প্রেক্ষিতে আগুন লেগে যায়, তখন বেঘোরে সব ঘরের মানুষ মারা যায় কিংবা প্রচণ্ড দগ্ধতা নিয়ে বাঁচার আর্তি আহাজারি, মানবিক আশ্রয় খুঁজে ফেরে অসহায় মানুষ।
গায়ের জোরে আটমাসের গাভিন গাইয়ের দুধ চাওয়ার যেমন তোড়জোড় ছিল, তেমনি ফেলে আদিম মানুষের আভাস পাহাড়ের দুকুলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নৃত্যে মানুষের জীবনের সুখ, স্বপ্ন, প্রেম, ভালোবাসা যেন এক ফুঁৎকারে নিভে গেলো।
হিংসার আগুনে কখনো জ্বলে পুড়ে ছাই, আবার হিম শীতলতার কারণে বরফ চাপায় মানুষের স্বপ্ন সুখের ঘর এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো। অণুগল্পে এমন স্ফুলিঙ্গ ঝরে পরলো যে দুই পাহাড়ের উত্তপ্ত আগুনে সেখানকার জনজীবনে অন্ধকার অমানিশা এবং বিষাদের ছায়া নেমে এলো। সমসাময়িক সময়কালে যা আমরা পুলোয়ামায় ঘটে যেতে দেখেছি।
শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন লেখক এবং Channel Hindustanকে।
পাঠক ভাবনা
পাহাড়, পাঠক ভাবনা
পাহাড়, পেতলের ঘটি, বরফ নদী, মহিষ এবং দুই বন্ধুর সাথে সেতুবন্ধের মস্করা, সবুজ ঘাসের বুকে দাউদাউ করে জ্বলে। কিন্তু কেন?
তবে কি, আদিম তৃষ্ণা মিটাবে বলেই এমন আগুন আগুন খেলা। ঘুমের ঘোরে মানুষ থাকে অচেতন। দুনিয়ার কোন খবরই তার কাছে থাকেনা। ঘুমের মধ্যে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়, কিংবা দৈবঘটনার প্রেক্ষিতে আগুন লেগে যায়, তখন বেঘোরে সব ঘরের মানুষ মারা যায় কিংবা প্রচণ্ড দগ্ধতা নিয়ে বাঁচার আর্তি আহাজারি, মানবিক আশ্রয় খুঁজে ফেরে অসহায় মানুষ।
গায়ের জোরে আটমাসের গাভিন গাইয়ের দুধ চাওয়ার যেমন তোড়জোড় ছিল, তেমনি ফেলে আদিম মানুষের আভাস পাহাড়ের দুকুলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নৃত্যে মানুষের জীবনের সুখ, স্বপ্ন, প্রেম, ভালোবাসা যেন এক ফুঁৎকারে নিভে গেলো।
হিংসার আগুনে কখনো জ্বলে পুড়ে ছাই, আবার হিম শীতলতার কারণে বরফ চাপায় মানুষের স্বপ্ন সুখের ঘর এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো। অণুগল্পে এমন স্ফুলিঙ্গ ঝরে পরলো যে দুই পাহাড়ের উত্তপ্ত আগুনে সেখানকার জনজীবনে অন্ধকার অমানিশা এবং বিষাদের ছায়া নেমে এলো। সমসাময়িক সময়কালে যা আমরা পুলোয়ামায় ঘটে যেতে দেখেছি।
ঘটি, বরফ নদী, মহিষ এবং দুই বন্ধুর সাথে সেতুবন্ধের মস্করা, সবুজ ঘাসের বুকে দাউদাউ করে জ্বলে। কিন্তু কেন?
তবে কি, আদিম তৃষ্ণা মিটাবে বলেই এমন আগুন আগুন খেলা। ঘুমের ঘোরে মানুষ থাকে অচেতন। দুনিয়ার কোন খবরই তার কাছে থাকেনা। ঘুমের মধ্যে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়, কিংবা দৈবঘটনার প্রেক্ষিতে আগুন লেগে যায়, তখন বেঘোরে সব ঘরের মানুষ মারা যায় কিংবা প্রচণ্ড দগ্ধতা নিয়ে বাঁচার আর্তি আহাজারি, মানবিক আশ্রয় খুঁজে ফেরে অসহায় মানুষ।
গায়ের জোরে আটমাসের গাভিন গাইয়ের দুধ চাওয়ার যেমন তোড়জোড় ছিল, তেমনি ফেলে আদিম মানুষের আভাস পাহাড়ের দুকুলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নৃত্যে মানুষের জীবনের সুখ, স্বপ্ন, প্রেম, ভালোবাসা যেন এক ফুঁৎকারে নিভে গেলো।
হিংসার আগুনে কখনো জ্বলে পুড়ে ছাই, আবার হিম শীতলতার কারণে বরফ চাপায় মানুষের স্বপ্ন সুখের ঘর এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো। অণুগল্পে এমন স্ফুলিঙ্গ ঝরে পরলো যে দুই পাহাড়ের উত্তপ্ত আগুনে সেখানকার জনজীবনে অন্ধকার অমানিশা এবং বিষাদের ছায়া নেমে এলো। সমসাময়িক সময়কালে যা আমরা পুলোয়ামায় ঘটে যেতে দেখেছি।
পাঠক ভাবনা
পাহাড়, পেতলের ঘটি, বরফ নদী, মহিষ এবং দুই বন্ধুর সাথে সেতুবন্ধের মস্করা, সবুজ ঘাসের বুকে দাউদাউ করে জ্বলে। কিন্তু কেন?
তবে কি, আদিম তৃষ্ণা মিটাবে বলেই এমন আগুন আগুন খেলা। ঘুমের ঘোরে মানুষ থাকে অচেতন। দুনিয়ার কোন খবরই তার কাছে থাকেনা। ঘুমের মধ্যে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়, কিংবা দৈবঘটনার প্রেক্ষিতে আগুন লেগে যায়, তখন বেঘোরে সব ঘরের মানুষ মারা যায় কিংবা প্রচণ্ড দগ্ধতা নিয়ে বাঁচার আর্তি আহাজারি, মানবিক আশ্রয় খুঁজে ফেরে অসহায় মানুষ।
গায়ের জোরে আটমাসের গাভিন গাইয়ের দুধ চাওয়ার যেমন তোড়জোড় ছিল, তেমনি ফেলে আদিম মানুষের আভাস পাহাড়ের দুকুলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নৃত্যে মানুষের জীবনের সুখ, স্বপ্ন, প্রেম, ভালোবাসা যেন এক ফুঁৎকারে নিভে গেলো।
হিংসার আগুনে কখনো জ্বলে পুড়ে ছাই, আবার হিম শীতলতার কারণে বরফ চাপায় মানুষের স্বপ্ন সুখের ঘর এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো। অণুগল্পে এমন স্ফুলিঙ্গ ঝরে পরলো যে দুই পাহাড়ের উত্তপ্ত আগুনে সেখানকার জনজীবনে অন্ধকার অমানিশা এবং বিষাদের ছায়া নেমে এলো। সমসাময়িক সময়কালে যা আমরা পুলোয়ামায় ঘটে যেতে দেখেছি।
শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন লেখক এবং Channel Hindustanকে।