সবর্না চট্টোপাধ্যায়
কবি জন্ম
জলটুকু ঘিরে যেটুকু রহস্য ছিল,
তপ্ত বালির ওপর মরিচিকা হয়ে ভেসেছে তার ছাপ। দূর থেকে দেখেছি…
ভাঙনের পর ক্রমশ শহর গড়তে গড়তে আবার
ক্লান্ত হয়ে নড়ে গাঁথনির ইঁট। বুলিয়ে চলে বিশল্যকরণী।
বুকে তার নীলদীঘি…
শালুক ফুটলে ধাঁধাঁ লেগে যায় চোখে!
প্রতিবার পাথরপুজোর পর হালকা লাগে।
যেন আরও কিছু পথ অনন্ত ঈশ্বরের দিকে,
তবু যে মানবজন্ম
বড় কঠিন!
স্থিরতার সংঘর্ষ চলে। দগ্ধাতে দগ্ধাতে
দাবানল হয়ে উঠি।
অশোক বাগানে নীলকান্তমণি, পাহারা দিচ্ছে বিষধর!
সতর্ক হই। অক্ষর জন্মের আগে
বার বার কবিজন্ম হয়!

অসমাপ্ত
হাওয়ায় কেঁপে ওঠে দরজাটা…
চারদেওয়ালের জমে থাকা ধুলো
কালশিটে দাগ… কালো হয়ে আসে
রঙিন অ্যাকোরিয়াম!
ছারখার হয়েছি যতবার
ভেতরে শ্বাস নিয়েছে সেই ছায়া!
ক্রমশ এগিয়ে চলেছে জিভ…
আর নিস্তেজ শিকারের মতো ভেবেছি ‘ আমি সুখি’!
সে সুখে যতবার উনুনে দিয়েছি ধোঁয়া
সুস্বাদু খিচুড়িতে পুড়েছি
ধোঁয়া নিভে গেলে দেখি,
যে মুখে ভাত তুলে দিয়েছে মায়ের মতো করে
আসলে সেও প্রেমিক!
তবুও কি-জানি মাঝে মাঝে জল ভাঙে।
চিৎকার করে…
একটা শেষ না হওয়া ছবি!

এসেছি কুসুম
কিছুটা সৌহার্দ্য থাক…
তাতে বুঝে নেব ভুল।
এ আর এমন কী! যতবার সেজেছি কুসুম
রাত হল। রাত হল বলে ফাঁকা জলের কলকল…
ট্রেন ছুটে যায় দুরন্ত লাইনের ওপর
কেঁপে ওঠে নাভি!
আমি তবু তাকে দুরন্ত বলিনি কোনোদিন।
দমকা বাতাস এনেছিল সে বন্ধুর হাত…
হলুদ পাঁজরে যত ক্ষত
উড়ে গেল ঘুড়ির আশে পাশে !
আটা চাল শেষ। নিভেছে কেরোসিন বাতি
জুলুকের আঁকাবাঁকা পথ দেখা হয়নি আর
শিশুটির মুখে দানা তুলে দিতে দিতে
ভেবেছে বিধবা মা’টি,
এইবার বুঝি রোদ জল ভুলে হাত পেতে বলবে, সব ফেলে রেখে, ‘এসেছি কুসুম’।
…………………………
সবর্না চট্টোপাধ্যায় শূন্য দশকের কবি। প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘চারদেওয়ালি চুপকথারা’। সমসময়ে পরিচিত কবি সবর্না নিয়মিত বিভিন্ন দৈনিক, লিটল ম্যাগাজিন ও ওয়েবজিনে লেখালিখি করে থাকেন। কবিতার পাশাপাশি প্রবন্ধও লেখেন। কিশোর সাহিত্যেও বিশেষ আগ্রহ রয়েছে এই কবির।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news