হিন্দোল ভট্টাচার্য
দুটি চতুর্দশপদী
১
একাকী লেখার পাশে বসে থাকে নগ্ন কাপালিক-
ধুলোর সন্তান সেও, ধুলোতেই জীবন ফোঁপায়;
কোথাও যাওয়ার নেই তাই তার শাস্ত্রের অলীক
অন্ধকারে শান্তি নেই, মৃত্যুর ভিতরে যৌনতায়
কে সন্তান হে অনাদি তুমি জানো, লেখা কি প্রকৃত?
আদি যুগ থেকে যদি গান ভেসে আসে তার কাছে—
তবে সে কি পুনর্জন্ম? জাতিস্মর কলমে বঞ্চিত
কবির কান্নার কাছে অপমান যেভাবে বাঁচেন
ছোট ছোট ঘর তার; ঘরে কেউ নেই, বুড়ো মা-র
মুখের দিকেও আর তাকানো যায় না অবশেষে।
কে তোমাকে দিয়েছিল বীজধান? নিহত ভাষার
পাশেই সানাই বাজে। সব পথ শ্মশানেই মেশে।
কাপালিক অগ্নি গিলে উচ্চারণ করে সেই ধ্বনি;
একাকী লেখার পাশে সময়ের অন্ধকার যোনি।
২
হেমন্ত, তোমার গর্ভে সমস্ত বিষাদ পুড়ে যাক।
আমি এইটুকু জানি, আর কিছু বুঝি না এ দেশে।
কে এখনও কাছে আসে? অভিসার যায় না কোথাও।
ঘরে ফিরে যায় সব। রাস্তা তো সামান্য ফারাক!
হেমন্ত তোমার গর্ভে কারা কারা মরে গেল যেন!
জীবন মানেই মৃত্যু; মানে দুঃখ আদি-অন্তকাল।
অন্তে যে কার হাত টেনে নেবে, জানো কি সাহেব?
কাকে প্রশ্ন করতে চাও? উত্তরের জন্য এ হেন—
লোপাট করাই ভালো সবকিছু। গোটানোই কাজ।
গলাধাক্কা দিয়ে যায় পোষা সব ক্রীতদাস-দাসী!
সুন্দরের উপাসক, হেঁটে যাও নর্দমার জলে—
নিজেকে ভুলেই যাওয়া আমাদের রাতের রেওয়াজ।
কাপালিক, তোমাদের মুখেচোখে ছাইভস্মরেখা।
আমিও তো লিখে রাখি। অথবা আমাকে লেখে লেখা!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news