Breaking News
Home / সান-ডে ক্যাফে / লোক-সুরে লোকপ্রিয় ভূপেন হাজারিকা

লোক-সুরে লোকপ্রিয় ভূপেন হাজারিকা

পার্থসারথি পাণ্ডা:

ভূপেন যখন বি এ পড়ছেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে, তখনই তার সবচেয়ে ছোট ভাইটির জন্ম হল। ভূপেন সব থেকে বড়। তাঁর পরে আরও ন’টি সন্তানের জন্ম দিলেন বাবা। বাড়িতে তেমন সচ্ছলতা নেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনে দেওয়াটাও একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই অবস্থাতেও বাবার কাণ্ডজ্ঞানহীনতার জন্য জন্ম হচ্ছে একের পর এক ভাইবোনের। সবচেয়ে ছোটটির জন্মের খবর পেয়েই বেনারস থেকে বাড়ি এলেন ভূপেন। এসেই সরাসরি বাবাকে বললেন, বয়সের কথা যদি নাও ভাবেন, অন্তত সংসারের অবস্থার কথাটা ভেবে এবার আপনার থামা দরকার!
ছেলের এই উপদেশ বাবার মোটেই পছন্দ হল না, সেটা বুঝিয়ে দিতেই ছেলের গালে বসিয়ে দিলেন এক চড়। ভূপেন বাবার হাতে চড় খেয়ে ঘর ছাড়লেন না, উল্টে ভাইবোনদের ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। এতে একটা জিনিস হল, ভূপেনের এগারোতম ভাই বা বোনের জন্ম দিতে বাবা আর সাহস করলেন না।
ছোটবেলায়, বলতে গেলে শৈশবেই মায়ের দুধের সাথে পান করেছিলেন তিনি লোকগানের সুর। ব্যাপারটা ঘটেছিল এরকম ভাবে…
শৈশবে ভূপেন সবে চলতে শিখেছেন, কিন্তু মায়ের দুধ খাওয়া ছাড়েননি তখনো । এরকম একটা বয়সে একদিন কোথাও খুৃজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাঁকে, সারারাত খোঁজা হল তবুও পাওয়া গেল না। সকালে আদিবাসী মহিলারা মায়ের কোলে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়ে গেলেন হাসতে হাসতে। বলে গেলেন, তাঁদের আদরের ছেলেটি কোন ফাঁকে ঘর থেকে খানিক হেৃটে হামাগুড়ি দিয়ে আদিবাসী পাড়ায় চলে গিয়েছিল। তাঁকে দেখে আদিবাসী মায়েদের খুব ভাল লেগেছিল, বুকে আগলে রেখে ছিল সারা রাত। এই সারাটারাত সেই মায়েদের বুকের দুধ খেয়েছেন ভূপেন, আর হাঁ করে শুনেছেন তাঁদের লোকগানের সুর। এভাবেই মায়ের দুধের সাথে সংগীত তাঁর রক্তে এসে মিশেছে।
পাঁচ বছর বয়স থেকেই গান শিখেছেন ওস্তাদজীর কাছ থেকে। ক্লাস সিক্সে পড়ার সময়ই প্রথম সুর দিলেন গানে। বাবার লেখা গান। তাতে বসালেন অহমীয়া লোকগানের সুর। তারপর ১৯৩৫ এ এসে বছর এগারোর ভূপেন ‘জয়মতী’ ছবির মধ্য দিয়ে প্রথম ছায়াছবিতে গান গাইলেন। এভাবেই শুরু হয়েছিল তাঁর বর্ণময় জীবনের জয়যাত্রা।
পরবর্তীকালে আমেরিকার নিগ্রো লোকগানের প্রতি তাঁর একটা দুর্বলতা তৈরি হয়। পল রোবসনের গানে যে জনজাগরণের আহ্বান আছে তার উদ্দীপনায় ও অনুপ্রেরণায় অনেক গান তিনি তৈরি করেছেন। তাঁর প্রথম হিন্দি ছবি ‘আরোপ’। এই ছবির ‘ নেয়নোঁ মে দরপণ হ্যায়’ – একটি বিখ্যাত গান। এ গানটির সুর তিনি পেয়েছিলেন শিলং- এ বেড়াতে গিয়ে। এক খাসি রাখাল গুন গুন করে সুর ভাঁজছিল, সেই সুর তাঁর এত ভালো লেগে গেল যে, তাই দিয়েই বানিয়ে ফেললেন তাঁর প্রথম সর্ব ভারতীয় ছবির গান। গানটি শুধু বানালেনই না, তাই দিয়ে মাতিয়ে দিলেন শ্রোতাদের। এভাবেই শুধু অহমীয়া লোক গান নয়, সারা পৃথিবীর লোক গান তাঁর সংগীতের মধ্যে সম্পৃক্ত করে নিয়েছিলেন তিনি। তাই তাঁর গানে পাওয়া যায় একই সঙ্গে সমগ্র পৃথিবীর মাটির সুর। তাই তিনি প্রাদেশিক হয়েও সার্বজনীন। এই গুণের জন্যই নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীতের মতো ভূপেন হাজারিকার গানও অাজ স্বতন্ত্র ঐতিহ্য নির্মাণ করে পরিচিতি হয়েছে ‘ভূপেন্দ্র সংগীত’ নামে।

Spread the love

Check Also

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে বিয়ে, করোনায় মৃত্যু হল বরের দাদার

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বড় জমায়েত করে আচার-অনুষ্ঠান করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে প্রশাসনের। …

গুণমান খারাপ বুলেট প্রুফ জ্যাকেটের, চিনের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন …

শান্ত প্যানগং বিগত ৫০ বছর ধরে কেন ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনার বড় কারন? জানুন ক্লিক করে

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: ভারত ও চীনের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *