দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের সামনে এতদিন ধরে একটি পর্দা ফেলে রেখেছেন মুকুল রায়। চলতি মাসের ৯-১০ তারিখে বিভ্রান্তির সেই প্রহেলিকা সরিয়ে ফেলবেন তিনি।
মুকুল তৃণমূল ছাড়বেন কি ছাড়বেন না, সেই নিয়ে এক সময় ধন্দে ছিলেন সংশ্লিষ্ট মহলের একটি বড় অংশ। সেই সংশয় এখন কেটেছে। সেই সব মহলের নতুন সংশয়, মুকুল বিজেপিতে নাকি নতুন দলে? তিনি যে দল ছাড়ছেন সেই কথা মুকুল প্রকাশ্যে বলেছেন পঞ্চমীতে। তারপর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তর ‘যদি’ ও ‘কিন্তু’র উদ্ভব হয়েছে কোনও কোনও মহলে। মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, একটি রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে লড়ার জন্য আর একটি রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে থাকা প্রয়োজন। ‘আর একটি রাষ্ট্রশক্তি’ বলতে তিনি বিজেপিকে বুঝিয়েছেন, এই কথা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি। তবে রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে থাকা বলতে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নাকি নতুন দল নিয়ে এনডিএ-র অংশীদার হওয়া, তা পরিস্কার করেননি মুকুল। উল্টে তাঁর বিজেপি যাওয়ার প্রচারকে তিনি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছেন পুজোর দিনগুলিতে।
রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর চলার পথ কিংবা হাতের তাস দেখাবেন না বলেই মুকুলের এই ”মায়ার খেলা’!
পঞ্চমী থেকে লক্ষীপুজো, এই সময়কালের মধ্যেই বিজেপির জাতীয়স্তরের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, মুকুল রায় একজন দক্ষ সংগঠক। যদি দেখা যায় তাঁকে দলে নেওয়ার চেয়ে, দলে না নেওয়া বেশি লাভজনক তাহলে তাঁরা সেটাই করবেন।
এখন প্রশ্ন হল মুকুল বিজেপিতে গেলে ক্ষতি কী!
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুকুল বিজেপিতে গেলে, প্রথমত, রাজ্যের সংখ্যালঘুদের সিংহভাগের আশা তাঁকে ছাড়তে হবে। রাজ্যের সুন্নি মুসলিমদের, বিজেপির প্রতি যে মনোভাব এখনও পর্যন্ত রয়েছে, বলা বাহুল্য, তা বিজেপির জন্য মোটেই সুখকর নয়। আর মুকুলের হাতে আর যা কিছু থাক না কেন, এমন কোনও যাদুদণ্ড নেই যা ছোঁয়ানো মাত্রই রাজ্যের সংখ্যালঘুদের মন বদলে যাবে।
দ্বিতীয়ত, কংগ্রেস ও বামপন্থী দল থেকে বেরিয়ে যাঁরা একটি তৃণমূল বিরোধী মঞ্চে এসে দাঁড়াবেন ভাবছেন, তাঁরাও হয়তো সরাসরি বিজেপিতে যেতে দ্বিধান্বিত হবেন।
আর তৃতীয়ত, রাজ্যের বিরোধী শক্তির একযোগে বিজেপি যাত্রাকে সুবিধাবাদী রাজনীতি বলে দেগে দিতে মমতার সময় লাগবে না।
সবচেয়ে বড় কথা হল, মুকুল এসব জানেন না, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। তবে একই সঙ্গে আরও একটি বিষয়ও তিনি জানেন। শেষ কয়েক দশক ধরে, রাজ্য রাজনীতিতে সেই বিষয়টির নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানেন বলেই তাঁর ভবিষ্যৎ চলার পথটিকে,এতদিন ধরে, চারাগাছের মত আগলে রেখে বেড়া দিচ্ছেন মুকুল।
সোমবারের পর সেই বেড়া দেওয়ার কাজ সম্ভবত শেষ হবে মুকুলের! ততদিন মুকুল-বাগানে পদ্ম না পাতাবাহার, সেই দোলাচল নিজেই জিইয়ে রাখবেন চাণক্য।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
আরও পড়ুন :-
চাণক্যের চলন অনুসরণ করছে যুবরাজ! জেনে নিন তৃণমূলের ভেতরের কাণ্ড
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news