পার্থসারথি পাণ্ডা : 
তখন মাঝরাত। সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র ও তাঁর কাজের লোক রাধু বালিগঞ্জের রাস্তায় কুড়িয়ে পেলেন সদ্যজাত এক শিশুকে। কাপড়ে মুড়ে তাকে রাস্তার ধারে ফেলে গিয়েছিল কেউ, শরৎচন্দ্ররা যেই তার কাছাকাছি আসতেই প্রচণ্ড ক্ষিদেয় শিশুটি কেঁদে উঠেছিল। তার সেই কান্নার সুরে শরৎচন্দ্রের বুকের ভেতর কেমন যেন তোলপাড় করে উঠেছিল, সঙ্গে সঙ্গে সেই হতভাগ্য শিশুটিকে বুকে তুলে নিয়েছিলেন। বাড়িতে এনে সলতে দিয়ে তাকে মধু খাইয়েছিলেন, অত রাত্রে দুধ জোগাড় করে চামচ দিয়ে খাইয়ে ছিলেন নিজের হাতে। তার প্রাণরক্ষা করেছিলেন।
মানুষের প্রতি তাঁর সত্যিকারের এই ভালবাসা ও সহানুভূতির পরিচয় ‘পল্লী সমাজ’, ‘বামুনের মেয়ে’, ‘বিন্দুর ছেলে’, ‘অরক্ষণীয়া’ প্রভৃতি উপন্যাসে তো আছেই, এমনকি পশুপ্রাণিদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার পরিচয়ও পাওয়া যায় ‘মহেশ’, ‘দেওঘরের স্মৃতি’ গল্পে। রাস্তায় যেতে যেতে একটি বাড়িতে পোষা কাকাতুয়াকে ক্ষিদেয় ডানা ঝাপটাতে দেখে বাড়ির কর্তাকে ডেকে বেশ এক চোট বকে দিয়েছিলেন। রাস্তা থেকে একটি নেড়ি কুকুর তুলে এনে পোষ মানিয়েছিলেন, নাম দিয়েছিলেন ‘ভেলু’। তাকে ভালবাসতেন একেবারে সন্তানের মতো। তাই ভেলুর মৃত্যুতে শরৎচন্দ্র খুব আঘাত পেয়েছিলেন। এমনই দরদী মানুষ ছিলেন তিনি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news