দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রসেনজিৎ ধর :
কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার অপরাধে হাত কেটে নেওয়া… বাড়িতে সাদা থান পাঠিয়ে দেওয়া… সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড… বাম আমলের এ হেন রক্তাক্ত লাল সন্ত্রাসের কথা এখনও লোকের মুখে মুখে ফেরে। পশ্চিমবঙ্গে সেই দিন কী আবার ফিরেছে! অনেকে অনেকদিন ধরেই বলছেন ‘ফিরেছে বৈ কি! শুধু ফিরেছে বললে কম বলা হয়, ছাপিয়ে গেছে!’ পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ই রাজ্যে এমন কিছু হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে যার তুলনা বাম আমলের সেই সব দিনগুলোর সঙ্গেই চলে। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারা হোক (এখনও প্রমাণিত না হলেও অভিযোগের তির শাসক দলের দিকে) কিংবা মেয়েদের চুল ধরে রাস্তায় ফেলে মারা। এইসব ভয়াবহ দৃশ্য রাজ্যের মানুষ দেখেছে ও দেখছে। বনধের দিন তৃণমূল নেতার হাতে (পড়ুন পায়ে ) বিজেপির মহিলা কর্মীর মার খাওয়া এবং সেই অভিজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমকে বলার সময় সেই নেতার অনুগামীর হাতে আবার মার খাওয়ার ছবি যখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সময় আর একটি ঘটনা ঘটল। এই মৌষল পর্বের সাম্প্রতিকতম ঘটনা, ঘটল হুগলির ধনেখালিতে। সবিতা মণ্ডল। গৃহবধু। স্বামী রঞ্জিত মণ্ডল। কৃষক।ছেলে হরিভক্ত মণ্ডল। শিক্ষক। কাহিনীর শুরু এই হরিভক্তকে দিয়েই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন করে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন হরিভক্ত। ফেসবুকের একটি সামান্য পোস্ট যে বাবা-মা-পুত্রের সংসারে এমন বিভীষিকা এনে দিতে পারে তা কল্পনাতেও ছিল না গ্রামের এই শিক্ষকের। বৃহস্পতিবার রাতের দিকে সেই অকল্পনীয় ঘটনাই ঘটে গেল ধনেখালির বোসো গ্রামের মণ্ডল বাড়িতে। হরিভক্ত তখন বাড়িতে তাঁর কয়েকজন ছাত্রকে পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। রে রে করে ৩০-৪০ জনের একটি দল চড়াও হল তাঁদের বাড়ি। ছাত্রদের সামনেই চলল শিক্ষককে বেধড়ক মার। সঙ্গে লেখার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ আর হুমকি। হুমকি একটাই, বিজেপি করা বার করে দেব! মোদিকে সাপোর্ট করা ঘুচিয়ে দেব… ইত্যাদি। হরিভক্তের মোদি ভক্তিই যে এই ঠ্যাঙারে বাহিনীর রাগের কারন তা বুঝতে আর কারও বাকি রইল না। ততক্ষণে ছেলেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ছুটে এসেছেন তাঁর বাবা রঞ্জিত এমনকি মা সবিতাও। ছেলের সঙ্গে বাবা আর মায়ের ওপরেও যথেচ্ছ হাতের সুখ করে নিল মোদিনামে চণ্ডাল হওয়া লুম্পেনের দল। এরই মধ্যে মার খেয়ে কাতর সবিতা জল খেতে চেয়ে ছিলেন। আর যায় কোথায়! মুখে মমতার জয়ধ্বনি দেওয়া গুণ্ডারা সবিতার মুখে প্রস্রাব করল। প্রস্রাবে মুখ, মাথা, শরীর ভিজিয়ে আর্তনাদ করলেন সবিতা। রাতের অন্ধকারে বোসো গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা কন্যশ্রীর প্রচারের আলোয় ঢাকা পড়ে গেল। বিদেশের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকোর্ডিয়ান বাদনের শব্দে ঢাকা পড়ে গেল সবিতার আর্তনাদ… চাপা পড়া ঘটনা চাপা পড়েই থাকত, যদি না ঘটনার কথা জানতে পেরে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা পুলিশে খবর দিতেন।পুলিশ এসে পরিবারের সকলকে উদ্ধার করে প্রথমে ধনেখালি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সকলেই চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার খবর পৌঁছয় দিল্লিতে। আজ, সোমবার বিজেপি’র এক প্রতিনিধি দল চুঁচুড়া হাসপাতালে আহতদের দেখতেও আসেন। তবু হরিভক্তের চোখে ঘুম নেই। চোখ বুজলেই তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠছে একদল পুরুষ তাঁর মায়ের মুখে প্রস্রাব করছে। প্রস্রাবে স্নান করাচ্ছে তাঁর লাঞ্ছিত, অপমানিত, নিগৃহীত আর তৃষ্ণার্ত মাকে। ডাক্তারবাবুরা ঘুমের ওষুধ দিয়েছেন। তন্দ্রা আসছে। তন্দ্রা এলেই চমকে উঠছে হরিভক্ত। অস্ফুটে বলছে, মা…।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news