নিজস্ব সংবাদদাতা:
বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও শহরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি কম। অর্থাৎ খানিক ধীর লয়ে হলেও শীতের দিকে গুটি গুটি এগোচ্ছে হেমন্ত। আজ অঘ্রান মাসের দ্বিতীয় দিন। অর্থাৎ কিনা খাতায় কলমে বাংলার হেমন্ত ঋতুর অর্ধেক অস্তমিত। তবু, মনে হচ্ছে যেন দীর্ঘতীম এই হে-ম-ন্ত-কা-ল। হয়তো এর পেছনে রয়েছে আবহাওয়া তথা ঋতুর ভাঙা-গড়ার খেল। ভাঙা-গড়াটা এইরকম যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঠিকঠাক হলেও, ভোরে শীতের আমেজ দিলেও দিনের মধ্যভাগে, অর্থাৎ বেলা বাড়লে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার দাপটে বোধ হচ্ছে গ্রীষ্ম কাটেনি! এইসঙ্গে ওই সময়ে বাতাসে আদ্রতার অতিরিক্ত পরিমাণ। যাতে ঘেমে একসা নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় ভাগও!
অর্থাৎ একদিকে যখন শিউলি রেডি বাইরে কাঁটা ভেতরে রসবতী খেঁজুর গাছের বুক কেটে ঠিলে বসাবে বলে, অন্যদিকে তখন দুপুরে গরমকাল! সেই একই দিনে মধ্যরাতে পাতলা চাদরে কাজ হচ্ছে না বলে ঘুমের মধ্যে টেনে নিচ্ছি বিছানার চাদরটাও। এমন আজব খেল হয়তো প্রকৃতির পরিবর্তনে, যা আদতে ‘সভ্য’ মানুষের দান—গ্লোবাল ওয়ার্মিং। তদুপরি অগোছালো সবুজ-নীল গ্রহটিকে যতটা সম্ভব জীবের গুছিয়ে বাসযোগ্য করে তুলতে চাইছেন প্রকৃতিদেবতা।

ফলে শীতের আমেজ আজ বৃহস্পতিবারেও। সবখানে—শহর কলকাতা থেকে রাজ্যে। আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৪০ থেকে ৯৬ শতাংশ। (৯৬-টাই গোলমাল!) উল্লেখ্য,
গতকাল থেকেই শীতের হাওয়ায় নাচন লেগেছে যে তা টের পেয়েছে বাঙালি। হাওয়া অফিসও জানাচ্ছে, এই সপ্তাহটা এমনই থাকবে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, জম্মু কাশ্মীর ও হিমাচলে তুষার পাতের জেরেই এই ‘শীত’। উত্তর-পশ্চিম শীতল হাওয়ার রাজ্যে প্রবেশেও কোনও বাধা নেই। তাই সকাল-সন্ধে শীতের আমেজ যেমন আছে থাকবে, এমনকী তা আরও বাড়তে পারে। এই ‘শীত’ পাকাপাকি ‘শীত’ নয়, তাও জানাচ্ছে আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।
তাই হয়তো বাংলার ধানক্ষেতগুলো যাকে বলে জীবনানন্দ দাশের বিষাদ হেমন্তের সেই দৃশ্যকাব্য হয়ে ওঠেনি। ধান পাকলেও ঘরে ফসল তোলেনি কৃষক। কারণ ভেজা জমি। কারণ ঝড় বুলবুলের হানা এবং তথসংক্রান্ত নিম্নচাপের অকাল বৃষ্টি। ওই আচমকা ঝঞ্ঝার কারণেই হয়তো ‘হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান’ বলছে শীত, মনে হচ্ছে বাঙালির।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news