কিশোর ঘোষ:
হেমন্ত ফুরোতে চলল, শীতের দেখা নেই। আবহাওয়া দফতর বলছে, এমনটাই চলবে। এমনকী অঘ্রাণ ফুরোতেই পৌষে নাকি আরও গরম পড়তে পারে। এবার আর লেপ-কম্বল কাজে লাগবে না বলেই অনুমান। অন্যদিকে আগামী এপ্রিল-মে’তে প্রবল শীত পড়বে বলেও জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। খেঁজুর গাছের বুকেও সে সময়ই রস আসবে। যথারীতি ঝোলা, পাটালিও বাজারে মিলবে। মা কাকিমারা সাধ করে পিঠে-পুলিও বানাতে পারবেন নিশ্চিত। চাঞ্চল্যকর এই সংবাদ জেনে বিরাট চাপে পড়ে গিয়েছে ব্র্যান্ডেড বাজারপতিরা। কারণ তাদের যে শীতের প্রচুর প্যাকেজ ছিল, রঙ-বেরঙের অফার। এমন ছাড়, যা শুনলেই যার ২৫টা সোয়েটার সে ২৬ নং সোয়েটারটি কিনতে পাগল হয়ে ওঠে। যার একটাও (সোয়েটার) নেই, শীতে কুঁকুড়ে কুকুরের মতো কষ্ট পায় যে— তাদের নিয়ে ভাবারই সময় থাকবে না সচ্ছল মাথার ভেতরে, এমন এমন অফার! কিন্তু শীত না পড়লে যে…!

হ্যাঁ হ্যাঁ, গোটাটাই গালগল্প। নভেম্বর ফুরোতে চলল তবু শীতের দেখা নাই বলে বাঙালির বিপুল আক্ষেপটা সত্যি, সেই আক্ষেপ ও আশঙ্কার সাদা ক্যানভাসে কল্পনার হালকা ব্রাস স্ট্রোক দেওয়া হয়েছে ভূমিকায়। আসলে শীতে শীতের অভাবে মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে—৪৮ ঘন্টা পর ডিসেম্বরে পড়ে যাবে! অথচ সকালে রাতে নিদেন মাফলার, মাঙ্কি ক্যাপের দেখা নেই! কিংবা বেলা গড়ালে পশমের জামাটা? শহর ও শহরতলির পরিচিত শীতকালীন আবহাওয়াটাই উধাও! নভেম্বরের শুরুতে তবু একটু একটু করে পড়ছিল। বর্তমান পরিস্থিতি পুরো উল্টো। এক লাফে তাপমাত্রা বেড়েছে অনেকটা। অতএব, হিমের পরশটরশ এখন ফাঁকা আওয়াজ। কিন্তু কেন? আবহাওয়া দফতর বলছে, শীতের পথে ভিলেন হয়ে উঠেছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা।
সবার জানা যে, কাশ্মীরের বরফ হাওয়াই সুদূর এই পূর্ব ভারতেও শীতের আমেজ আনে। তো সে বাতাসকে বুধবার পর্যন্ত আটকে রেখেছিল পশ্চিমী ঝঞ্চা। তারপর দায়িত্ব নিয়ে কাজটা করছে আফগান পাক বায়ুমণ্ডলে তৈরি হওয়া আরেক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। সব মিলিয়ে বৈঠকখানায় প্রবেশ করতে না করতেই একটু আসছি বলে দোর ডিঙিয়ে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছে শীত! চিন্তিত বিজ্ঞানীরা। তবে সামান্য আশার আলো নাকি দেখছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, যদি এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বায়ুস্তরের কিছুটা নিচ দিয়ে যায়, তাহলে তার হাত ধরে কাশ্মীর-হিমালয়ের শীতল হাওয়ার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে ঢুকতে বাঁধা থাকবে না। আর সেই আবহাওয়া বিজ্ঞান যদি না দানা বাঁধে? তবে? তবে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে শীত তো দুর, শীতের আমেজও কাটা যাবে শহরবাসীর জীবন থেকে।

এই আজ যেমন, তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে প্রায় ২০ ডিগ্রি। শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস । যা স্বাভাবিকের থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। ‘শয়তান’ সেই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা।
তবে এটা অদ্ভুতুড়ে, যে এক পশ্চিম ঝঞ্ঝা আরেক ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’কে চ্যালেঞ্জে ফেলে দিল! এই যে পাইকারি হারে শীতের অফারের মায়া দিয়ে মুনাফা কামানোর জন্য রেডি ছিল কত কত ব্র্যান্ড, কত কোম্পানি, এখন তাদের কী হবে?
উত্তর জানে ‘ভগবান পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news