নীল রায় :
এমন তালিকা “ওয়েটিং লিস্ট” ই বটে! প্রাক্তন সিপিএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠ কংগ্রেসে যোগ দিতে চেয়েও পারছেন না। এ বিষয়ে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের আপত্তিতে বিষয়টি ক্রমেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সোমেন মিত্রের। সূত্রের খবর,লক্ষ্মণ শেঠের অনন্ত অপেক্ষার মাঝেই আরও বেশ কয়েকজন সিপিএম নেতা কংগ্রেসের যোগ দিতে চেয়ে “ওয়েটিং লিস্টে”। এদের মধ্যে রয়েছেন লক্ষ্মণ শেঠের মতই বাম জমানায় “কুখ্যাত” হয়ে ওঠা গড়বেতার প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ ও উত্তর ২৪ পরগনার ভেড়ি এলাকার ত্রাস মজিদ মাস্টার। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে গড়বেতা থেকে আর টিকিট পাননি একদা ডাকাবুকো সুশান্ত। বিধায়ক হিসেবে ১৮০ দিন কারাবাসে কাটানোর পর রাজনীতি থেকে ক্রমশ পিছিয়ে যেতে শুরু করেছিলেন তিনি। আদালতের নির্দেশে গত কয়েক বছর ধরে কলকাতাতেই থাকতে হচ্ছে তাকে। ফলস্বরূপ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন তিনি।
একই হাল মজিদ মাস্টারের, উত্তর ২৪ পরগনার ভেরি এলাকার রাজনীতিতে “বাঘে গরুতে একঘাটে জল খাওয়ানো” নেতা এখন ঘরছাড়া। এখন ভাই আকো ডাক্তারকে নিয়ে নিজের শাসনের বাড়ি ছেড়ে বারাসাতের ভাড়া বাড়িতে থাকেন। লাল পার্টি ছেড়ে তেরঙ্গা পতাকা হাতে নেওয়ার বাসনা তাঁর মনেও। দল ছেড়ে কংগ্রেসে আসার অপেক্ষায় সিপিএম নেত্রী মিনতি ঘোষও, জানাচ্ছে বিধান ভবনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
অতি সম্প্রতি বামফ্রন্ট সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী থাকা আব্দুস সাত্তার কংগ্রেসের যোগ দিয়েছেন। তাঁর ক্ষেত্রে দলের অন্দরে কোনও বাধা পেতে হয়নি সভাপতি সোমেন মিত্রকে। কিন্তু লক্ষ্মণ শেঠকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই বাধার সম্মুখীন তিনি। একদিকে আব্দুল মান্নান, অন্যদিকে অধীর চৌধুরী। লক্ষ্মণ শেঠকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন তারা। মান্নান সাহেবের মন গলাতে একবার নিজেই উদ্যোগী হয়েছিলেন তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ। বিরোধী দলনেতাকে ফোন করে কংগ্রেসের যোগ দিতে চেয়ে ছিলেন লক্ষণ। দলে নেওয়ার সম্মতি আদায় তো দূরঅস্ত, চাঁপদানির বিধায়কের জোর ধমক শুনতে হয়েছিল তাকে। তাই ঘরোয়া প্রতিবাদের জেরে ইচ্ছা সত্ত্বেও লক্ষণের হাতে “হাত মার্কা তেরঙ্গা” পতাকা তুলে দিতে পারছেন না সোমেন। তারই মাঝে একঝাঁক সিপিএম নেতা “ওয়েটিং লিস্টে” অপেক্ষারত।
প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে জোর গুঞ্জন, লক্ষ্মণ শেঠকে দলে নিতেই কালঘাম ছুটেছে সোমেন মিত্রের। এরপর সুশান্ত ঘোষ, মজিদ মাস্টারের মতো “কুখ্যাত’ নেতাদের দলে যোগদানের কথা উঠলেই প্রতিবাদের সুর সপ্তমে চড়াবেন সোমেন বিরোধী কংগ্রেসের নেতারা। তাই “ওয়েটিং লিস্ট” দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলেও, এখনই কোনও সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে পারছে না পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। এ প্রসঙ্গে সোমেন মিত্রের বক্তব্য, “এখনই কাউকে যোগদান করানো হচ্ছে না। যখন হবে তখন অবশ্যই জানতে পারবেন।” আর বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান জানাচ্ছেন, “আমার অবস্থান আমি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও এআইসিসি সভাপতিকে জানিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে নতুন করে আমার কিছু বলার নেই।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news