নীল বণিক
দেবী পক্ষে কৌশল বদল করল বিশ্ব হিন্দু পারিষদ। দশমীর দিন অস্ত্র পুজো রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া অবস্থানের মোকাবিলা করতে এবার মোক্ষম চাল দিল বিশ্বহিন্দু পরিষদ। যা সামলাতে রীতিমত বেকায়দায় পড়েছে প্রশাসন। প্রকাশ্য রাস্তায় অস্ত্রপুজা করার, পুরোন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে, পরিষদ এখন ঠিক করেছে বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরে অস্ত্রপুজা করবে। এমনকি সম্ভ্রান্ত বাড়ির পুজোতেও অস্ত্রপুজো করার পরিকল্পনা করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের।
আর এখানেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনের। রাস্তায় অস্ত্রপুজো হলে তা রুখে দেওয়া সহজ হত বলেই মনে করছে প্রশাসন। মঠ বা মন্দিরে প্রবেশ করে কিংবা কোনও বনেদি বাড়িতে গিয়ে অস্ত্রপুজা বন্ধ করা দুষ্কর হবে বলেই মনে করছে পুলিশ। আর উল্টোদিকে মঠে, মন্দিরে বা বাড়ির পুজোয় অস্ত্রপুজা করলে পুলিশ যেমন অসুবিধায় পড়বে একই সঙ্গে পরিষদের নেতারা এইসব পুজোয় উপস্থিত থেকে নিজেদের জনসংযোগ বাড়াতে পারবেন।

পুলিশ যদি প্রাচীন মঠ গুলিতে অস্ত্রপুজা করতে না দেয়! সেই আশঙ্কাও যে পরিষদ করছে না তা নয়। এমন কিছু হলে অবশ্য তারা আদালতে যাবেন বলেই স্থির করেছেন। অন্যদিকে পুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রীর ‘ফরমান’ মেনে অস্ত্রপুজা আটকাতে পুলিশ কর্তারা এখন আইপিসি আর সিআরপিসির পাতা ওল্টাতেই ব্যস্ত। যদিও পুলিশের এই অতিসক্রিয়তা পাত্তা দিতে নারাজ বিশ্বহিন্দু পরিষদের, পূর্বাঞ্চলীয় নেতা, ক্ষেত্রীয় সম্পাদক শচীন্দ্র নাথ সিংহ। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দেশের আইন মেনেই : কার্যক্রম করে। আর হিন্দুদের দেবদেবীর পুজা করা কি মমতার রাজ্যে অপরাধ? মুখ্যমন্ত্রী অযথাই রাজ্যের হিন্দুদের পুজার ভিতর নাক গলাচ্ছেন”।
যদিও একটি প্রশ্ন এর পরেও রয়ে যাচ্ছে। রাজ্যের মঠ ও মন্দিরের উপর সরকার ও শাসক দলের প্রভাবও কিছু কম নয়, আর এটা পরিষদের অজানাও নয়। তাই কোনওভাবে তৃণমূল এখন কোনও মন্দির বা মঠের ওপর প্রভাব বিস্তার করে কিনা, সেদিকে নজর রাখার চেষ্টা করছে বিশ্ব হিন্দু পারিষদ।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news