নিজস্ব সংবাদদাতা:
শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিলেন রিজার্ভ ব্যাংকের উর্জিত প্যাটেল। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংঘাত-বিতর্ক জোরালো হল। জন্ম নিল একরাশ প্রশ্নেরও। আজি উর্জিত পদত্যাগ পত্র পাঠান সরকারের কাছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রিজার্ভ ব্যাংকের কাজে সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিরোধই মূল কারণ। বিমুদ্রাকরণের সময় তাঁর নীরবতা নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। তাঁর পরেও সরকারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চাপ থাকেনি।
আরবিআই-এর তহবিলের একটা অংশ সরকারি কোষাগারে স্থানান্তরিত করার জন্য কিছুদিন ধরেই চাপ ছিল উর্জিতের ওপর। এর জন্য আরবিআইয়ের নীতিগত কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। সেই পরিবর্তনে সায় ছিল না উর্জিতের। ঋণের চাপে দুর্বল ব্যাংকগুলির ওপর যেভাবে শর্ত আরোপ করা হয়, তা নিয়ে বিরোধ বাধে। বহুদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। এই নিয়ে বিরোধীরা যে সরকারকে চেপে ধরবে তা বলাই যায়।
উর্জিত তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করছি। রিজার্ভ ব্যাংকের হয়ে কাজ করতে পেরে গর্বিত। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
উর্জিত ছিলেন ২৪ তম গভর্নর। রঘুরাম রাজনের মেয়াদ শেষের পর তাঁকে নিয়োগ করা হয়। তার আগে তিনি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন উর্জিত। স্বাভাবিক ভাবে উত্তাল দিল্লি। চলছে চাপানউতোর।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্যুইট করে উর্জিতের প্রশংসা করেন। বলেন, তাঁর প্রজ্ঞা ও মেধা দেশের শীর্ষ ব্যাংককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রশংসা করেন অরুণ জেটলিও। এই নিয়ে তোপ দাগতে ছাড়েনি বিরোধীরা। রাহুল থেকে মমতা আক্রমণ শানিয়েছেন সবাই। মমতা বলেন, এটা গভীর উদ্বেগের বিষয়। এনিয়ে উর্জিতের পূর্বসূরী রঘুরাম রাজনের মন্তব্য তাত্পর্যপূণ। তিনি বলেন, গোটা দেশের বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত।
এই মন্তব্য সরকারকে যে অস্বস্তিতে ফেলবে তা বলাই যায়। বিরোধীরা এখনই অস্ত্রে শান দিতে শুরু করেছে। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু মঙ্গলবার। বিরোধীরা এই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে চেপে ধরবে তা বলাই যায়। অতএব, উর্জিত নিয়ে নতুন সঙ্কটে পড়লেন মোদী। কীভাবে তিনি এখন বিরোধীদের মুখ বন্ধ করেন সেটাই দেখার। কারণ সামনেই লোকসভা ভোট।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news