নিজস্ব প্রতিনিধি।
চিন এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিত আঁতাত যথেষ্ট পোক্ত। পাকিস্তানের টেরর ফান্ডিং-এ চিনের প্রত্যক্ষ মদত আছে এমন অভিযোগও উঠেছে বারবার। অথচ নিজেদের দেশেরই প্রত্যন্ত প্রদেশ শিনজিয়াং-এ উইঘর মুসলমানদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার চালিয়ে আসছে চিন। সম্প্রতি উইঘরদের নিয়ে চিনের একটি গোপন রিপোর্ট ফাঁস হয়ে যাওয়ায় দেখা গিয়েছে অন্যান্য কারণের সঙ্গে এঁদের ওপর অত্যাচার চালানোর একটা বড় কারণ, চিন মনে করে সুযোগ পেলেই উইঘর মুসলিমরা চিনে উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে পারে।
কারাকাক্স তালিকা নামে এই গোপন নথি অনুসারে উইঘর-এর মুসলিমরা দাড়ি রাখবে কিনা, নামাজ পড়বে কি না, মসজিদে যাবে কি না মুখ ঢেকে রাখবে কি না তাঁদের কটি সন্তান হবে সবই ঠিক করে দেবে রাষ্ট্র। এর ভিত্তিতেই ৩০০ মুসলমানকে তাকলামাকান মরুভূমিতে ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখেছে তাঁরা। চিনের দাবি সবটাই তাঁরা করে সন্ত্রাসবাদ দমন করার জন্য। কী ভাবে ঠিক করা হয়, কে সন্ত্রাসবাদী আর কে নয় ? উলিঘর মুসলমানদের বাড়ি বিশ্বাসযোগ্য দেখতে লাগছে না অবিশ্বাসযোগ্য ? তাঁদের ব্যবহার ভাল না মাঝারি ? তাঁদের পরিবারের ধর্মবিশ্বাস গোঁড়া না উদার ? এঁরা কেউ বিদেশি ওয়েবসাইটে কখনও ক্লিক করেছেন না করেন নি এসবই নাকি এঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার দরকার আছে না নেই ত ঠিক করে দেয়। ডক্টর আদ্রায়ান জেং নামে ওয়াশিংটনের ভিক্টিমস অফ কমিউনাল মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর এক সদস্যের মতে কীভাবে চিন প্রতিনিয়ত মুসলিমদের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করছে এই রিপোর্ট তার প্রমাণ। এই রিপোর্টে দেখানো হয়েছে হেলচেম নামে এক মহিলাকে তাকলামাকানের ‘শিক্ষাকেন্দ্রে’ পাঠানো হয়েছে তিনি এক সময় মুখ ঢেকে রাখতেন বলে।
একইভাবে নুরমেমেট নামে এক ব্যক্তিকে ধরা হয়েছে একটা বিদেশী ওয়েবসাইটে ক্লিক করার ফলে। যে তথ্যভাণ্ডার ফাঁস হয়ে সামনে এসেছে তাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে উইঘরদের ধর্ম তাঁদের সন্দেহ করার মূল কারণ।শিনজিয়াং প্রদেশে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ। তাই এঁদের ওপর হওয়া নির্যাতন সেভাবে খুব কমই এসেছে বিশ্বের সামনে। চিন অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের বক্তব্য রাষ্ট্রের স্বার্থে বাধ্য হয়ে এই সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news