নীল রায়।
ক্রমেই কী বধ্যভূমি হয়ে উঠছে ব্যারাকপুর (Barackpur) শিল্পাঞ্চল? শারদোৎসবের আবহেই দুজন খুন হয়ে গেলেন ওই এলাকায়। বুধবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হলেন বছর পঞ্চাশের অমরনাথ তেওয়ারি। এদিন রাতের খাওয়া সেরে হাজিনগরের বাসন্তীতলায় নিজের বাড়িতে বসেছিলেন তিনি। তাঁর ছেলে আশু তেওয়ারি ছিলেন ঘরেই। আচমকাই কয়েকজন দুষ্কৃতী আশুর নাম ধরে ডাকতে ডাকতে ঘরে প্রবেশ করে। আশুকে মারধর শুরু করলে বাধা দেন তাঁর বাবা। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায় দুষ্কৃতীরা। জানা গিয়েছে, আশুকে বাঁচাতে এগিয়ে যান অমরনাথ। সেই সময়ই দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ওই দুষ্কৃতীরা।
গুলির শব্দ ও চিৎকার শুনে ছুটে আসে প্রতিবেশীরা। তাঁরাই রক্তাক্ত অমরনাথ তেওয়ারিকে নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে (Naihati State General Hospital) নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে ব্যারাকপুর কমিশনারের পুলিশ। নিহত অমরনাথ তেওয়ারির পুত্র আশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কি কারনে তাঁর ওপর আক্রোশ মেটাতে এসেছিল দুষ্কৃতীরা তা জানতে চাইছে পুলিশ প্রশাসন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট।
প্রসঙ্গত, দশমীর দিন গভীর রাতে কাঁচরাপাড়া এলাকায় খুন হয়েছিলেন একজন তৃণমূল কর্মী। নিহতের নাম রাজু কুরমী (৩৮)। লোকসভা ভোট পর্ব মিটে যাওয়ার পর থেকেই বিজেপি-তৃণমূল (BJP-TMC) সংঘর্ষের ঘটনায় সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছিল ব্যারাকপুর। রাজনৈতিক সংঘর্ষ এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছিল যে মাথা ফেটে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল এলাকার বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংকে (Arjun Singh)। কিন্তু শারদোৎসবের মাঝেই যে এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে যাবে তা আঁচ করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। ব্যারাকপুরে স্থানীয় জনতা এমন ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news