চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের দুই গাড়ির চালকের দেহে পাওয়া গেল নভেল করোনা ভাইরাস (Coronavirus)। প্রশাসন সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। এই খবর পাওয়ার পরই নবান্ন ফের স্যানিটাইজ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এর ফলে বৃহস্পতিবার থেকে দু’দিন বন্ধ থাকবে নবান্ন (Nabanna)। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “আমাদের দু’জন ড্রাইভারের দেহে করোনা ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। তাই আগামী দু’দিন গোটা অফিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সময় আমরা কেউই অফিসে আসব না।” মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ মহিলা আধিকারিকের বিদেশ ফেরত ছেলের শরীরে কোন ভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছিল। যার জেরে ঐ উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও তাঁর পরিবারকে ভর্তি হতে হয়েছিল বেলেঘাটা আইডিতে (Beleghata ID)। এমনকি হোম কোয়ারেন্টাইন যেতে হয়েছিল রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেবারও দুদিন নবান্ন বন্ধ রেখে স্যানিটাইজার কাজ হয়েছিল। আবারও মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের দুই গাড়ি চালকের শরীরে করোনা সংক্রমণ মেলায় নবান্নের কাজকর্ম বন্ধ করে স্যানিটাইজ করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্য ও মুখ্যমন্ত্রীর পাড়াতেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)। গত বৃহস্পতিবার তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং তাতে কোভিড পজিটিভ আসে। মন্ত্রী ছাড়াও তাঁর স্ত্রী ও পুত্র করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হন। প্রসঙ্গত, সুজিত বসুর বাড়ির পরিচারিকা প্রথমে করোনা সংক্রমিত হন। সেই সূত্রেই তাঁর স্ত্রী ও তিনি একসঙ্গে কোভিডে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রথম দিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে তার জ্বর আসায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় বিধাননগরের বিধায়ককে। ওই হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন তাঁর আরও এক সতীর্থ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ার বাসিন্দা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা ফলতার বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ (Tamonash Ghosh) কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। করোনা সংক্রমণ নিয়ে প্রথমে তাঁকে আলিপুর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু পরে এই তৃণমূল (TMC) বিধায়ককে স্থানান্তরিত করা হয় বাইপাসের ওই বেসরকারি হাসপাতালে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকেন তমোনাশ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীর পাড়াতে একাধিক করোনা সংক্রমনের হদিস মিলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত হয়েছে সাধারণ মানুষের। এলাকা স্যানিটাইজ করার পাশাপাশি, চলছে থার্মাল চেকিং।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে ৩৪০ জনের শরীরে মিলেছে কোভিড ১৯। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে রাজ্যে করোনায় মৃত বেড়ে হয়েছে ২৭৩। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে মোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৫০৮। বুধবার পর্যন্ত রাজ্যে করোনায় অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫৮৩। বাংলায় করোনা মুক্ত হয়েছেন ২৫৮০ জন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news