দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাহলে কি জিরো বাল্বেই সীলমোহর দিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে?
বিষয়টা আপাত ভাবে দেখলে মনে হতেই পারে সংসদে রাহুল সম্পর্কে মোদির ‘টিউব লাইট’ মন্তব্যের বিরোধিতা করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা, একদা কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)। তবে তাঁর পুরো মন্তব্যটি কিঞ্চিৎ কাটাছেঁড়া করলে বেরিয়ে আসে অন্যরকম ব্যখ্যা। খাড়গে বলেছেন, মোদি যখন রাহুলকে টিউবলাইট বলে মস্করা করলেন তখন তিনি যদি সংসদে থাকতেন তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জিরো পাওয়ারের বাল্ব বলতেন। কারন টিউব লাইট জ্বলতে দেরি করলেও আলো দেয় বেশি। জিরো পাওয়ারের বাল্ব আলো দিতে পারে না। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে খাড়গে বলেন, “আমি যদি সংসদে থাকতাম তাহলে যোগ্য জবাব দিতাম প্রধানমন্ত্রীকে। বলতাম জিরো বাল্বের থেকে টিউবলাইট অনেক ভালো। কারণ জিরো বাল্ব একবারের জন্যও বেশি আলো দিতে পারে না। টিউবলাইট একটু শুনতে সময় নিলেও রোশনাইয়ে ভরিয়ে দেয়।”
দল রাহুলের পাশে দাঁড়ানো খাড়গের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট , যে প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব খাড়গের আছে তা রাহুলের নেই। কারন খাড়গে নিজেই বলছেন তিনি থাকলে জবাব দিতেন। একটু মনোযোগ দিলেই বোঝা যাচ্ছে, যে কথা খাড়গে না বলেও বলেছেন, তা হল যে জবাব খাড়গে দিতে পারতেন সে জবাব রাহুল দিতে পারেননি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন বারবার উঠে বাধা দিতে থাকা অধীর চৌধুরীও সেই প্রয়োজনীয় বুদ্ধিদীপ্ত জবাবটি দিতে পারেননি। আর একথা সবারই জানা যে বা যারা কোনও বিষয় বুঝতে বেশি সময় নেয়, প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করে তাদেরই মস্করা করে টিউবলাইট বলা হয়।
সংসদে বারংবার বাধা না পেলে, এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন হট্টগোল না হলে সেদিন রাহুলের প্রসঙ্গ মোদির বক্তব্যে আসত কি না বলা কঠিন। অধীরদের বাধাদান, তাঁর কথার মাঝখানে টিভির টক শোয়ের ঢঙ-এ কথা বলে ওঠা, এগুলো চলতে থাকলে সেদিন অন্য কোনও অযাচিত প্রসঙ্গ এখনই আসত কিনা তা এখন আর নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রী একেবারেই হালকা মেজাজে, রসিকতা করে হট্টগোল ‘ট্যাকল’ করছিলেন।
তাঁর কথায়, অধীর তো বটেই রাহুলের পাশে বসা সাংসদরাও হাসছিলেন। এমনকি মহারাষ্ট্রের চাঁদপুরের সাংসদ বালুভাউ ধানোকার, যাঁর আর এক নাম সুরেশ, তিনিও হাসি ধরে রাখতে পারছিলেন না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী একসময় বলেও ফেলেন, ‘আরে সুরেশজি আপনি কেন হাসছেন!’ রাহুলের চারপাশের দৃশ্য যখন লোকসভা টিভি মারফৎ দুনিয়া দেখছে, রাহুল তখন নখ খাচ্ছিলেন।
খাড়গে যথার্থ বলেছেন, মোদি যেভাবে হাসতে হাসতে রাহুলকে টিউবলাইট বলেছেন সেভাবেই মোদিকে বলা যেতে পারত জিরো বাল্ব। কিন্তু রাহুল বা তাঁর বৃত্তের কারওরই এই রসবোধ, এমন উপস্থিত বুদ্ধি, সর্বোপরি সংসদের লড়াই সংসদেই লড়ে নেবার দক্ষতা নেই। মোদি টিউবলাইট বলেছিলেন খাড়গে সম্ভবত সে কথাই প্রমাণ করলেন। অভিজ্ঞ খাড়গে আরও বলেন, “জিরো বাল্ব আমাদের দেশের জন্য কি করছে সারা দুনিয়া দেখছে। ৪৫ বছরের ইতিহাসে বেকারত্বের হার সবচেয়ে খারাপ জায়গা গিয়েছে। দেশের অর্থনীতির কথা এখন আর কারও অজানা নয়।
খাড়গে এবার নির্বাচনে জয়ী হননি। গুলবার্গের প্রাক্তন সাংসদ কিন্তু তাঁর পুরোনো অভ্যাস ভোলেননি। তিনি বলেন, “কালো টাকা উদ্ধার সহ যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছিলেন তার একটিও তিনি পালন করতে পারেননি। তাই অন্যকে টিউবলাইট বলে অপমান করা বন্ধ করুন।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news