Breaking News
Home / TRENDING / গুলজারের রোমান্টিক সিনেমার মেজাজে ভোট হল দিল্লিতে, আমাদের রাজ্যে কেন হয় না?

গুলজারের রোমান্টিক সিনেমার মেজাজে ভোট হল দিল্লিতে, আমাদের রাজ্যে কেন হয় না?

সারাদিন সিলি পয়েন্ট থেকে রাজধানীর ভোট দেখে লিখলেন সুমন ভট্টাচার্য

হঠাৎ দেখলে মনে হতে পারে বেইজিং নয়, করোনা ভাইরাস বোধহয় দিল্লিতেই হানা দিয়েছে!

এত ফাঁকা, জনশূন্য শেষ কবে দেখেছি রাজধানী ইন্দ্রপ্রস্থকে?

কোনও উত্তেজনা নেই, শোরগোল নেই, সকালের মিঠে রোদের কনটপ্লেস যেন অনুপম রাযের গানের মতো, স্মৃতিমেদুর রোমান্টিকতায আক্রান্ত। যদি ভাবেন এটা কোনও বিচ্ছিন্ন চিত্র, তাহলে ভুল করবেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নিজামুদ্দিন বা অধুনা আলোচনার কেন্দ্রে থাকা জামিযা মিলিয়াতেই বা উত্তেজনা কোথায়? একেবারে মিঠে রোদে নিজামুদ্দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের ক্যাম্প অফিসগুলো দেখলে মনে হচ্ছে, দেশের রাজধানী দখলের লড়াই নয়, একটু দূরে মাজারে শুয়ে থাকা মানুষের মধ্যে গালিবের গজল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে! এতই প্রেম এবং প্রীতি পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে আড্ডায়, ভোটার নিয়ে আসায় অভিজাত কনটপ্লেস,পাঞ্জাবি প্রধান রাজিন্দরনগর কিংবা যমুনাপারের আবাসন এলাকায ভোট দেখলে একদিকে যেমন ভারতের গণতন্ত্রের জন্য শ্রদ্ধা হবে, তেমনই আমাদের নিজের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জন্য মন খারাপ হযে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে যেখানে একটা স্কুল পরিচালন সমিতির নির্বাচন হলেও দাদারা বাইরের থেকে ছেলে ঢুকিয়ে দেন কিংবা যশপ্রীত বুমরার মতো ধারাবাহিকতায় বোমা গুলি পড়তে থাকে, সেখানে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের রাজধানীতে ক্ষমতার লড়াই এত রক্তপাতহীন? বুলেট এবং ব্যালটকেও অতিক্রম করে শুধু সুইচ টেপাতে পৌছে যেতে পেরেছে?


অনুব্রত মন্ডল বা আরাবুল ইসলামরা এই ভোট দেখলে যে নিজেরাই নিজেদের নিয়ে লজ্জা পেতেন, সে কথা তো নিশ্চিন্তে বলে দেওয়াই যায়। কিন্তু বুঝতে পারতেন কি সত্যজিত রায়ের নায়ক সিনেমায় উত্তমকুমারের সেই আইকনিক সংলাপের মতো আমজনতাও যে কোনও সময় তাঁদের বলে দিতে পারে, আপনাদের রাজনীতির স্টাইল টা পুরনো, বাতিল হয়ে গিয়েছে। এবার ওই বুথ দখল, মারামারির রাজনীতিটা নিযে গর্ব করা ছাড়ুন। চড়াম চড়াম, নাড়ু বাতাসা দেওয়ার বাণীগুলো আজকের এই ফেসবুক, টুইটারের যুগে টেপ রেকর্ডারে গান শোনার মতোই প্রাগৈতিহাসিক।

যে নির্বাচন কে ঘিরে এইরকম তীব্র আক্রমণ প্রতি-আক্রমণ ছিল, ছিল তীব্র মেরুকরণও, সেই নির্বাচন বা ভোটপর্ব সলমন খানের অ্যকশন ফিল্মের পরিবর্তে গুলজারের রোমান্টিক ক্লাসিক ইজাজত এর মতো দেখতে লেগেছে কেন? লেগেছে কারণ দিল্লির মানুষ গণতন্ত্রে সত্যি করে আস্থা রাখতে শিখেছে। মনে রাখবেন এই সেই শহর যেখানে আট মাস আগে নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপি ৭ টি লোকসভা কেন্দ্রের সাতটিই জিতেছিল, আর বিধানসভা ভোটে সেখানেই, সেই রাজধানীতেই, অরবিন্দ কেজরিবালের দ্বিতীয় বারের মতো জিতে ফিরে আসার পূর্বাভাস দিচ্ছে সবাই। প্রায সব এগজিট পোলই।

এটাই গণতন্ত্র। এটাই গণতন্ত্রের সাবালক হয়ে ওঠার লক্ষণ। এবং এই বিধানসভা ভোটের আগে যাবতীয় ওপিনিয়ন পোল বলেছে, বিধানসভায কেজরিবাল বা আপের জয়জয়কার হলেও এখনই লোকসভা ভোট হলে এই দিল্লিবাসীই আবার মোদীকে ভোট দেবেন। এই যে ভোটমনস্কতা, এই যে পরিণত ভাবনা এটাই তো আজকে ভারতবর্ষের গণতন্ত্রের সম্পদ।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *