কৌশভ সান্যাল, হুগলি:
সিপিএমের কায়দায় এবার বিজেপি প্রার্থীদের বাড়িতে সাদা থান পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিল তৃণমূল কর্মীরা। সোমবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মনোনয়ন জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয় সকাল থেকেই। আর এই মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই দিনভর উত্তপ্ত থাকল হুগলি জেলার আরামবাগ সহ বিভিন্ন এলাকা। মনোনয়ন জমা দিতে আসা প্রার্থীদের কপালে জুটল বেধড়ক মার। কাউকে অপহরণ করা হল। কোথাও প্রার্থীদের বাড়িতে সাদা থান পাঠানোর হুমকি দেওয়া হল। এদিন সকালে প্রথম গণ্ডগোলের সূচনা হয় মগরা ব্লকে। সেখানে বিডিও অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে গেলে সশস্ত্র তৃণমূল কর্মীরা বিজেপি প্রার্থীদের তাড়া করে। মারধর করা হয় একাধিক কর্মীকে। এরপরেই জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিজেপি কর্মীরা বারেবারে পুলিশ আধিকারিক ও নির্বাচন আধিকারিকদের ফোন করে জানায় প্রত্যেকটা বিডিও অফিস জ্যাম করে রাখা হয়েছে। যেভাবে বুথ জ্যাম করে রাখা হত সিপিএমের আমলে। জানা গেছে আরামবাগ বিডিও অফিসে এদিন মনোনয়ন জমা করতে গিয়ে বাইরে থেকেই ফিরে আসতে হয় বিজেপি সহ সব বিরোধী প্রার্থীদের। আরামবাগ ব্লকের বিজেপি সভাপতি চিরঞ্জিত মন্ডল জানান, এখানে বিডিও অফিসের ভেতরে ও বাইরে শ-তিনেক সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের জড়ো করে রাখা হয়েছিল। তাদের এড়িয়ে ভেতরে যাবার যো ছিল না কারও। গোঘাটে আবার মনোনয়ন জমা দিতে যাবার পথেই তৃণমূল কর্মীদের দ্বারা অপহরণ হয়ে যান বিজেপি প্রার্থী তপন সেন। তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি ভাস্কর ভট্টাচার্য। খানাকুলে এক বিজেপি প্রার্থীকে হুমকি দেওয়া হয় মনোনয়ন না তুললে তার বাড়িতে সাদা থান পাঠিয়ে দেওয়া হবে। হরিপালে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোলের খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাঁদের রাস্তায় ফেলে মারধোর করা হয়। মারধোর করা হয় বিজেপি কর্মী যজ্ঞেশ্বর ঘোষ, শ্যামল ঘোষ ও শান্তনু সেনকে। ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় মনোনয়নের ফর্ম। জাঙ্গিপাড়া ও চন্ডীতলায় মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ধুন্ধুমার। বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইঁট। পথ চলতি মানুষরাও রেহাই পাননি শাসক দলের কর্মীদের হাতে মার খাওয়া থেকে। চণ্ডীতলায় বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির জেলা সভাপতি বলেন, আদালত নির্দেশ দিয়েছিল সবাই যেন নির্বিঘ্নে মনোনয়ন জমা দিতে পারে। কিন্ত আদালতের রায়কে অগ্রাহ্য করে তান্ডব চালিয়েছে তৃণমূল। এই অভিযোগ লিখিত আকারে জেলার একাধিক ব্লক অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সভাপতির নির্দেশে তার কপি রাজ্য পার্টি অফিসে পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে। ভাস্করবাবু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনশো ছাপ্পান্ন ধারা প্রয়োগ না করলে মানুষ তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। তাই আমরা তিনশো ছাপ্পান্ন ধারা প্রয়োগের দাবিও জানিয়েছি।
এদিনের মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বিজেপির মিডিয়া সেলের সভাপতি ঋতব্রত সেনগুপ্ত বলেন,বিডিও অফিসে পুলিশের উর্দি গায়ে যারা দাঁড়িয়ে ছিল তাঁরা সবাই পুলিশ নয়। কারণ পুলিশের ছদ্মবেশে থাকা ব্যাক্তিরাই বিজেপি কর্মীদের চিনিয়ে দিচ্ছিল। ফলে এরা কারা তা নিয়েও নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনকে লিখিত ভাবে জানানোর তোড়জোড় চলছে। এই ঘটনায় আরামবাগ মহকুমার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক প্রীতি গোয়েল বলেন, এখনই আমি কিছু বলতে পারব না। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে তবেই জানাবো। এই বিষয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা কৃষি বিপণন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত বলেন, সব মিথ্যা কথা। ওরা তিরিশ শতাংশ প্রার্থী দিতে পারেনি। কারণ মানুষ ওদের পাশে নেই। তাদের আবার বড়বড় কথা।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news