পার্থসারথি পাণ্ডা : 
মন্দিরের বাইরে যে কল্পতরু থাকে তার ডালে ডালে বা গায়ে রঙিন সুতো বেঁধে দিয়ে আমরা তার কানে কানে বলি, দেখো, আমাদের প্রার্থনা যেন পূরণ হয়, ঠাকুর যেন আমাদের মনস্কামনা পূর্ণ করেন, তুমি তাঁকে মনে করিও।
এই যে গাছটির ডালে বা গায়ে সুতো বাঁধার রীতি, এর মূলে কাজ করেছে বন্ধন তৈরির লোকবিশ্বাস। মনে করা হয়েছে, এই সুতোটি বেঁধে গাছটির সঙ্গে আমরা একটা সম্পর্ক তৈরি করলাম, এতে গাছটি আত্মীয়জ্ঞানে আমাদের মনস্কামনা বা প্রার্থনা পূরণ করতে সাহায্য করবে। এই লোকবিশ্বাসটি বিবাহের বেলাতেও সমান সত্য। সেখানে নতুন সম্পর্ক স্থাপিত হয় বরকনের হস্তবন্ধন আচারের মধ্য দিয়ে। যে বন্ধন অচ্ছেদ্য বন্ধন। তাই বৈবাহিক সম্পর্কটির সঙ্গে ‘বিবাহবন্ধন’ কথাটি ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত। রাখিবন্ধনের মধ্যেও আছে অচ্ছেদ্য ও বিশ্বস্ত সম্পর্ক তৈরির ঐতিহ্য। ভাইবোনের সম্পর্ক। এর প্রাচীন সাক্ষ্য আছে মহাভারতে।

শিশুপালের মায়ের অনুরোধে কৃষ্ণ শিশুপালের একশটি অপরাধ মার্জনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শিশুপাল ছিলেন অসুর স্বভাবের একজন মানুষ। তাই বীর হয়েও তাঁর পরিণতি বীরের মতো হয়নি। একবার তিনি দম্ভ ভরে কৃষ্ণকে অত্যন্ত কুৎসিত ভাষায় অপমান করতে গিয়েছিলেন ভরা সভায়। সেটা ছিল তাঁর একশ একতম অপরাধ। এই অপরাধ কৃষ্ণ ক্ষমা করেননি, সুদর্শনের আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলেছিলেন তাঁর মুণ্ড। সুদর্শন চক্রের মতো ঘোরার সময় তার কিনারে লেগে কৃষ্ণের হাতও অনেকটা কেটে গিয়েছিল। তা থেকে বেশ রক্তপাত হচ্ছিল। দ্রৌপদী নিজের পরনের কাপড় ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দিয়েছিলেন। এতে রক্তপাত বন্ধ হয়েছিল। কৃতজ্ঞতায় কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে ‘বোন’ বলে ডেকেছিলেন। সাহিত্যের সাক্ষ্যে এটাই ভারতের প্রথম রাখিবন্ধন। বোনের ঋণ কৃষ্ণ শোধ করেছিলেন কুরুসভায় দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় তাঁকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়ে। ভাইবোনের সেই বিপদকালের আত্মীয়তাকে স্মরণে রাখতে, জিইয়ে রাখতেই আমাদের সংস্কৃতিতে রাখিবন্ধনের ঐতিহ্য আজও প্রবহমান।

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news