সঞ্জয় সরকার :
সে অনেককাল আগেকার কথা। আফ্রিকা মহাদেশের এক প্রত্যন্ত এলাকার ছোট্ট এক দেশ। নাম তার ‘পশ্চিম বালুন্ডি।’ দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে সেখানকার শাসন ক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট দলের হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। লোক লস্কর, পাইক পেয়াদা মায় বুদ্ধিজীবীরাও তার হয়েই কথা বলতেন। সেই দেশের সাধারণ মানুষ রাজার অত্যাচারে অতিষ্ঠ, কিন্তু মুখে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করতে পারে না। শেষমেষ অবশ্য ১৮১১ সালের মে মাসে এক নির্বাচনের মাধ্যমে সেই রাজাকে সরিয়ে ক্ষমতায় এলেন এক রানি। রাজার মতোই তাঁরও দোর্দণ্ডপ্রতাপ। রাজার মতোই তিনিও একে একে সব পাইক পেয়াদা, লোক লষ্কর কে নিজের দিকে নিয়ে এলেন। আস্তে আস্তে তাঁর দিকে ঢলে পড়লেন তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরাও। কিন্তু দু’একজন বুদ্ধিজীবী নাছোড়বান্দা। তাঁরা সেই রাজার মতবাদকেই আঁকড়ে ধরে রইলেন। রানীর হাজার প্রলোভনেও তাঁদের টলানো গেল না। রানী অবশ্য তাঁর চেষ্টা চালিয়ে গেলেন। আস্তে আস্তে তার ফল পেতেও শুরু হল। ‘বালুণ্ডি শিরোমণি’ পুরষ্কারও হাত পেতে নিয়ে নিলেন কেউ কেউ। একজনকে অবশ্য টলানো যাচ্ছিল না। তিনি একজন কবি, তিনি একজন অভিনেতা, তিনি নাটক করেন, তিনি সিনেমা করেন। সমাজে সবাই তাকে ধন্য ধন্য করে। রানির রাজত্বের কিছু কিছু ভুল ভ্রান্তি নিয়ে তিনি টিভি চ্যানেলে বাইট দেন। এহেন অভিনেতা কবিকে নিজের ব্যাগ বন্দি করার সুযোগও পেয়ে গেলেন দেশের রানী। সালটা ১৮১৭। মার্চ মাসের এক মধ্য রাত। ‘পশ্চিম বালুণ্ডি’ দেশের রাজধানী শহরে বাইক এক্সিডেন্টে গুরুতর আহত হলেন এক যুবক। শোনা যায় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন তিনি। যমে মানুষে টানাটানি করে মাস তিনেক পর বাড়ি ফিরলেন ওই যুবক। লোকে বলে, ওই যুবক যে মদ্যপ অবস্থায় ছিল হাসপাতাল সেটা চেপে যায়। আরও শোনা যায়, রানীর নির্দেশে পুলিশও সেটা চেপে যায়। কিন্তু এক যুবকের আহত হওয়ার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ প্রশাসন কেন তার মদ্যপ হওয়ার কথা চেপে গিয়েছিল! জানা যায় আহত যুবক আর কেউ নন, তিনি হলেন ওই সেলিব্রিটি কবি অভিনেতার আদরের নাতি। ব্যাস আদরের নাতি কে ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি কেলেঙ্কারির হাত থেকে নিজের অস্মিতাকে রক্ষা করার জন্য রানীর মহানুভবতায় দুর্বল হয়ে পড়েন ওই কবি অভিনেতা। এরপর আর কী! রানীর দেওয়া ‘বালুন্দী শিরোমনি’ পুরস্কার গ্রহণ করা থেকে শুরু করে শেষমেশ ১৮১৮ সালের কোনো এক আগস্ট মাসের দুপুরে রানীর তৈরি করা এক কমিটির সদস্যও হয়ে গেলেন তিনি। একটা কথা অবশ্যই বলা উচিত, রানী কিন্তু কোনদিন তাঁকে অসম্মান করেননি। ফলে সেই অভিনেতার পক্ষে এই সম্মান গ্রহণ করতে অসুবিধাও খুব একটা হয়নি। সুতরাং কবির ভাষায় বলা যায় “মধুরেণ সমাপয়েৎ।”
(সব চরিত্র কাল্পনিক।)
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news