ওয়েব ডেস্কঃ
চলে গেলেন নোবেল পুরস্কার জয়ী প্রথম মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ লেখিকা টনি মরিসন। সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা সাহিত্যিক হিসাবে তিনিই প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯৩১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার ওহায়োর এক আফ্রো-মার্কিন পরিবারে জন্মেছিলেন ক্লো আর্ডেলিয়া ওফর্ড। ক্লো-র বয়স যখন মাত্র দুই, তাঁদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন বাড়িওয়ালা, ঠিক সময়ে বাড়ি ভাড়া না-দেওয়ার জন্য। মরিসন এক সাক্ষাৎকার বলেছিলেন, ”সেই ভয়াবহ ঘটনাতেও মা-বাবাকে বিচলিত হতে দেখিনি। ওঁরা বলতেন, নির্মম পরিস্থিতির মধ্যেও বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে নিতে হয়। তাঁদের সেই কথাটাই আমারজীবনের চালিকাশক্তি।”
বারো বছর বয়সে, ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করার সময়ে নিজের নাম পাল্টে ‘অ্যান্টনি’ করে নেন ক্লো। সেই ‘অ্যান্টনি’ই থেকেই ‘টনি’র জন্ম।

১৯৫৮ সালে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার পাঠ নেওয়ার সময় তাঁর বিয়ে হয় স্থপতিবিদ হ্যারল্ড মরিসনের সঙ্গে। টনি মরিসনের নামেই প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দ্য ব্লুয়েস্ট আই’। মোট ১১টি উপন্যাস সৃষ্টি হয়েছে টনি মরিসনের কলম থেকে। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসটির নাম ‘বিলাভেড’। এই উপন্যাসটির জন্য ১৯৮৮ সালে পুলিত্জাের পুরষ্কারও পান টনি। এ ছাড়া মার্কিন স্কুলপাঠ্যে তাঁর একাধিক ছোট গল্প, প্রবন্ধ জায়গা পেয়েছে। বর্ণবিদ্বেষ, ভেদাভেদের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর লেখায় বার বার ফুটে উঠেছে মানবিকতার বিভিন্ন দিক। ২০০০ সালে ‘ন্যাশনাল হিউম্যানিটিস মেডেল’-এ সম্মানিত করা হয় তাঁকে। ২০১২ সালে তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘মেডেল অব ফ্রিডম’-এ সম্মানিত করেন টনি মরিসনকে। তিনি চলে গেলেও অমানবিক ভেদাভেদের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই অব্যহত থাকবে টনি মরিসনের সৃষ্ট একাধিক সাহিত্যের মাধ্যমে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news