তরুণ সেন:
অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল টলিপাড়া। দীর্ঘ ছ’মাসের প্রবল টানাপোড়েনের পর টেকনিশিয়ানরা বকেয়া টাকা পেলেন আজ। গত তেইশ জুন ফেডারেশনের জরুরী সাধারণ সভার পরই আশ্বাস মিলেছিল সাত দিনের মধ্যেই বকেয়া মেটানোর ব্যবস্থা হবে। চারদিনের মাথায় কথা রইল। অবশ্য কথা থাকবে আশা করাই গিয়েছিল। তবু, রানা সরকার আর তাঁর দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার ওপর যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না কারুর। না, তিনি এনওসি দিয়েছিলেন আগেই। তবুও…চেক বাউন্স করা যাঁর নেশা, তাঁকে বা তাঁর এনওসি’র খবর যে ঢপের চপ নয়, সেটা কেমন করে বিশ্বাস করা যায়! সভায় চ্যানেলের কর্মকর্তারা টাকা মেটানোর আশ্বাস দেওয়ায় যেটুকু আশা মানুষের মনে জাগে, তাই জেগেছিল।
টাকাটা পাওয়া যাবে, আশা করাই গিয়েছিল। তেইশের সভায় দর্শক আসনের ভিড় পাতলা দেখে ও অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, রাজ্য রাজনীতির মতো টেলি ও সিনে ইন্ডাস্ট্রি দখলের যুদ্ধে বিজেপি তাঁদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। ইতিমধ্যে একটি বিরোধী শিবির তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং প্রতিগিল্ডের গোড়াপত্তনও হয়ে গেছে লকেট চ্যাটার্জি ও শঙ্কুদেবের নেতৃত্বে। দলভারি হওয়াটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও ফেডারেশনের পাশাপাশি শিবসেনার নিজস্ব একটি গিল্ড রয়েছে। এবং বিভিন্ন দাবিদাওয়া আদায়ে ও টেকনিশিয়ানদের স্বার্থ রক্ষায় তাঁদের দাপট সবচেয়ে বেশি সেখানে। মুম্বাইতে কর্মী ও টেকনিশিয়ানরা অবসর নিলে তাঁদের ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা পেনশনের ব্যবস্থা তো আছেই, এমনকি চিকিৎসার সুবিধের জন্য মেডিক্লেম রয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের। এখানে মেডিক্লেম চালু হয়েছে বটে। তবে একে ওকে ধরে সে সুবিধেটুকু পেতে কালঘাম ছুটে যায়। নবতম গিল্ড যদি এসবের সুরাহা করতে পারে, তাহলে তাকে স্বাগত। এমনটাই বক্তব্য অনেক কলাকুশলী ও শিল্পীর।
সিপিএমের আমলে আর যাই হোক সিনে ফেডারেশনের গায়ে স্পেশ্যাল রঙ লাগেনি, কিন্তু তৃণমূল জমানার শুরু থেকেই তাতে সবুজ রঙ লেগেছে, সবুজ সংকেতে নিয়ন্ত্রণ জমে উঠেছে দিনে দিনে। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় সপরিবারে হাজিরা দেওয়ার দায় বেড়েছে। অনিচ্ছুকের বিক্ষোভ বেড়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে আজ টলিপাড়াতেও পরিবর্তনের হাওয়া। সে হওয়ায় কেবা ওড়ে, কি বা হয় বলুক সময়…
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news