চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো :
এমন এক অন্ধকার সময় যখন নক্ষত্ররাও থাকে আকাশের বুকে। ইরফান খানের পর এবার ঋষি কাপুর চলে গেলেন। অসুস্থ ছিলেন বছর দুই ধরেই। কিন্ত মৃত্যু যে এত অকস্মাৎ ডেকে নেবে ভাবেন নি কেউই। বলিউড তো বটেই টলিউডও স্তম্ভিত তাঁর অকস্মাৎ প্রয়াণে। অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় বলেন একজন শুধুমাত্রই অভিনেতা নয়। ঋষিকপুর একজন অলরাউন্ড এন্টারটেনার ছিলেন। অজস্র বহুবর্ণ চরিত্রে যেমন অভিনয় করেছেন সেগুলি ফুটিয়ে তুলেছিলেনও নিখুঁতভাবে, এতটাই ছিল তাঁর অভিনয়ের ব্যাপ্তি।শুধু তাই নয় যে কোনও গানে লিপ দিতেন অসাধারণভাবে , কোনও বাদ্যযন্ত্র অভিনয়ের খাতিরে যখন ব্যবহার করতেন তাতে থাকত আশ্চর্য সাবলীলতা। শাশ্বত রনবীর কাপুরের সঙ্গে জগ্গা জাসুসের সময় শুটিং করার দিনগুলির কথাও বলছিলেন। বললেন, ‘রনবীর ওঁর বাবার নানা গল্প করতেন শুটিং-এর সময়। মানুষ হিসাবেও ব্যতিক্রমী ছিলেন ঋষি কপুর’। ঋষি কাপুরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকও।বললেন, ‘যেমনি আর্কষনীয় চেহারা ছিল তেমনি স্বচ্ছন্দ ছিলেন যে কোনও ধরণের অভিনয়ে। সমস্ত চরিত্রে ভীষণ সাবলীল ছিলেন ঋষি কপুর। তাঁর মৃত্যুতে অপূরনীয় ক্ষতি হল চলচ্চিত্র জগতের।‘ পরিচালক অনীক দত্ত ঋষি কপুরের কথা বলতে গিয়ে ফিরে গেলেন শৈশবে, ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায়।তাঁর কথায় ,’ঋষি কপুর যে সময়ে অভিনয় করেছেন সেই সময়ে আমাদের জেনারেশন এর ছেলেমেয়েদের সিনেমা হলমুখো হওয়াই নিষেধ ছিল। ফলে ঋষির সিনেমা দেখা হয়েছে অনেক পরে। সেই সময় একদিন অমর আকবর অ্যান্টনি দেখতে গিয়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম ঋষি কপুরের অভিনয় দেখে। আরও অনেক কিছু করানো যেত ওঁকে দিয়ে।কিন্তু সেই সময় পাওয়া গেল না’।নির্দেশক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরবর্তী সিনেমার নায়ক ছিলেন ঋষিকপুর। সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল। গত শীত থেকে শুটিংও শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে ঋষি কপুর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুটিং বাতিল হয়ে যায়। এরপরও কথা হয় লকডাউন শেষ হয়ে গেলে ফের শুরু হবে শুটিং। সে তো সম্ভব হল না আর। শিবপ্রসাদ বলছিলেন, ‘খুব প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন ঋষি কপুর। এতবার কথা হয়েছে কখনও নিজের অসুখ নিয়ে একটাও কথা বলেননি। কখনও বুঝতে দেন নি কতটা অসুস্থ তিনি। বরং হাসিঠাট্টা গল্পগুজবে মেতে থাকতেন সব সময়। জীবনে ভরপুর এমন একটা মানুষ দ্বিতীয় পাওয়া যাবে না আর।‘
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news