ভাস্কর মান্না:
কিছুদিন আগে দিল্লির জেএনইউ ক্যাম্পাসে স্বামী বিবেকানন্দের স্ট্যাচুর নীচে লাল কালি দিয়ে বিকৃত ও অশ্লীল ভাষা লেখার প্রতিবাদে, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সহায়তায় রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুক্রবার কলকাতায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এদিন এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত, রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের অধ্যাপক জিষ্ণু বসু সহ আরও অনেকে।

শুধুমাত্র বিবেকানন্দকেই নয়, বাংলার অনেক মনীষীরাই এই বামপন্থী ও অতি বামপন্থীদের দ্বারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছেন। এমনটাই দাবি করেন সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত। তিনি জানান, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে বামপন্থী বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় স্বামীজীর বিরুদ্ধে অপমানজনক লেখা প্রকাশিত হয়। এমনকি তার অনেক আগে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক থাকাকালীন প্রমোদ দাশগুপ্ত বলেছিলেন, বেলুড় মঠকে কফি হাউস বানিয়ে দেব। এই মন্তব্যে স্বামীজীর কর্মকান্ডের প্রতি তাঁর অশ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছিল। রন্তিদেবের মতে, প্রমোদবাবু দেখে যেতে পারেননি। বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন স্বমহিমায় আছে। কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় তাঁর দলের পার্টি অফিসগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

যেসব উৎশৃঙ্খল ছাত্রছাত্রী স্বামীজিকে কলঙ্কিত করেছে! তারা কী স্বামী বিবেকানন্দকে চিনতে পারলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক জিষ্ণু বসু বলেন, জেএনইউতে স্বামীজীর মূর্তির নীচে বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি লিখেছে। অথচ তারা ‘ফ্যাসিজম’ ও ‘কমিউনিজম’ পড়লে জানতে পারবেন এই দুটোর মধ্যে ২০-২৫টি গুণের অদ্ভুত মিল রয়েছে। স্ট্যালিন যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রবল ক্ষমতাশালী। তখন তাঁর এই ক্ষমতার রহস্য হিসেবে স্ট্যালিন বলেছিলেন, ‘গভীর ঘৃণা’। শ্রেণী সংগ্রাম ও শ্রেণী বিদ্বেষের মাধ্যমে গভীরভাবে একটা মানুষের উপর ঘৃণা থাকলে এই সাফল্য আসে। অতএব, বামপন্থীদের রক্তের মধ্যে অসহিষ্ণুতা মিশে আছে! আর স্বামীজীর আদর্শ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বিশ্ব ভাতৃত্বের কথা বলেছিলেন।

অন্যদিকে রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের মতে, আমি উগ্রপন্থী ছাত্রদের কাছে কৃতজ্ঞ। তাঁরা তাঁদের মনের কথাটাই বলেছে। পাশাপাশি কমিউনিস্ট নেতা এস এ ডাঙ্গের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “প্রায় ২০ বছর কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন এস এ ডাঙ্গে। যিনি স্বামী বিবেকানন্দকে ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট পার্টির উৎস বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ কারণে পরবর্তীকালে তাঁকে পার্টি থেকে বহিষ্কারও করা হয়।” তবে ১৫ নভেম্বর দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামী বিবেকানন্দের স্ট্যাচুর নীচে ‘গেরুয়া’ ও ‘ফ্যাসিবাদ’ লেখার কথা অস্বীকার করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। তাঁদের দাবি, বদনাম করার জন্য এবিভিপির ছাত্ররা এই কাজ করেছে।

Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news