চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
আজ বুধবার তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন লুইজিনহো ফেলেরিও। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাংবাদিক বৈঠক করে গোয়ার এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তৃণমূলের স্বাগত জানাবেন দমদমের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। আগামী বছর গোয়া বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে লড়াই করবেন ফেলেরিও তাঁর অনুগামীরা। কিন্তু, গোয়ার ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ আগেও নিয়েছে তৃণমূল। দু’দফায় দুজন কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিজেদের দলের টেনেও সাফল্য আসেনি। বারবার ব্যর্থতাই হাতে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের।
তবে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার দাবি, গত দু’বারের তুলনায় পরিস্থিতি এবার ভিন্ন। ২০১২ ও ২০১৪ সালে যে দু’বার তৃণমূল গোয়ার রাজনীতির রণাঙ্গনে নেমেছিল, তখন জাতীয় মানচিত্রে বাংলার শাসকদল এতটা প্রাসঙ্গিক ছিল না। কিন্তু তৃতীয়বার নবান্ন দখলের পথে মোদী-শাহের বিজয় রথ থামিয়ে ২০২৪ সালের দিল্লির যুদ্ধে মমতাই নাকি অশ্বমেধের ঘোড়া, তৃণমূল শিবিরের অন্তত তেমনটাই দাবি। আর তাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসম ত্রিপুরা তো বটেই, দেশের পশ্চিম প্রান্তের রাজ্য গোয়াতেও প্রাসঙ্গিক তৃণমূল। এ বারের গোয়ার নির্বাচনে কংগ্রেসকে পিছনে ঠেলে তৃণমূল বিজেপি-কে পরাস্ত করবে বলেই দাবি করছেন ডেরেক ও ব্রায়েনরা।
কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্ব এমন দাবি করলেও, পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে নেই। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে সরিয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন টগবগে তৃণমূল ঝাঁপিয়েছিল গোয়ায়। কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উইলফ্রেড ডি’সুজাকে যোগদান করানো হয়েছিল তৃণমূলে। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন সালগাওকার ফুটবল ক্লাবের প্রভাবশালী কর্মকর্তা তথা গোয়ার রাজনীতিতে ভালো দখলে রেখে চলা সমীর সালগাওকার। কিন্তু, ২০১২ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছিল তৃণমূল। একটি আসনে জয় পাওয়া তো দূরঅস্ত, কোনও আসনে জামানত বাঁচাতে পারেনি মমতার দল। দ্বিতীয় প্রয়াস ২০১৪ সালে। সে বার লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দেন কংগ্রেসের আরও এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চার্চিল আলেমাও। যিনি আবার চার্চিল ব্রাদার্স ফুটবল ক্লাবের মালিকও বটে। সেই নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর প্রবল ঝড়ে উড়ে গিয়েছিল জোড়াফুল। জামানত হারিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী চার্চিল আলেমাও।
এরপর দীর্ঘ বিরতি। সেই বিরতির পর ২০২১ সালে ফের আরও এক কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলে যোগদান করছেন। তাঁর সঙ্গে কলকাতায় আরও চারজন কংগ্রেস নেতা তৃণমূলে যোগদান করতে এসেছেন। যোগদানের আগে লুইজিনহো ফেলেরিও এআইসিসি সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীকে দীর্ঘ চিঠি লিখে কংগ্রেস ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। সঙ্গে জানিয়েছেন, কেন কংগ্রেস বিজেপি-কে হারাতে পারছে না। আর কেন মমতাই মোদীকে সরাতে পারবেন। আগামী বছর গোয়ায় কেনই বা ফুটবে জোড়াফুল। এর আগেও কংগ্রেস ছেড়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরা তৃণমূলে যোগ দিয়ে গোয়া দখলের হুংকার ছেড়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি, এ বার ব্যতিক্রমের আশায় নতুন করে গোয়ায় মঞ্চ বাঁধার কাজ কলকাতা থেকেই শুরু করতে চলেছে বাংলার শাসক দল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news