দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় : 
মমতা-শাসনের নতুন রেওয়াজ মহিলাদের প্রহার। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির মহিলা কর্মীকে চুল ধরে মারার যে ছবি রাজ্য দেখে ছিল, সেই ছবিই ফিরে এল আবার বুধবার বনধের সকালে। পুলিশের উপস্থিতিতেই বিজেপির একজন মহিলা কর্মীকে লাঠি দিয়ে মারল তৃণমূলের ঠ্যাঙারে বাহিনী। ঠ্যাঙারেদের ধমক শুনে মহিলা পালিয়ে যাননি। দলের পতাকা নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বারাসাতের কাজিপাড়া রেলগেটে। এই তাঁর অপরাধ। শাসক দলের গুন্ডারা শারমেয়-শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তাঁর ওপর। এক সঙ্গে বেশ কয়েক জন। প্রথমে লাঠি দিয়ে তারপর লাঠির আঘাত কম পড়ছে মনে হওয়ায় সজোরে লাথি মারলেন ওই মহিলাকে। মহিলা পড়ে গেলেন রাস্তায়। মমতার পুলিশ দর্শক।
মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম গতকালই বলেছিলেন যে তাঁরা চাইলে বিজেপিকে পিঁপড়ের মত মারতে পারেন। আজ তাঁর দলের কর্মীরা দেখিয়ে দিলেন যে তাঁরা চাইলে একজন মহিলা রাজনৈতিক কর্মীর ওপর কুকুরের মত ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন! পড়লেনও তাই। কন্যাশ্রী, রুপশ্রীর প্রচারে ম-ম করা রাজ্যে এমন মহিলা নিধনের দৃশ্য কী বেমানান! সম্ভবত নয়। ভুললে চলবে না ধর্ষনের হুমকি দিয়েও তৃণমূলের নেতার শাস্তি হয় না। ধর্ষিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুধুমাত্র দলের একজন মহিলা সাংসদই নন খোদ মহিলা মুখ্যমন্ত্রীও। সে রাজ্যে কোনও মহিলাকে পুলিশের ঘেরাটোপে দাঁড়িয়ে শাসক দলের অতি নিম্ন রুচির লুম্পেন কর্মীরা যে একজন মহিলাকে লাথি মেরে ফেলে দিতে পারেন, তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে! তাছাড়া হিন্দু ও মুসলিম এই দুই সম্প্রদায়কে হিন্দু বা মুসলিম হিসেবে দেখতে না চেয়ে ভারতীয় হিসেবে দেখতে চাওয়া সঙ্ঘ ও বিজেপি এই রাজ্যের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের চোখে ভিলেন। ফলে তাঁরা যে এসব ব্যাপারে রা কাটবেন না, তা ধরে নেওয়াই যায়।
সে দিক থেকে দেখলে, মহিলাটির যতই আঘাত লাগুক তৃণমূল বা মমতার ভাবমূর্তিতে টোকাও লাগবে না। এইসব বিশ্রী মনোভাবের মল মুত্র যতই বাইরে বেরিয়ে আসুক না কেন পুরস্কৃত কন্যাশ্রীর মহিমা কীর্তন করে ভোটের রাজনীতির বিরাম থাকবে না এই হতভাগ্য পশ্চিমবঙ্গে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news