অমিত রায় :
শুধুমাত্র ব্যাট, বল আর তে-কাঠি নয়, স্লেজিংও ক্রিকেট খেলার অংশ। যাঁরা ক্রিকেটের দর্শক তাঁরা জানেন স্লেজিং কী বস্তু! যাঁরা অতটা ক্রিকেট বোদ্ধা নয় তাঁদের ছোট্ট করে জেনে রাখা ভাল অশ্রাব্য গালিগালাজ দিয়ে ব্যাটসম্যানের মনঃসংযোগ নষ্ট করার চেষ্টাকে স্লেজিং বলা হয়। ভারত-পাক ম্যাচে পাকি ভাইরা শচীন সৌরভ দ্রাবিড়দের জন্য এই স্লেজিং অস্ত্র বহুবার ব্যবহার করেছে।
রাজনীতির ময়দানে মুকুল রায় (Mukul Roy) ইলেকসান মাস্টার হতে পারেন কিন্তু ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মুকুলের ঘরানা টা লিটল মাস্টারের। লিটল মাস্টার গাভাসকারকে নানা ভাবে বিরক্ত করলেও তিনি ধৈর্য হারাতেন না। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন ক্রিজের দিকে। মুকুলও সানি-সুলভ স্থিরতায় সামলাচ্ছেন মমতার স্লেজিং। আজকের পরিবর্তিত তৃণমূল কে এখন যাঁরা সিলি পয়েন্ট থেকে দেখছেন তাঁরা বলেন দলে এখন পিসি কম ভাইপো বেশি। অর্থাৎ তৃণমূলের ক্লোজ অবজারভারদের বিচারে আজকের তৃণমূল যত টা না মমতার তার চেয়ে বেশি অভিষেকের। এই তত্ত্ব যদি ঠিক হয় তাহলে বুঝতে হবে মুকুল যে স্লেজিং সামলাচ্ছেন তা যতটা না মমতার তার চেয়ে অনেক বেশি অভিষেকের।
রাজনীতির স্লেজিংয়ের ধরন টা একটু অন্যরকম।
কী রকম? ঠিক কী কী করা হচ্ছে মুকুল কে আটকে রাখতে? তার একটা ধারণা নিচে দেওয়া হল :
মুকুল খেলতে শুরু করলে বিপদ তাই তাঁর খেলা টা পণ্ড করতে হবে।
কী করা যায়?
তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে হবে। তার জন্য কী করতে হবে? গুজব রটাতে হবে যে মুকুল আবার তৃণমূলে ফিরছেন। এমন গুজব রটালে কী লাভ হবে? তৃণমূলে যাঁরা মুকুলের ইঙ্গিতের অপেক্ষায় আছেন তাঁরা দ্বিধাগ্রস্ত হবেন। মিথ্যা প্রচারের এই কৌশলে কি শুধুমাত্র তৃণমূল (TMC) নেতৃত্ব জড়িয়ে? এক কথায় উত্তর, না। বিজেপিরও একাংশ জড়িয়ে বলে শোনা যায়। বিজেপির (BJP) কোন অংশ? রাজনৈতিক উচ্চতায় মুকুল যাদের কাছে গালিভার কিন্তু দেশ টি যেহেতু লিলিপুটদের, তাই তারা গালিভারের মাথায় উঠে বসে আছে। শুধু কি বিজেপির এই অংশটি তৃণমূলের সঙ্গে মুকুলের খেলা পণ্ড করতে কোমর বেঁধেছে? উত্তর, না। মুকুলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কেউ কেউ এই চেষ্টায় যুক্ত বলে খবর। তারা কারা? যারা মনে করছে মুকুল তৃণমূলে ফিরে গেলে তাদের ঘরেও কলা টা মুলো টা আসবে। এরা অনবরত মুকুলকে বিরক্ত করছে, মিথ্যা খবর রটিয়ে বাজার গরম করছে এবং মুকুলের বিড়ম্বনা বাড়াচ্ছে।
মুকুল সব জানেন। জেনেও ব্যাট হাতে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন ক্রিজের দিকে। কারন তিনি জানেন, তাঁকে খেলতে হবে। দলে তাঁর সম্বল বলতে কি? রাজ্য বিজেপির শিক্ষিত, পরিশীলিত এবং রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন অংশের সমর্থন আর দিল্লিতে মোদি-শাহ ও সভাপতি নাড্ডার ভরসা।
এদিকে রাজ্য বিজেপির একাংশের মুকুলের উপস্থিতিতে এলার্জি রয়েছে। এরা কারা? এরা সেই লিলিপুট প্রজাতি। যাদের নিজেদের এলেমের চেয়ে চেয়ারের সাইজ বড়। যাদের বিজেপির ক্ষমতায় আসা না আসায় খুব একটা কিছু এসে যায় না, এদের নিজের টুকু বুঝে নিতে পারলেই হল। লোকসভা ভোটে নির্বাচন কমিটির প্রধান হিসেবে মুকুল রায়ের মুন্সিয়ানা প্রমাণ হয়ে গেছিল। অতি বড় নির্লজ্জ না হলে আঠেরোর কৃতিত্ব মুকুলকে না দিয়ে কেউ নিজের মাথায় নিতে পারে না। কিন্তু এখানে ‘লজ্জা ঘৃণা ভয়, তিন থাকতে নয়’, এই মন্ত্র জপ করার লোকের অভাব নেই। যাই হোক, রাজ্যে স্থগিত হয়ে যাওয়া পুরভোটেও মুকুলের ওপরই আস্থা রেখেছিলেন অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডারা। সেক্ষেত্রেও তাঁকেই নির্বাচন কমিটির প্রধান করা হয়েছিল। শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ এই সিদ্ধান্ত মানতে পারে নি। তখন থেকেই মুকুলের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ প্রমাণ করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে গেরুয়া শিবিরের ওই নেতারা।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই দিলীপ ঘোষের পাশাপাশি মুকুল রায়ের সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকেই ফের নির্বাচন কমিটির প্রধান করা হবে। ইতিমধ্যে সেই খবর পৌঁছে গিয়েছে মূরলীধর সেন লেনের দফতরে। তাই তৎপরতা শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সেই উদ্যোগ রোখার। তাই তৃণমূলের সঙ্গে মুকুলের যোগ প্রমাণে মরিয়া বিজেপির ওই অংশ।
অন্যদিকে, নিজেদের ক্ষতি রুখতে তৃণমূল চাইছে মুকুল যোগের খবর প্রকাশ্যে আনতে। সূত্রের খবর, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে অমিত শাহ (Amit Shah) ও জেপি নাড্ডা (JP Nadda) পৃথক ভাবে কথা বলেছেন মুকুলের সঙ্গে। জানতে চেয়েছেন তাঁর অবস্থান। বিধানসভা ভোটে বিজেপি ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে তা কেন্দ্রের দুই শীর্ষ নেতার কাছে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুকুল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিধানসভা ভোটের জন্য মুকুলকে নিজের মতো করে ঘুঁটি সাজাতে বলে দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা। কিন্তু তৃণমূল ও রাজ্য বিজেপির একাংশ শেষ চেষ্টা করে মুকুলকে আটকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news