নীল রায়।
উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের যাবতীয় সাংগঠনিক কমিটি আপাতত রদ বলে ঘোষণা করল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)। সোমবার এক লিখিত বিবৃতিতে মারফত এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তাঁরা। লিখিত বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ২০২০ সালের প্রথম দিকে নতুন কমিটি ঘোষিত হবে। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সংগঠন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। এক সময় অসম, অরুণাচল, ত্রিপুরা ও মনিপুরে বেশকিছু বিধায়ক পেয়েছিল বাংলার শাসক দল। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিজেপির (BJP) আগ্রাসনে সেই সংগঠন অনেকটাই ভেঙে গিয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে বাংলায় তৃণমূল যেমন ধাক্কা খেয়েছে। তেমনি পারিপার্শ্বিক রাজ্যগুলিতে প্রার্থীদের জামানত খুইয়েছে তারা। তাই সংগঠন নতুন করে ঢেলে সাজানোর ভাবনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। ত্রিপুরার (Tripura) শেষ বিধানসভা নির্বাচনে এক শতাংশেরও নিচে ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। এরপর থেকেই উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে তৃণমূলের গতিবিধি কমেছে। তাছাড়া ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচনে মনোনিবেশ করতে চায় তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের ধারণা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা ধরে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। ঘটনাচক্রে, তৃণমূলের পক্ষে এক সময় এই রাজ্যগুলির পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন মুকুল রায় (Mukul Roy) ও সব্যসাচী দত্ত। তারা বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর ওই রাজ্যগুলিতে সংগঠন ক্রমেই দুর্বল হয়েছে তৃণমূল। সেই কারণেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে আরও একটি প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে। উত্তর-পূর্বের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য অসমে এনআরসি (NRC) নীতি প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যখন নিয়ে আগ্রাসনের নীতি নিয়েছেন। তখন সেই রাজ্যের কমিটি ভেঙে দিয়ে কি রণনীতি নিতে চাইলেন তিনি?
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news