নীল রায়:
বাংলায় বিজেপির উত্থান রুখতে কি হাত মিলিয়েছে তৃণমূল-সিপিএম? এমন প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সিপিএমের “জাতশত্রু” তৃণমূলের কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত মিলেছে। বুধবার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী শহিদ পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে একটি চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাতে যাদবপুরের বিধায়ক পুলওয়ামায় নিহত শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি করেন। ওইদিনই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, পুলওয়ামা কাণ্ডে নিহত রাজ্যের দুই জওয়ান বাবলু সাঁতরা এবং সুদীপ বিশ্বাসের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “নিহত দুই জওয়ানের পরিবারের লোক যদি চাকরি করতে চান, তাহলে রাজ্য সরকার সেই ব্যবস্থাও করবে।” গত সপ্তাহে শ্রীরামপুর এলাকায় একটি গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যা রাজনৈতিক ভাবে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা মনে হলেও, আসলে তার আড়ালে ছিল সম্প্রদায়িক সমীকরণ। বিষয়টি জানতে পেরে সুজন চক্রবর্তী ফোন করে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। পরিস্থিতি প্রসঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীকে অবগত করিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা। ঘটনায় প্রয়োজনীয় পুলিশ বন্দোবস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা ফোন করেন সুজনকে। ৫ বার ফোন করে যাদবপুরের বিধায়কের সঙ্গে কথা না বলতে পেরে, শেষে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে তাঁকে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি বেশ বড়সড় ব্রিগেড সমাবেশ করেছে সিপিএম। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন সিপিএমের সমাবেশ সফল করতে রাজ্য সরকার তথা তৃণমূল কংগ্রেস অন্তরাল থেকে সাহায্য করেছে। একান্ত আলাপচারিতায় কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে তৃণমূলে যোগদানকারী এক বিধায়ক জানিয়েছিলেন, “পর্যাপ্ত বাস দেওয়া হয়েছিল বলেই এত বড় জনসমাগম করতে পেরেছে সিপিএম। ওদের কর্মীদের তো আমাদের সাহায্য ছাড়া নিজেদের পার্টি অফিস খোলার সাহস নেই। আমাদের সাহায্য ছাড়া এত বড় সমাবেশ করা এখন সিপিএমে পক্ষে সম্ভব ছিল না।” রাজ্য রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনা ক্রমশ সিপিএম-তৃণমূলকে হাত ধরাধরি করার দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ।
যদিও পরপর মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের সহযোগিতা মূলক অবস্থানের মধ্যে কোনও বিশেষ কারণ দেখছেন না সুজন চক্রবর্তী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বামপন্থীরা গঠনমূলক বিরোধী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব প্রসঙ্গে অবগত করিয়েছি। শ্রীরামপুরের ঘটনা তাকে জানানো কিংবা শহিদ পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়টিও সেভাবেই আমরা তাকে জানিয়েছিলাম। এক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক অবস্থানের কোনও প্রশ্ন নেই।” বাম পরিষদীয় দলনেতা তাঁর ও মুখ্যমন্ত্রীর এহেন অবস্থানে কোনও বিশেষ কারণে না দেখলেও ঘুরপথে দুর্বল সিপিএমকে “অক্সিজেন” দিয়ে রাজ্যে বিজেপিকে রোখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশল নয়তো? এমন প্রশ্ন উঠেছে জোরালো ভাবেই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news