Breaking News
Home / TRENDING / তৃণমূল বর্তমানে পিসি-ভাইপোর দল, এবার দলের অন্দরেও গুঞ্জন

তৃণমূল বর্তমানে পিসি-ভাইপোর দল, এবার দলের অন্দরেও গুঞ্জন

নীল রায়:

বিরোধীরা প্রায়ই অভিযোগ তোলেন তৃণমূল পার্টিটা এখন পিসি-ভাইপোর দল হয়ে গিয়েছে। দলের অন্দরেও এখন সেই গুঞ্জন। গুঞ্জনের যথেষ্ট কারণও রয়েছে। চলতি লোকসভা ভোটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ ভাইপো তথা যুব সংগঠনের সভাপতি নিয়ম করে প্রার্থীদের সমর্থনে প্রতিদিন দু’ থেকে তিনটি জনসভা করছেন যখন, তখন সূত্রের খবর, মমতা-অভিষেক ছাড়া দলের আর কোনও নেতার প্রচার সূচি তৈরিই হয়নি। এ প্রসঙ্গে দলের এক বরিষ্ঠ নেতা জানান, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোট পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রচারসূচি তৈরি হত। সেক্ষেত্রে তৃণমূল নেত্রী কিংবা রাজ্য সভাপতির বাড়ি থেকে আমাদের কাছে চিঠি পাঠানো হত। সেই চিঠিতেই থাকত কোন কোন এলাকায় আমাদের প্রচারে যেতে হবে। কিন্তু এবার এখনও তেমন কোনও নির্দেশ আসেনি। প্রসঙ্গত, সাত দফা ভোটের মধ্যে রাজ্যের দুই দফা ভোটের প্রচার শেষ হয়ে গিয়েছে। এমত পরিস্থিতিতে আগামী পাঁচ দফায় যে দলের বরিষ্ঠ নেতাদের প্রচারে পাঠানো হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই বলেই জানা যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ বছরের সময়কালে, তৃণমূল কংগ্রেসে নিয়ম ছিল নির্দিষ্ট কোনও জেলার ভোট শেষ হয়ে গেলে, পাশের জেলা কিংবা দূরবর্তী কোনও জেলায় দলের মন্ত্রী সাংসদ বিধায়করা প্রচারে যাবেন। ‌এবছর কেবলমাত্র ডোমজুড়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্তরবঙ্গের প্রচারে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। এই তালিকায় আর কারও নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার বিশেষ কাজে কোচবিহার জেলার শীতালকুচির তৃণমূল বিধায়ক হিতেন বর্মন কলকাতায় এসেছিলেন। উত্তরবঙ্গের ভোট তো শেষ হয়নি আপনি অন্য কোনও জেলায় প্রচারে যাননি? এমন প্রশ্নের উত্তরে হিতেন বলেন, “কোচবিহারের ভোট শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই নিজের কাজে কলকাতায় এসেছি। আমাদের সভাপতি রবি ঘোষ অন্য জেলায় প্রচারে গিয়েছেন।” বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাট নিউটাউনের বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত প্রচারে নামেননি বলেই খবর ছিল সংবাদমাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে সব্যসাচীর উত্তর, “প্রার্থী যাকে মনে করবেন তাকেই প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থী আমাকে বললে আমি নিশ্চয়ই প্রচারে নামতাম।” উল্লেখ্য, সব্যসাচী বারাসাত লোকসভার ভোটার। বারাসাতের সংসদ সদস্য তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে তাঁর বিবাদ সর্বজনবিদিত। তাছাড়া সব্যসাচী দত্তর বাড়িতে বিজেপি নেতা মুকুল রায় লুচি-আলুর দম খেতে আসার পর থেকে তাঁকে দলে অনেকটাই কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। কিন্তু বুধবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সব্যসাচী দত্তকে ফোন করে প্রচারে অংশ নিতে বলেছেন বলে জানা গিয়েছে।

এমন দু’ একজনকে ছাড়া দলের প্রথম সারির কোনও নেতা প্রচারে নামছেন না। নিজের এলাকায় প্রার্থীর সঙ্গে প্রচার করেই দায় সারছেন অনেকেই। তাই বিরোধীরা আবারও জরালো ভাবে অভিযোগ করছেন, তৃণমূল বর্তমানে পিসি-ভাইপো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ছাড়া আর কিছুই নয়।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *