Breaking News
Home / TRENDING / রাজ্য বিজেপিতে নেতা ছাড়া সব আছে, বলছে মোদিরই ঘনিষ্ঠ মহল

রাজ্য বিজেপিতে নেতা ছাড়া সব আছে, বলছে মোদিরই ঘনিষ্ঠ মহল

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় : 

মোদির ঘনিষ্ঠ বৃত্তেই জমা হয়েছে রাজ্য বিজেপিকে নিয়ে অসন্তোষ। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব নিয়ে তাঁরা যারপরনাই হতাশ। ঘনিষ্ঠ মহলে সেই হতাশা তাঁরা চেপেও রাখছেন না।
মোদি-ক্যাবিনেটের একাধিক সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কথা বললে তাঁদের এই মনোভাবের কথা উঠে আসছে।
এমনিতে লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে তাঁদের ফল ভাল হবে ধরে নিলেও ভবিষ্যতের সেই ‘ভাল ফলের’ কৃতিত্ব রাজ্য নেতাদের দিতে নারাজ সর্বভারতীয় বিজেপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। প্রশ্ন হল, রাজ্য নেতৃত্ব যদি এতটাই খারাপ হবে তাহলে উনিশে ভাল ফল আশা করছেন কি করে? উত্তর তৈরি। তাঁরা বলছেন, মমতার ওপর থেকে মানুষের আস্থা সরে যাচ্ছে। বিকল্প হিসেবে মানুষ বিজেপিকেই বেছে নিচ্ছে। মানুষ স্বাধীন ভাবে ভোট দিতে পারলে এখন বিজেপিকেই ভোট দেবে। আর উনিশের নির্বাচনে, নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা হবে তাতে মানুষ স্বাধীন ভাবেই ভোট দিতে পারবে। তাঁদের আরও বক্তব্য, শুধু সাধারণ মানুষ নয়, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও মোক্ষম সময়ে মমতাকে সবক শেখাবে।
তবে নির্বাচন কমিশনের কড়া অবস্থানের যে যুক্তি বিজেপি নেতারা দেখাচ্ছেন, তা মানতে রাজি নন এই শহরের নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, এই রাজ্যের নির্বাচনে পেশিশক্তির গুরুত্ব অসীম। নিরন্তর পেশি আস্ফালনের সামনে একদিন কি দুদিনের নির্বাচন কমিশনের অতি কড়া ভূমিকাও কোনও দাগ কাটতে পারবে না। সে যাই হোক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের কমিশন সংক্রান্ত বক্তব্য মেনে নিলেও দিল্লির মোদি ঘনিষ্ঠ মহল যে ভাবে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মানসিকতা বদল ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ‘মোক্ষম’ সময়ে অবস্থান বদলের যে তত্ত্ব শোনাচ্ছেন সেখানে আর যাই থাক রাজ্য নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার ছিটেফোঁটাও নেই। তবু মুকুল রায় রাজ্য বিজেপির কোনও পদাধিকারী না হলেও তৃণমূলের নেতা কর্মীদের অবস্থান বদলের যে কথা দিল্লি বলছে সেখানে মুকুলের সক্রিয় ও সরাসরি ভূমিকা থাকা আশ্চর্যজনক নয়। বরং স্বাভাবিক। পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়াতেই যে ভাবে বিজেপি ও বিক্ষুব্ধ তৃণমূল হাত ধরে নিচ্ছে তাতে এখনই রাজ্যের বহু জেলায় বেকায়দায় তৃণমূল। এই প্রবণতা উনিশে যে আরও বৃহৎ চেহারা নেবে না তা কে বলতে পারে!
রাজ্য নেতৃত্ব নিয়ে মোদি মহলে অসন্তুষ্টি সেটা একটা দিক। বিষয়টির আরও একটি দিক আছে। যাঁরা রাজ্য নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন তাঁরা একই সঙ্গে চিন্তিত রাজ্য বিজেপির সংস্কৃতি নিয়েও। তাঁরা চাইছেন, রাজ্যের শিক্ষিত, জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার মানুষ বিজেপিতে যোগ দিন। মুখে না বললেও, রাজ্যের এই অংশের মানুষের মধ্যে থেকে তাঁরা হয়ত নেতাও খুঁজতে চাইছেন। তবে সে গুড়ে এখনও পর্যন্ত বালি। তাঁদের অভিজ্ঞতায়, শেষ কয়েক বছরে সঙ্ঘ সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। অনেকে সঙ্ঘে যোগ দিতে কাজও করছেন। তাঁদেরই বিজেপিতে আসতে বললে আপত্তি। রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলে তাঁরা মানিয়ে নিতে পারবেন না বলেই তাঁদের ধারণা। শেষ কয়েক বছর ধরে বিজেপি অফিসে সারা মৌরসীপাট্টা গেড়ে বসে আছেন বা নির্দিষ্ট যে সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে বিজেপি অফিস, সেই সংস্কৃতি নতুনকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে শুচিবাইগ্রস্থ কিংবা নতুনরা পুরনোকে আপন করতে পারছে না। এমন আবহে নতুন করে আর কেউ এসে পড়তে চাইছেন না। এই প্রসঙ্গে অতি রসিক এক বিজেপি নেতার বক্তব্য, “পুরনোরা নিশ্চয়ই ভাল তবে সব সময় নয়। মানুষের আগে পৃথিবীতে বাঁদর এসেছে তাই বলে বাঁদর পৃথিবী শাসন করে না, মানুষই করে।”

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *