চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
প্রচারই সার। হাওড়া হাসপাতাল (Howrah Hospital) থেকে উঠে এল রাজ্যের করোনা কন্ট্রোলের নগ্ন ছবি। এর আগে শিলিগুড়ি হাসপাতালেও ধরা পড়েছে একই ছবি। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চিকিৎসকরা। তাদেরই মধ্যে একজন চিকিৎসক স্থানীয় একটি চ্যানেলেের ক্যামেরার সামনে নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা গোপন করেন নি। একই ছবি হাওড়া হাসপাতালে। আজ, মঙ্গলবার, পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (PPE) এর দাবিতে হাসপাতাল ঘেরাও করলেন নার্সরা। প্রায় ৭৫ জন নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী হাসপাতালে সুপার নারায়ন চট্টোপাধ্যায়কে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। তাদের অভিযোগ, জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে বেশকিছু রোগী হাওড়া হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি করা হচ্ছে। হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩০টি বেড থাকা সত্ত্বেও সেখানে তাদের স্থানান্তরিত করা হচ্ছে না। এতে তারা যথেষ্ট আতঙ্কিত। তাদের আরও অভিযোগ বাইরের রাজ্য থেকে এখানে রোগীকে সরাসরি ভর্তি করা হচ্ছে জেনারেল ওয়ার্ডে। তাদের অভিযোগ, পি পি ই ছাড়া গ্লাভস এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার তাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে যে কোনও মুহূর্তে তারাও আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। এ নিয়ে তারা আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান। এর পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, অবিলম্বে হাসপাতালের সুপার যদি এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা না নেন় তাহলে তারা কাজ বন্ধের পথেই হাঁটবেন। যদিও এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হন নি হাওড়া হাসপাতালের সুপার নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। অবস্থা ভিতরে ভিতরে কতটা ভয়াবহ তা এই দুটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের কথাতেই স্পষ্ট।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ এখনও পরিস্থিতির গাম্ভীর্য কতটা বুঝতে পেরেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁরা বাঁচবেন কিনা সেই প্রশ্নের চেয়েও অনেকের সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজার কি হবে? বাজার নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হলেও এই রকম আপৎকালে তা নিয়ে এতটা বাড়াবাড়ি করার যৌক্তিকতা কতটা, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। লকডাউন যে জনসাধারণের স্বার্থেই তা তাঁরা কতটা বুঝছেন আর বুঝছেন না, তাঁদের আচরণে তা বোঝা মুশকিল। লকডাউন সফল করে তাঁরা যে সরকারের প্রতি কোনও অনুকম্পা দেখাচ্ছেন না, বরং নিজ স্বার্থেই এটা তাদের করা উচিত এটা তারা বুঝছেন না। এমনই আলোচনা উঠে আসছে প্রশাসনিক মহল থেকে। উল্টো দিকে মিষ্টির দোকান খুলে এবং পয়লা বৈশাখ পালনের কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী জনগণের আতঙ্ক কমাতে হয়ত চেয়েছেন, কিন্তু এর ফলে হিতে বিপরীত হচ্ছে বলেই অনেকের ধারণা। যাঁরা এখনও সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না তাঁরা আরও প্রশ্রয় পাবেন বলেই অনেকের ধারণা।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) ইতিমধ্যেই নিজের ক্ষোভ গোপন না করে বলেছেন, এইভাবে চললে রাস্তায় লাশ পড়ে থাকবে তোলার লোক থাকবে না। মেটিয়াবুরুজ, খিদিরপুর ঘুরে এবং সেখানে অধিবাসীদের নিয়ম ভাঙার বহর দেখে এমনই মনে হয়েছে মেয়রের। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রাথমিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা করলেও গতকাল নাম না করে বুঝিয়ে দিয়েছেন কাজের চেয়ে কাজের নাটক হচ্ছে বেশি। এই মহামারীকেও রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার করতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতীকি ছবি তৈরি হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রের খবর প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শেই চলছে এই ধরনের ‘পাবলিলিটির’ কাজ। এত কিছু হলেও যেখানে আসল কাজের জায়গা সেখানে কি হচ্ছে? এই প্রশ্ন এখন বড় করে এসেছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news