ঈষাণিকা ভোরাই, দার্জিলিং :
তোমরা আমাকে শান্তি দাও, আমি তোমাদের উন্নয়ন দেবো। ” দার্জিলিং পাহাড়ে প্রথম শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকে অনেকটা নেতাজির ঢঙে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর মতে, “পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকলে শিল্প আসবেই”। প্রশ্ন উঠছে জিটিএ স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পাহাড় শান্তই ছিল কী উন্নয়ন হয়েছে! অন্ততঃ আজ যে উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে তিনি পাহাড়ে শিল্প সম্মেলন হচ্ছে, সেই শিল্পোন্নয়নের ছিটেফোঁটাও কী হয়েছিল! উল্টে বাংলাভাষা চাপিয়ে দেওয়ার রাজনৈতিক বল গুরুঙ্গদের পায়ে ঠেলে দিয়ে আবার অশান্তি ডেকে এনেছিল রাজ্য।

আসলে মেঘ-রোদ্দুরের পাহাড়ে রাজনৈতিক স্থিরতাও যে লুকোচুরি খেলে! এই আছে তো এই নেই। তাইতো মোর্চা নেতা বিনয় তামাঙ্গ, অনীত থাপাদের পাশাপাশি জিএনএলএফ নেতা মন্ ঘিসিং সহ পাহাড়ের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি এই বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। সম্মেলনে উপস্থিত শিল্পপতিরাও শুনিয়েছেন একই সতর্কবার্তা। শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়ার বক্তব্য, “যদি হিংসা বন্ধ করা যায় তাহলে আগামীদিনে অনেক শিল্প আসবে এখানে।” আগামী দু-বছরের মধ্যেই ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাসও দেন তিনি। কেভেন্টার্সের মালিক ময়াঙ্ক জালানের মতে, “যেখানে হিংসা বজায় থাকে সেখানে কেউ বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায় না।” অপর এক শিল্পপতি রুদ্র চ্যাটার্জির বক্তব্য, “দার্জিলিং-এর মানুষের কাছে আমার আবেদন, শিল্পপতিদের আহবান জানান। আর অবশ্যই পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখুন”। তবে নামে শিল্প সম্মেলন হলেও সেই অর্থে প্রথম সারির শিল্পপতিদের তিন চারজন ছাড়া আর কাউকে কিন্তু এদিন দেখা যায়নি। আর শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ বলে সাধারণ পাহাড়বাসীর প্রবেশাধিকারও ছিল না।

ফলে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে শিল্পপতিদের আহবান, সাধারণ পাহাড়বাসী কতটা কানে নিল আর কতটাইবা মনে নিল, সেটার উত্তর আপাতত লুকিয়ে থাকছে পাহাড়েরই কোনও খাঁজে!
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news