চ্যানেল হিন্দুস্থান ব্যুরো, ঢাকা :
বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বাংলাদেশে তিস্তার জল। উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তিস্তার (Tista) পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়ে জলবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। ২০ জুন শনিবার সকাল ৯টায় বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটর। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০সেঃমি) বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিপূর্বে শুক্রবার রাতে হঠাৎ বাড়তে থাকে তিস্তার পানি প্রবাহ। যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ৩ ঘণ্টা পরে কিছুটা কমে সকাল ৯টায় বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শুকিয়ে যাওয়া মৃত প্রায় তিস্তা আবারও ফুলে ফেঁপে উঠে ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ। হেঁটে পাড়ি দেওয়া তিস্তায় চলতে শুরু করেছে নৌকা। হাঁকডাক বেড়েছে মাঝি মাল্লাদের। কর্মব্যস্থতা দেখা দিয়েছে তিস্তাপাড়ের জেলে পরিবারে। অপরদিকে, পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তার তীরবর্তী জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তি নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার পরিবার জলবন্দী হয়ে পড়ে।
এ দিকে হঠাৎ তিস্তা নদীতে জল বৃদ্ধি দেখে তিস্তাপাড়ের মানুষ বড় বন্যার আশঙ্কা করলেও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দাবি এবার বড় ধরনের বন্যার কোন আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণে উজানের ঢেউয়ের ফলে জল প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। উজানে ভারতে জল প্রবাহ কমে যাচ্ছে। তাই ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার জল প্রবাহ কমে যাবে বলে দাবি করেছে জল উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখা। পলি ও বালু জমে তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্যতেই তিস্তার জল প্রবাহ লোকালয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। তবে আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
তবে হঠাৎ তিস্তায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদাম ও ভুট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। চরাঞ্চলের রহিম ও আমেনা বেগম জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বৃদ্ধি পায় তিস্তার পানি। শুক্রবার রাতে প্রচণ্ডগতিতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে তারা পনিবন্দি হয়ে পড়েন। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার জল প্রবাহ শুক্রবার রাতে থেকে বাড়তে থাকে।’
‘শনিবার(২০ জুন) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় কমে গিয়ে বিপদসীমার ১৮সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জল কপাট খুলে দেয়া হয়েছে’ বলেন তিনি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news