Breaking News
Home / TRENDING / বাল্মীকির মতোই শোক থেকে সাহিত্য এসেছিল তারাশঙ্করের প্রাণে

বাল্মীকির মতোই শোক থেকে সাহিত্য এসেছিল তারাশঙ্করের প্রাণে

 পার্থসারথি পাণ্ডা:

বাংলার জলহাওয়ার সঙ্গে কব্যির সম্পর্ক কেন জানি না বেশ ঘনিষ্ঠ। বাঙালি সাহিত্যিকদের অনেকেরই লেখালেখির শুরুটা হয়েছে কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে, তারাশঙ্করও তার ব্যতিক্রম নন। আসলে সাহিত্য সৃষ্টির সঙ্গে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ গড়ে উঠেছিল, অনেকটা মহাকবি বাল্মীকির মতোই। বাল্মীকির যেমন মিথুনরত কোঁচ পাখির একটিকে চোখের সামনে ব্যাধকে বধ করতে দেখে শোকে অধীর হয়ে শ্লোক সৃষ্টি করেছিলেন, তারাশঙ্করের কবিসত্তা প্রথমবারের মতো জেগে উঠেছিল তেমনই একটি ঘটনা থেকে। তাঁর জন্মদিনে বরং সেই ঘটনাটিই বলি।

তারাশঙ্করের বয়স তখন সাত পেরিয়ে আট। বাড়ির বাগানে খেলছেন দুই বন্ধুর সঙ্গে। দুই বন্ধু পাঁচু আর দ্বিজু। খেলার সময় হঠাৎ তাঁদের সামনে গাছ থেকে পড়ল একটা পাখির ছানা। ছানাটার ডানা গজানো তো দূরের কথা, চোখও ফোটেনি। তাকে দেখে সবারই কেমন যেন একটা মায়া হল। মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো, ‘আহারে!’ বেচারা পাখিটা মরে যাবে যে! কিন্তু তিন বন্ধু থাকতে তাকে কি আর মরতে দেওয়া যায়! অমনি শুরু হয়ে গেল শুশ্রূষা। ওই বয়সের আবেগের চোটে শুশ্রূষাটা হয়তো একটু বেশিই হয়ে গেল। বেচারা বাচ্চাটা সেই চোটে দুম করে মরে গেল। হায় হায়! খানিক দুঃখের পর ঠিক হল পাখির ছানাটাকে সমাধি দেওয়া হবে। কিন্তু তখনই পাখিটার মা এসে হাজির। ছানার শোকে মা যেন কাঁদতে কাঁদতে চক্কর খেতে লাগল চারপাশে। আবার বেরিয়ে এলো মুখ দিয়ে ‘আহারে!’ তাকে দেখে সবচেয়ে শোক পেল বোধহয় পাঁচু, তার শোক যেন শ্লোক হয়ে বেরিয়ে এলো, দু লাইনের কবিতার আকারে, ‘পাখি সব করে রব’এর ছন্দে—
‘তারাদাদার পাখীর ছানা মরিয়াছে আজি
তার মা এসে কাঁদিতেছে কেঁউ কেঁউ করি।’

দ্বিজুর এসব কাব্যিটাব্যি আসে না, সে নির্বিকার। কিন্তু তারাশঙ্করের শোকসন্তপ্ত মনে কাব্য এসে দোল দিলো, পাঁচুর কবিতা তাতে ইন্ধন জোগাল। তিনি একটা খড়ি নিয়ে লিখতে শুরু করলেন খিড়কির দরজায়—
‘পাখীর ছানা মরে গিয়েছে
মা ডেকে ফিরে গিয়েছে
মাটির তলায় দিলাম সমাধি
আমরাও সবাই মিলিয়া কাঁদি।’

খাতায়-কলমে নয়, এভাবেই ভাবি সাহিত্যিক তারাশঙ্করের সাহিত্য সাধনার সূত্রপাত হয়েছিল, দরজার গায়ে, খড়ির আঁকে। সেই কবিতা এমনি করেই তাঁর বাল্য হাতের লেখায় শিলালিপির মতো জ্বলজ্বল করে বেঁচে ছিল আরও আঠের বছর।

তখন তারাশঙ্করের পঁচিশ ছাব্বিশ বছর বয়স, কি মনে হল, একদিন সাদা রঙ এনে সেই দরজায় রঙ করে দিলেন নিজের হাতে। অমনি বাল্যের আখর স্মৃতি হয়ে গেল!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *