সূর্য সরকার।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে টালা ব্রিজ (Tallah Bridge)। মাস পয়লা, শনিবার থেকেই ভাঙা শুরু হবে এই সেতু। তারপর নতুন সেতু তৈরি, অর্থাৎ কমপক্ষে বছর দুয়েক। উত্তর শহরতলীর সঙ্গে যোগাযোগের মূল মাধ্যম বন্ধ হয়ে গেলে যে বিস্তীর্ণ এলাকায় যানজটের তৈরি হবে তা স্পষ্ট। ফলে এখন কার্যত রাতের ঘুম উড়েছে লালাবাজার ও প্রশাসনের কর্তাদের। নতুন সেতু গড়ার কাজ শুরু হবে মে মাস নাগাদ, তেমনটাই প্রশাসন সূত্রে খবর।
বৃহস্পতিবার, বিজ্ঞাপন দিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে তালা সেতু বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন কোন কোন পথে যান চলাচল হবে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ছাড়পত্র হাতে আসার পরেই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩১ জানুয়ারি রাত ১০টা থেকেই যান নিয়ন্ত্রণ শুরু করে দেওয়া হবে টালা ব্রিজে। রাত ১২টার পরে তা একদম বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরের দিন থেকেই শুরু হয়ে যাবে সেতু ভাঙার কাজ। তার জন্য ইতিমধ্যে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেতু ভাঙার কাজ শুরু হবে শ্যামবাজারের দিক থেকে। এপ্রিল মাসের মধ্যেই সেরে ফেলা হবে সেতু ভাঙার কাজ।
মে মাস থেকেই শুরু হয়ে যাবে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ। তার জন্য রাজ্যের তরফে ২৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সেতুর নীচে রেল লাইন থাকার জন্য সেখানে কোনও পিলার তৈরি করা হবে না। দ্বিতীয় হুগলী সেতু বা বিদ্যাসাগর সেতুর মতো তা কেবল তারে ঝোলানো সেতু হবে। দুইদিকে দুটি করে মোট চারটি স্তম্ভ থাকবে। সেতুটি হবে চার লেনের।
বর্তমান সেতু ভাঙা ও নতুন সেতু নির্মাণের সময়ে চার চাকার ছোট গাড়ি ও দুই চাকার ছোট যানের জন্য বি টি রোড ও শ্যামবাজারের মধ্যে সংযোগকারী চিৎপুর রেল ইয়ার্ডে যে লেভেল ক্রশিং করা হবে তার জন্য রাজ্য সরকার ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ১৮ মাসের সময়সীমা ধরা হয়েছে। এই নতুন পরিস্থিতিতে লকগেট ফ্লাইওভারে বেশ কিছু বাস চালানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে লালবাজার সূত্র বলছে, সেতু বন্ধ করার পর পরিস্থিতি কী হয়, তা দেখেই প্রয়োজনমতো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হতে পারে। কারণ, যানজটের আকার ও দুর্ভোগ কোন পর্যায়ে পৌঁছবে তা এখনই আন্দাজ করতে পারছেন না প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তারা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news