চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
“আমি আমিই হল সর্বনাশের মূল।” রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এহেন মন্তব্য শোরগোল শুরু হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। বুধবার নিউ দীঘায় মহিলা কল্যাণ প্রতিষ্ঠান ভগিনী নিবেদিতার ১৫৩তম জন্মতিথিতে তাঁর এক মূর্তি উন্মোচন করেন তিনি। সেখানেই বক্তৃতা করতে করতে শুভেন্দু বলেন, “কেন আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি ? তার কারণ কেউ একক শক্তিতে কোনও কাজ করতে পারে না। এটা স্বামী বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন। তিনি বলে গিয়েছেন, আমি আমিই হল সর্বনাশের মূল, যারা আমরা আমরা করে তারাই টিকে থাকে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘আমিত্বে’র কথা বলে কার্যত তিনি নাম না করে কাঠগড়ায় তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই (Mamata Banerjee)।

২৩ জুলাই তৃণমূলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছেন পরিবহন তথা সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলের সাংগঠনিক বৈঠক তো বটেই, রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক ক্যাবিনেট বৈঠকে অনুপস্থিত থেকেছেন তিনি। কারণ, ওই সাংগঠনিক রদবদলের শুভেন্দু অধিকারীকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলা হয়েছে। দলে নবাগত ছত্রধর মাহাতো ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁকে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদকের পদ। এরপর থেকেই তাঁকে নিয়ে নানা জল্পনার কথা শোনা গেলেও নিজে চুপ রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি নন্দীগ্রামে গিয়ে একটি সভায় তিনি বলেছিলেন, “অতীতকে যারা সম্মান করে না তাদের ভবিষ্যৎ কখনও ভালো হতে পারে না।” সেই সময় মনে করা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্বকে তাক করেই তিনি এ কথা বলেছেন। এদিনও মনে করা হচ্ছে তাঁর মন্তব্যের নিশানা ছিল কালীঘাটই।

কারণ ২৩ জুলাই থেকে যেমন তিনি দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। তেমনই তারপর থেকে তাঁর মুখে আর শোনা যায়নি তৃণমূল কংগ্রেস কিংবা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। বরং এই সময়ে অনেক বেশি সমাজকল্যাণ ও সামাজিক কাজের মধ্যে দিয়ে বারবার প্রকাশ্যে এসেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। সঙ্গে দ্ব্যর্থ ভাষায় শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন বলেই মনে পড়েছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, তৃণমূল একজনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। সেখানে আর কারো নেতৃত্ব বা কৃতিত্বের কোনও সুযোগ নেই। যে নন্দীগ্রাম আন্দোলন করে তৃণমূল নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তাতে যথেষ্ট যোগদান ছিল শিশির অধিকারী ও তাঁর পুত্র শুভেন্দুর। এদিন শুভেন্দু ঘুরপথে সেকথাই বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, এমনটাই মত পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলের।

প্রসঙ্গত, যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তুলে নিয়ে আসছেন তাতে বিস্তর আপত্তি রয়েছে শুভেন্দু অধিকারী। এমনটাই আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। আর সাংগঠনিক দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও, সাংগঠনিক রদবদলের শুভেন্দু অধিকারী সহ অন্যান্য নেতাদের পর্যবেক্ষক পদ তুলে দিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে পিসি-ভাইপো। এমতাবস্থায় শুভেন্দু অধিকারী কোনও বিকল্প রাজনৈতিক পথের কথা ভাবতেই পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news