চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
তৃণমূলের নতুন কমিটি গঠনের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই দলের অন্দরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে। সবচেয়ে বড় কাঁচি চালানো হয়েছে পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সাংগঠনিক বিভাগগুলির ওপরে। এতদিন বিভিন্ন জেলা সংগঠনে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব ছিল শুভেন্দু অধিকারীর কাঁধে। লোকসভা ভোটে জেলা পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অন্যতম সফল ছিলেন তিনি। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরের পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনি। তা ছাড়া তাঁর নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের দায়িত্বে ছিল তাঁর হাতে। তাঁর নেতৃত্বেই অধীর চৌধুরীর মুর্শিদাবাদ দুর্গ থেকে জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসন দুটি ছিনিয়ে এনেছিল তৃণমূল (TMC)। সূত্রের খবর, শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষমতা খর্ব করতে পর্যবেক্ষকের পদটিই তুলে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে। কাঁথির অধিকারী পরিবার আশা করেছিল, এবারের রদবদলের সুব্রত বক্সীকে (Subrata Bakshi) সরিয়ে রাজ্য সভাপতি করা হবে শুভেন্দু অধিকারীকে। কিন্তু আট জনের সঙ্গে তাঁকে দেওয়া হয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদ।
অধিকারী পরিবারের মতই শুভেন্দুর অন্য অনুগামীরাও ‘চাতক পাখি’র মতো কালীঘাটের বৈঠকের দিকে নজর রেখেছিলেন। তাদেরও আশা ছিল, সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য রাজ্য সভাপতি পদ দেওয়া হবে নন্দীগ্রামের বিধায়ককে। কিন্তু, তেমনটা না হওয়ায় আশাহত তারা। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একতরফা সিদ্ধান্তে তারা বেজায় ক্ষুব্ধ। বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এই রদবদল করা হয়েছে। ঠিক করে দেওয়া কমিটিকেই মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এমন নির্দেশ যে, দলের বিশেষ কয়েকজন নেতার প্রতি তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারও। তাই স্বাভাবিকভাবেই শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা এখন মুন্ডপাত করছেন দলের শীর্ষ নেতা-নেত্রীদের। কমিটি গঠনের মাধ্যমে যেমন শুভেন্দু অধিকারীকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তেমনই এক ঝটকায় ছেঁটে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন জেলা সংগঠনের পর্যবেক্ষকের পদ থেকে। এই অবস্থায় অধিকারী বাড়িতেও চাপা ক্ষোভ বলে খবর মিলেছে।
শুভেন্দুর মতোই সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিমরা যেভাবে বিভিন্ন জেলার পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরাও আর রইলেন না। পরিবর্তে একটি রাজ্য স্তরের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করে দেওয়া হল। যে কমিটিতে রইলেন সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গৌতম দেব। এই কমিটিতে অরূপ বিশ্বাসের নাম নেই। উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন অরূপ। কোপ পড়েছে তাঁর ওপরেও।
নতুন কমিটিতে রাজ্য সভাপতি ও মহাসচিব পদে বদল হয়নি। সুব্রত বক্সী এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায় বহালতবিয়তেই রয়েছেন। কিন্তু সহ সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে একাধিক নেতাকে। সহ-সভাপতি করা হয়েছে ১৭ জনকে। নতুন মুখ হলেন, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, শঙ্কর সিংহ, তাপস রায় প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ৮ জনকে। ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী, অরূপ বিশ্বাসদের সঙ্গে সেই তালিকায় ঠাঁই হয়েছে বাঁকুড়ার আদিবাসী নেত্রী তথা রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডির। সেই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ হিসাবে আনা হয়েছে বিবেক গুপ্তা ও ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্তকে। এ ছাড়া সচিব করা হয়েছে ১১ জনকে। রাজ্য কোর কমিটিতে রাখা হয়েছে ৫৮ জনকে। রাজ্য সমন্বয় কমিটিতে রয়েছেন ২১ জন। সবক্ষেত্রেই প্রাধান্য রয়েছে কালীঘাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news