ওয়েব ডেস্ক:
‘নবান্নের ইচ্ছায় পশ্চিমবঙ্গে জুন মাসেই বরফ পড়বে’—গতকাল থেকেই ফেসবুক, টুইটারের মতো সোশ্যাল সাইটে এমন ধারা ‘ফাজলামো’ শুরু হয়ে গেছিল। কারণ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ছাত্রছাত্রীদের গরমের ছুটি কমতে চলেছে। এবং তাই হল। বৃহস্পতিবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সরকারি ঘোষণা, ১০ জুন খুলে খুলছে সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত স্কুল।
প্রসঙ্গত, এর আগে তীব্র গরমের দাপট, ঘূর্ণিঝড় ফণি ইত্যাদি একাধিক কারণ দেখিয়ে ৩ মে থেকে দীর্ঘ দু-মাস গরমের ছুটি ঘোষণা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তখনই ছুটি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। বিশেষত শিক্ষক মহল বিষয়টিতে রীতিমতো বিরক্ত হয়। এ তো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ছুটি নয়। সেখানে যেমন রেওয়াজ, ডিএ দেওয়া নেওয়া গেলেও ছুটি মেলে নবান্নের তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতায়। কিন্তু এবারের টানা ২ মাস স্কুলে ছুটি দিতেই বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। অপরপক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও পড়েছিলেন বিপাকে। অনেকেরই দাবি ছিল, দীর্ঘ ছুটির কারণে পড়াশোনার ক্ষতি হবে পড়ুয়াদের। সময় মতো শেষ হবে না সিলেবাসও। সবমিলিয়ে ছুটি নিয়ে তৈরি হয়ছিল একাধিক জটিলতা। চলছিল ব্যঙ্গবিদ্রুপও।

এদিকে মাঝে ভোট মিটেছে। রাজ্যে দেখা দিয়েছে গেরুয়া হাওয়া। শাসক দল যে আগের মতো সক্ষমতায় নেই, তা বলা বাহুল্য। তো এমত অবস্থায় গত মঙ্গলবার বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও পর্ষদ সভাপতি। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত স্কুলেই গরমের ছুটি কমবে। জুনের মাঝামাঝি সময়ই খুলে যাবে সমস্ত বিদ্যালয়। তবে সেটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ছুটি কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রীই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এরপরই এদিন ১০ জুন স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news